গাড়ির চালক-মালিককে বলতে চাই আল্লাহর ওয়াস্তে ‘মানবিক হোন’

এ বি এম খায়রুল হক

মহাকবি হোমারের দুই বিখ্যাত মহাকাব্য ‘দ্য ইলিয়ড’ ও ‘দ্য ওডিসি’ সম্পর্কে অনেকেই জানেন। ইলিয়ড ‘ট্রয় যুদ্ধ’ নিয়ে লেখা। ট্রয় যুদ্ধ শেষে যোদ্ধারা সব গ্রিসে ফেরত যাচ্ছে। গ্রিসের সবচেয়ে নামকরা যোদ্ধা ছিলেন ইউলিসিস। বাড়ি ফিরতে তাঁর ১০ বছর সময় লেগেছিল। বিভিন্ন সমস্যা ও বাধা কাটিয়ে জাহাজে করে বাড়ি ফিরতে এই ১০ বছর লেগেছিল। ওই সমস্যাগুলো ‘ওর্ডিল’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে মহাকাব্যে। আমি একটি ওর্ডিলের কাহিনি বলতে চাচ্ছি। যে সমুদ্র দিয়ে ইউলিসিস তাঁর সঙ্গীয় যোদ্ধাদের নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন, একটি এলাকায় মায়াবিনী জলপরিরা বসবাস করে। যখন কেউ ওই পথ অতিক্রম করতে থাকে তখনই তারা মনোমুগ্ধকর গানবাজনা করে আহ্বান করে থাকে। পাগল করা সেই গান শুনলে মানুষের হিতাহিত জ্ঞান থাকে না। মুগ্ধ হয়ে পাগলের মতো তাদের জলপরিদের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে সলিলসমাধি হয়। ইউলিসিস এ বিষয়টা আগে থেকেই জানতেন। ইউলিসিসও ওই পথে যাওয়ার আগেই সঙ্গীদের সবাইকে নিজেদের হাত-পা শক্ত করে জাহাজের সঙ্গে বাঁধতে বলেন। আত্মরক্ষার জন্য ইউলিসিস নিজের হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে রাখেন মাস্তুলের সঙ্গে। ওই মায়াবিনী জলপরিদের এলাকায় পৌঁছার পর গান শুনে আত্মহারা হয়ে ছটফট করতে থাকেন সবাই। ইউলিসিস নিজেও। কিন্তু সঙ্গীরা কেউ ইউলিসিসের বাঁধন খুলে জলপরিদের দিকে ঝাঁপ দিতে পারছিলেন না। কারণ সেই রকম নির্দেশ ইউলিসিস আগে থেকেই সঙ্গীদের দিয়েছিলেন। এভাবে তারা ওই বিপত্সংকুল জায়গাটা অতিক্রম করার পর নিজ দেশে ফিরতে সক্ষম হয়।

এই কাহিনির মর্মার্থ হলো, যেকোনো দেশে সংবিধান ও আইনগুলো হলো, এই রকম রশি, দড়ি বা এই রজ্জু। যা দিয়ে মানুষ নিজেদের বেঁধে রাখতে পারেন। যাতে করে লোভ-লালসা, কামনা-বাসনার আগুন থেকে নিজেকে আত্মাহুতি বা ঝাঁপ দেওয়া থেকে বাঁচাতে পারেন।’ এই যে রজ্জুগুলোর কথা বলছি, দেশের সংবিধান হলো প্রধান রজ্জু। আইনগুলো হলো বিভিন্ন রজ্জু। যার দ্বারা দেশের সাধারণ নাগরিকই বলেন, রাষ্ট্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীই বলেন, সবাইকে নিজেদের সেই সংবিধান-আইনের রজ্জু দিয়ে বেঁধে রাখতে হয়। যাতে কেউ জলপরিসদৃশ কামনা-বাসনার মধ্যে ঝাঁপ দিতে না পারে।

প্রতিদিন খবরের কাগজ খুললেই বেশ কয়েকটি করে সড়ক দুর্ঘটনার খবর দেখা যায়। এর প্রধানতম কারণ হলো, ওই সংবিধান ও ওই আইনের রজ্জুগুলো ‘আমরা পুরো খুলে না ফেললেও প্রায়শই ঢিলা করে ফেলছি।’ আমরা আইন মানছি না। সংবিধান মানছি না। নাগরিক, অন্য মানুষ, এমনকি সাধারণ প্রাণীরও জীবনের কোনো তোয়াক্কা করছি না। তার ফলে এই সড়ক দুর্ঘটনাগুলোর এত বাড়াবাড়ি।

এই দুর্ঘটনাগুলো যাঁরা ঘটাচ্ছেন, তাঁরা আইন মানছেন না। যাঁদের ওপর এই আইনগুলো প্রয়োগের দায়িত্ব দেওয়া আছে (সবাই যেন আইন মেনে চলতে বাধ্য হন) তাঁরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন না। বিভিন্ন সেক্টরে বিভিন্ন রকম দায়িত্ব রয়েছে। যেমন—আদালতের এক রকম, পুলিশের আরেক রকম। এই আইন বাধ্যকরণে যাঁদের দায়িত্ব, তাঁরা দায়িত্ব পালন করছেন না। এই আইন বাধ্যকরণে সংশ্লিষ্টদের প্রতিই এই দায়িত্বগুলো। যদি রাস্তার কথা বলেন তাহলে ‘পুলিশ’। যদি আইন ভঙ্গকারীদের বিচারের সম্মুখীন করা হয়, তবে দায়িত্ব বর্তাবে সংশ্লিষ্ট বিচারকের ওপর। যিনি আইনের প্রকৃত স্পিরিট অনুসারে ও অপরাধের গুরুত্ব অনুসারে ন্যায়বিচার করবেন। এখানে শুধু আসামি বিচারপ্রার্থী নয়, রাষ্ট্র তথা জনগণ ও ভিকটিমরাও বিচারপ্রার্থী। এখন রজ্জুগুলো যেভাবে ঢিলা হয়ে গেছে, তা শক্ত করে বাঁধার দায়িত্ব সরকারের। আবার অন্যভাবে বলতে গেলে সবারই দায়িত্ব এটি। আমি যদি নিজেকে সংযত রাখতে চাই, আইনের রজ্জু দিয়ে আমাকে বেঁধে রাখতে হবে। সেটি আমার দায়িত্ব। সেটি আপনি আমাকে বলে দেবেন না। এ রকম প্রতিটি নাগরিকের নিজস্ব দায়িত্ব রয়েছে। রাস্তা পার হতে হবে কী করে, সেটিও নাগরিকের দায়িত্ব। রাস্তায় যে ফুটওভার ব্রিজগুলো রয়েছে, সেটি ব্যবহারের দায়িত্ব নাগরিকের। উন্নত দেশে জেব্রা ক্রসিং থাকে। সব ধরনের গাড়ি সেখানে থামতে বাধ্য। ঢাকা শহরে জেব্রা ক্রসিংয়ের সংখ্যা বাড়াতে হবে এবং সেখানে সব ধরনের গাড়ি থামাতে বাধ্য করতে হবে। তাতে রাস্তার মধ্য দিয়ে পারাপারের প্রবণতা কমবে। সেই দায়িত্ব যদি তিনি পালন না করেন, তাঁকে পালন করতে বাধ্য করার দায়িত্ব পুলিশের। পুলিশও সেই দায়িত্ব পালন করছে না। এ কারণেই দুর্ঘটনার সংখ্যা এতটা বাড়ছে।

অ্যাকসিডেন্ট মানে হলো ‘দুর্ঘটনা’। এটা যেকোনো কারণেই ঘটতে পারে। যদি আইন ভঙ্গ করার কারণে দুর্ঘটনা হয়ে থাকে, তাহলে আইনে শাস্তির পরিমাণটা বেশি হওয়া উচিত। ২০০৯ সালে হাইকোর্টের বিচারক থাকা অবস্থায় একটি রায় দিয়েছিলাম প্রতিটি গাড়িতে ‘গভর্নর সিল’ লাগানোর জন্য। প্রায় ৯ বছর হয়ে গেছে। ওই রায়কে কেউ পাত্তা দেয়নি। অথচ এটি একটি হাইকোর্টের রায়। প্রতিটি গাড়িতে ‘গভর্নর সিল’ লাগানো সম্ভব। ৫০ বছর আগে পাকিস্তান আমলেও প্রতিটি গাড়িতে লাগানো হতো। অথচ আজকে কোনো গাড়িতে আপনি তা পাবেন না। এমনকি হাইকোর্টের রায় দেওয়ার পরেও নেই। ফলে যার যে রকম খুশি চলছে, জোরে দৌড়ে সামনে চলছে। ফলে মহাসড়কগুলোয় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। শহরের মধ্যেও দুর্ঘটনা বাড়ছে।

যাঁরা গাড়ি চালাবেন, তাঁরা শুধু নিজের জীবনের দায়িত্ব নেননি। যাত্রীর, পথচারীর ও রাস্তায় তাঁর পাশে আরো যে গাড়ি আছে তাদের প্রতিও চালকের দায়িত্ব রয়েছে। এতগুলো দায়দায়িত্ব একজনের, চালকের ওপর। সেই ড্রাইভারকে লাইসেন্স দেওয়ার আগে তিনি মানসিকভাবে সেই দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত কি না সেটা দেখার জন্য আইনগতভাবে একটি কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব দেওয়া আছে। যেটাকে আমরা বলি ‘বিআরটিএ’। তারা সেই দায়িত্ব কি পালন করছে? যদি করে থাকত, তাহলে দেশে এত পরিমাণ লোক ড্রাইভিং লাইসেন্স পেত না। পেলেও এত বেশি দুর্ঘটনা ঘটত না। বিদেশে বিসিএস পরীক্ষায় পাস করার চেয়েও কঠিন হলো ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষায় পাস করা। অথচ আমাদের দেশে ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়াই গাড়ি চালাতে পারবেন। কোনো সমস্যা নেই। কেউ দেখবে না আপনার দিকে। খবরের কাগজের সংবাদ অনুযায়ী ১০-১২ লাখ গাড়ি চলছে, যার তথাকথিত ‘ড্রাইভারের’ কোনো লাইসেন্স নেই।

প্রায়ই দেখি গাড়ির সহযোগী হলো একজন শিশু। ১০ বছরেরও কম বয়সী শিশুকে দেখা যায় গাড়ির দরজায় দাঁড়িয়ে ‘হেল্পার’ হিসেবে। এই ১০-১২ বছরের ছেলের ওপর আপনি কি দায়িত্ব দিতে পারেন? মিনিবাস ও লেগুনার দিকে তাকান, সেগুলোর চালকের বেশির ভাগের বয়স ১৮ বছরের নিচে। তাদের আপনি কিভাবে গাড়ি চালাতে দেবেন? এটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব। রাষ্ট্র যদি সেই দায়িত্ব পালন না করে, আমরা কী করতে পারি। চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আমাদের আর কী করার আছে।

বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে চালক একজনের প্রাণ নিল। এই অপরাধে একজন চালকের কত দিনের শাস্তি হয়। দণ্ডবিধিতে মাত্র তিন বছরের শাস্তির বিধান আছে। পরে হাইকোর্টের রায়ে সেটি সাত বছর হয়েছে। কিন্তু এই আইনের প্রয়োগ প্রায়ই নেই। ঢাকার আদালতে বা দেশের অন্য আদালতে যান, এ রকম কয়টি শাস্তি হয়েছে? ঢাকার আদালতে লক্ষাধিক মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে কয়েক বছরে। সেই মামলাগুলো দেখেন, অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, এসব মামলা নিষ্পত্তি হচ্ছে অনেক ক্ষেত্রে নামকাওয়াস্তে সাজা দিয়ে। অনেক হাকিম একটি সিল বানিয়ে নিয়েছেন। একটি টিক চিহ্ন দিয়ে দেন। আদেশে যে স্বাক্ষর দেন হাকিম, সেটি বোঝারও কোনো উপায় নেই। স্বাক্ষর যে করেন তাও বোঝার উপায় নেই। একটা খোঁচা মারা আছে। খোঁচাটা কি হাকিম মারছেন, নাকি পেশকার, নাকি বাইরের কেউ, বোঝার কোনো উপায় নেই। এভাবে খোঁচা মেরে পরিবহনসংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তি করে দিচ্ছেন। অথচ  রায়ের শেষের স্বাক্ষরটা অন্তত স্পষ্ট  হতে হবে। শুধু সিল দিলে হবে না।

দুর্ঘটনা নানা কারণেই হতে পারে। সেটি বিচারক বিচার-বিবেচনা করবেন। যা শাস্তি দেওয়ার সেটা দেবেন। মজার ব্যাপার হলো, এই যে ১০-১২ লাখ লোক লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালাচ্ছেন, তাঁদের শাস্তির পরিমাণ শুনলে হতবাক হবেন। তাঁরা তো ড্রাইভারই নন, অথচ লাইসেন্স ব্যতিরেকে গাড়ি, বাস চালাচ্ছেন। এই অপরাধে সর্বোচ্চ চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা। অর্থাৎ আপনি মানুষ মারার একটি ওপেন জেনারেল লাইসেন্স পেয়ে যাবেন, কিন্তু ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকার কারণে এত কম শাস্তি। এ-ই যদি অবস্থা হয়ে থাকে, তাহলে এত খাটাখাটুনি করে ড্রাইভিং লাইসেন্স নেওয়ার প্রয়োজনটা কোথায়। আমি ৫০০ টাকা দিয়েই যদি পার পেয়ে যাই, তাহলে ড্রাইভিং লাইসেন্স নেওয়ার জন্য এত ঝামেলা পোহাতে যাব কেন। এত যাওয়া-আসা, ট্রেনিং নেওয়া, স্কুলে ভর্তি হওয়া, পরীক্ষা দেওয়া, আইনগত ফি, বেআইনি ফি—এত ঝামেলা পোহাতে যাবে কেন।

