গায়ে হলুদ হলো বিপাশার, আজ যাবে স্বামীর ঘরে

 

সিলেটের সকাল রিপোর্ট :: গতকাল রাতে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে বিপাশার মুখখানা ছিল হাসিমাখা। কেনইবা থাকবে না, আজ যে তার বিয়ে। বাবা-মা পাশে নেই তো কি হয়েছে? আছে আত্মার সম্পর্কের এক বিশাল পরিবার।

আজ শুক্রবার বিপাশা যাবে স্বামীর ঘরে । তার হবু স্বামীর নাম আবদুল লতিফ । বয়স ২৭। সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার রাজনগরের হালেয়া গ্রামের মৃত আব্দুল আহাদের পুত্র তিনি। পেশায় রংমিস্ত্রি। চার ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট লতিফ। বড় ভাই বিয়ে করে আলাদা থাকেন। বড় দুই বোনের মধ্যে একজনের বিয়ে হয়েছে। অন্যজন উমান প্রবাসী। পরিবারের সদস্য শুধু এখন মা আর লতিফ।

বিপাশা আক্তার ১০-১১ বছর বয়সে যার ঠাঁই হয়েছিল সিলেট জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত নগরীর রায়নগর শিশু পরিবারে। সে সময় নাম বিপাশা আর বাবার নাম জামাল, এতটুকুই কেবল বলতে পেরেছিলেন তিনি। গত সাত বছরেও মেলেনি তার বাবা-মা কিংবা পরিবারের খোঁজ। সময়ের প্রবাহে শিশু পরিবারের বাসিন্দা হয়ে যান তিনি। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় এখানকার রীতি অনুযায়ী এখন বিয়ে ঠিক হয়েছে তার।

সিলেটের রায়নগর এলাকায় শিশু পরিবার (বালিকা) প্রতিষ্ঠার পর প্রথম বিয়ের আয়োজন হয়েছিল ১৯৯৮ সালে। প্রায় ২০ বছর পর আবার বিয়ের আয়োজনে ব্যস্ত হলো শিশু পরিবার। পুরো শিশু পরিবার যেন উৎসবে সেজেছে। বিয়ের নিমন্ত্রণপত্রও ছাপা হয়েছে। সেগুলো শিশু পরিবারের কিছু শুভানুধ্যায়ীদের দেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া অতিথির তালিকায় আছেন মহানগর পুলিশ কমিশনার, সিলেটের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তারা। জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ পরিচালক নিবাস রঞ্জন দাশ বলেন, ‘বিপাশার ভবিষ্যতের জন্য বিয়ের আয়োজনে পাওয়া উপহার থেকে সঞ্চয় করে রাখার পরিকল্পনা আছে। এ জন্য আমরা সমাজের বিত্তবানদেরও সহায়তা চাই।’

লতিফের মা মোসাম্মাৎ রাবেয়া বেগম বলেন, ‘সংসারে আমি এখন একা। ছেলেটা কাজের জন্য প্রায়ই বাড়ির বাইরে থাকে। এখন ছেলের বউ পেয়ে আমি খুশি। ছেলের বউ নয়, মেয়ের মতোই ভালোবাসবো তাকে।’

রায়নগর শিশু পরিবারের তথ্য থেকে জানা যায়, দিরাই উপজেলার একটি গ্রাম থেকে নাম-পরিচয়হীন কিশোরীটিকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে আদালতের মাধ্যমে ২০১১ সালের ১১ অক্টোবর নগরীর বাগবাড়ি শিশু পরিবারে (সেফ হোম, বালক-বালিকা) হস্তান্তর করা হয় তাকে। তখন তার বয়স ১০ বছর ছিল বলে ধারণা করা হয়। পরে ২০১৪ সালের ২১ আগস্ট থেকে তার ঠিকানা হয় রায়নগরের সরকারি শিশু পরিবারে (বালিকা)। ২০১৪ সালে সরকারি নথিতে বিচারিক হাকিম বিপাশার বয়স ১৫ হিসেবে উল্লেখ করেন। ওই হিসেবেই জন্মনিবন্ধন হয় বিপাশার। দেওয়া হয় অক্ষরজ্ঞান ও ধর্মীয় শিক্ষা। ইউনিসেফের ছয় মাসব্যাপী কোর্স করে সেলাইয়ের কাজ শিখেছেন তিনি।

শিশু পরিবারের রীতি অনুযায়ী, কোনো কিশোরীর বয়স ১৮ পার হলে শিশু পরিবারের মাধ্যমে বিয়ে দেওয়া হয়। বিপাশার বয়স ১৮ হওয়ার পর বিভিন্ন মাধ্যমে পাত্র খুঁজতে থাকেন এর পরিচালনায় থাকা সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। পরে সিলেট বাগবাড়ি শিশু পরিবারের এক কর্মচারীর মাধ্যমে আবদুল লতিফ আগ্রহ প্রকাশ করেন। বিপাশার মায়া ভরা মুখখানা দেখে পছন্দ হয় লতিফের।

শেয়ার করুন