নগরীর ডিএমটি সেইফওয়ে হাসপাতালে দুই প্রসূতির মৃত্যু

স্বজনদের দাবি ‘ভুল চিকিৎসা’য় মৃত্যু ॥ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য মিলছে না

প্রসূতি মায়ের প্রয়াণে স্বজনদের বুক ফাটা আর্তনাদ-ছবি এইচ এম শহিদুল ইসলাম

সিলেটের সকাল রিপোর্ট ॥ সিলেট নগরীর মির্জাজাঙ্গালস্থ ডিএমটি সেইফওয়ে হাসপাতালে ৩০ মিনিটের ব্যবধানে দুই প্রসূতির মৃত্যু নিয়ে শুক্রবার সকালে হাসপাতালে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। রোগীর স্বজনদের দাবি, ভুল চিকিৎসার কারণে এ দুই প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। এ ব্যাপারে সরেজমিনে গিয়ে এমনকি ফোনে যোগাযোগ করেও কর্তৃপক্ষের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিহতরা হলেন-সিলেট সদর উপজেলার খাদিমপাড়া ইউনিয়নের কল্লগ্রামের শাখাওয়াত হোসেনের স্ত্রী আসমা বেগম (২৪) ও জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট ইউনিয়নের চুনাহাটি গ্রামের রুবেল আহমদের স্ত্রী ফয়জুন্নাহার চৈতি (২২)। শুক্রবার সকাল ৭টা এবং সাড়ে ৭টায় এ দুটি ঘটনা ঘটে।
সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে দুটি রোগীরই সিজার করেন ডা: মিনতি সাহা। সিজারের পর রোগীদের অবস্থা ছিল ভালো। সকালের দিকে রোগীদের অবস্থা খারাপ হতে থাকে।
নিহত ফয়জুন নাহারের স্বামী রুবেল আহমদ জানান, অস্ত্রোপচারের পর তার স্ত্রীর গর্ভজাত একটি পুত্র সন্তান হয়। সকাল ৭টার দিকে তার স্ত্রীর অবস্থা খারাপ হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. আশরাফ এসে ইনজেকশন পুশ করার পর রোগীর অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। তখন কর্তব্যরত চিকিৎসক আইসিইউ সাপোর্টে নেওয়ার কথা বলেন। এরপর নগরীর রাগিব রাবেয়া হাসপাতালে নেওয়া হলে ওই হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলেন, রোগী অনেক আগেই মারা গেছেন।

সেইফওয়ে হাসপাতালে স্বজনদের ভিড়-ছবি সিলেটের সকাল

নিহত আসমা বেগমের ভাই কাইয়ুম আল রনি বলেন, সিজারের পর বোনের গর্ভে একটি কন্যা সন্তান লাভ করে। শুক্রবার সকালে রোগীর অবস্থা স্বাভাবিক থাকলেও একটি ইনজেকশন দেওয়ার পর তার বোন মারা যায়। ভুল চিকিৎসায় তার বোন মারা গেছেন বলে দাবি করেন কাইয়ুম।
খবর পেয়ে সকালে বেসরকারি সেইফওয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন ডা: মিনতি সিনহা। সেখানে অপেক্ষমান সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এ ঘটনায় তিনি মর্মাহত। রাতে অপারেশনের পর দুই রোগীকে ভালো অবস্থায় তিনি রেখে যান। তিনি বলেন, তার অস্ত্রোপচারে কোন সমস্যা ছিল না। তবে, ময়না তদন্তে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে বলে জানান এ চিকিৎসক।
এদিকে, সরেজমিনে গিয়েও এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন