জগন্নাথপুরে ধান কাটার উৎসব

সিলেট সদর উপজেলা চামাউরাকান্দি গ্রামের পুকুরিয়া হাওরে ধান কাটা শুরু-ছবি এইচ এম শহিদুল ইসলাম

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা ঃ সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে গত বছর হাওরের ফসলডুবির দু:খ কষ্টের চোখের জলে বরণ করেছিলেন পয়লা বৈশাখ। এবার সেই হাওরে পাকা ধানের মৌ মৌ গন্ধে উদ্ভাসিত কৃষকদের আনন্দ আর হাসি-খুশিতে হাওরের পর হাওর ভাসছে ধান কাটার উৎসব। গত শনিবার নববর্ষের প্রথম দিন বোরো ধান কাটার উৎসব কর্মসূচী পালন করা হয়।
স্থানীয় উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের উদ্যোগে দলুয়ার হাওরে পৌরশহরের হবিবপুর এলাকা অংশে কৃষক হাজী আলী আকবরের বোরো ধানক্ষেত্রের পাকা ফসল কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসব কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আতাউর রহমান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বিজন কুমার দেব, উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা তপন চন্দ, হাওর বাচাঁও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের জগন্নাথপুর উপজেলা শাখার আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব সাংবাদিক অমিত দেব, সদস্য সাংবাদিক আলী আহমদ, গোবিন্দ দেব, কৃষক হাজী আলী আকবর প্রমুখ।
গতকাল রোববার জগন্নাথপুরের সর্ববৃহৎ নলুয়া ও মইয়ার হাওর ঘুরে দেখা যায়, হাওরজুড়ে সোনালী ধানের শীষ বাতাসের তালে দুলছে। গত দুই বছরের ফসলহারা কৃষকরা এখন পাকা ধানক্ষেতে ফসল কাটার কাজে ব্যস্ত।
নলুয়া হাওরের ভুরাখালি গ্রামের কৃষক মাসুম মিয়া জানান, গত বছর হাওরের বাঁধ ভেঙে ফসল পাকার পূবেই পানিতে তলিয়া যায়। এর আগের বছর ব্যাপক শিলাবৃষ্টির তান্ডবে বিনষ্ট হয়ে যায় ফসল। টানা দুই বছর পর এবার পাকা ধান কাটতে পেরে খুবই খুশি লাগছে। ১২ কেদার জমিতে এ বছর ব্রি-২৮ জাতের ধান আবাদ করেছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।
একই হাওরের আরেক কৃষক দাসনাগাঁও গ্রামের আরাধন দাস জানান, এবার মাঠে পাকা ধান দেখে গত দুই বছরের ফসলহানির কষ্ট ভুলে গেছেন। আজ (গতকাল) ৪ জন শ্রমিক নিয়ে ৬ কেদার জমিতে ধান কাটা শুরু করেছি। ধান কাটার শ্রমিক সংকট রয়েছে বলে তিনি জানান।
নলুয়া হাওরের কৃষক নেতা সাইদুর রহমান জানান, এবার হাওর থেকে পানি দেরিতে নামায় আমরা আবাদ করেছি বিলম্বে। ফলে ধান পাকতে দেরি হয়। এখনও পুরোপুরি ধান কাটার ধুম পড়েনি নলুয়া হাওরে। শ্রমিকও সংকট রয়েছে। তিন চার দিনের মধ্যেই ধানকাটার ধুম পড়বে।
উপজেলার দ্বিতীয় বৃহৎ মইয়ার হাওরে সরেজমিনে দেখা গেছে, হাওরের বোরো ফসল কাটার ধুম পড়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে দশ বারো দিনের মধ্যেই মইয়ার হাওরের ধান কাটা শেষ হয়ে যাবে।
হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের জগন্নাথপুর উপজেলা কমিটির আহবায়ক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম জানান, হাওরে এবার পাকা ফসল দেখে কৃষকরা খুশি। তাদের আনন্দে আমরা আনন্দিত। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে ২০/২৫ দিনের মধ্যেই কৃষকরা ফসল গোলায় তুলতে পারবেন।
তিনি আরো বলেন, অন্যবছরের তুলনায় এবার হাওরে তীব্র শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। কৃষকরা অগ্রিম টাকা দিয়েও শ্রমিক পাচ্ছে না। এখনও ২/৩টি বেড়িবাঁধের শতভাগ কাজ শেষ হয়নি বলেও তিনি জানিয়েছেন।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সুত্র জানায়, চলতি বেরো মৌসুমে ২১ হাজার ৫শ হেক্টর ফসল উপজেলার সর্ববৃহৎ নলুয়া হাওরসহ সব’কটি হাওরে চাষাবাদ করা হয়েছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন হাওরে ধান কাটা শুরু হয়েছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান মজুমদার জানান, এবার বোরো ফসলের বাস্পার ফলন হয়েছে। আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে ধান কাটা উৎসব কর্মসুচী পালন করেছি। তিনি বলেন, ফসল হারানো কৃষকরা এবার আনন্দ উৎসবে ধান কাটছেন। আমরা কৃষকদের তাগিদ দিচ্ছি দ্রুত পাকা ধান গোলায় তুলতে।

শেয়ার করুন