একটি ঘটনা আমার নজরে এসেছে। এক মিনিবাস একটি প্রাইভেট গাড়িতে ধাক্কা মেরে ক্ষতি করেছে। ওই মিনিবাসের ড্রাইভারের লাইসেন্স নেই বলে স্বীকারও করেছেন। বিচারে বিনা লাইসেন্সে গাড়ি চালানোর জন্য ৪০০ টাকা আর বেপরোয়া ড্রাইভিংয়ের জন্য ৪০০ টাকা অনাদায়ে তিন দিন বিনাশ্রম কারাদণ্ড হয়েছে। দুঃখজনক হলেও বলতে বাধ্য হচ্ছি যে বিনা লাইসেন্সে গাড়ি চালানোর দণ্ড যদি ৪০০ টাকা হয়, তবে সে দেশে দুর্ঘটনা কোনো দিনই কমবে না; বরং বাড়তেই থাকবে এবং তার জন্য দায়ী থাকবেন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞ বিচারক মহোদয়রা। এটি ‘রুল অব ল’-এর পরিপন্থী। লেডি ম্যাকবেথের হাতের রক্ত মুছলেও মুছতে পারে। কিন্তু ভিকটিমের রক্ত বিচারকের বিবেকে লেগেই থাকবে, যদি না বিচারকরা আইনের সত্যিকার স্পিরিট অনুসারে মামলা সাফ করার পরিবর্তে ইনসাফ করেন।

সবাই যেন আইন মান্য করে, সবার আগে সরকারকে এটি নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। আজ বা আগামীকাল নতুন আইন করা সম্ভব না হলেও চলমান যে আইনগুলো রয়েছে, জোরালোভাবে সেগুলো প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। এই আইনগুলোর প্রায়োগিকতা নিয়ে বিচারকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। এ বিষয়ে প্রসিকিউটরদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। সিল ব্যবহার করে বিচারকরা যে আদেশ দেন, সেটি পরিহার করে নিজের হাতে আদেশ লিখবেন। পেশকারের ওপর বিচারকদের নির্ভরশীলতা কমাতে হবে। পরিবহনসংক্রান্ত মামলার বিচারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু প্রসিকিউটরদের নয়, বিচারকদেরও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। ইংল্যান্ডের মতো জায়গায় যেখানে হাইলি কোয়ালিফায়েড লোকদের বিচারক নিয়োগ করা হয়, তাঁদের প্রতিবছর প্রশিক্ষণ নেওয়া বাধ্যতামূলক। আমাদের এখানেও সেটি করার ব্যবস্থা করতে হবে। শুধু আইন ও শাস্তির বিধান রাখলে হবে না, শাস্তিটা যেন যথাযথ ও দৃশ্যমানভাবে প্রয়োগ হয়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত, তারা যাতে দোষী ব্যক্তিদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ সহজে আদায় করতে পারেন  সেটা নিশ্চিত করতে হবে। অনেক জায়গার রাস্তা অত্যন্ত অনুপযোগী, নাজুক ও বিপজ্জনক। সেগুলো জরুরি ভিত্তিতে চলাচলের উপযুক্ত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সবার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনার মামলায় জামিন দেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। জামিন দিতে হলে ভিকটিমের বক্তব্য শোনার পর দিতে হবে। যাঁরা ড্রাইভার নন কিন্তু গাড়ি চালাচ্ছেন, তাঁদের জন্য কঠিন সাজার ব্যবস্থা করে আইন প্রণয়ন করতে হবে। যেসব গাড়ির মালিক লাইসেন্সবিহীন লোককে গাড়ি চালাতে দিচ্ছেন, তাঁদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। গাড়ির মালিকরাও যাতে ভিকটিমকে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকেন, সে ব্যবস্থা করতে হবে। ক্ষতিপূরণ আদায়ে আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে রাষ্ট্রকে সহায়তা দিতে হবে।

সবশেষে গাড়ির চালক, মালিক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আল্লাহর ওয়াস্তে বলতে চাই, মানবিক ভূমিকা গ্রহণ করবেন যেন সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠেই কোনো দুর্ঘটনার খবর না শুনতে হয়। গণমাধ্যমের প্রতি আমার আবেদন, তারা যেন এ ধরনের ঘটনা যথাযথভাবে, যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে সব সময় প্রকাশ করতে থাকে। যাতে সংশ্লিষ্ট সবার দেরিতে হলেও বোধোদয় হয়। আজকে পথচারী সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মারা গেছেন, কাল যে গাড়ির মালিকের ছেলে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মারা যাবেন না, এই গ্যারান্টি নেই।

লেখক : আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও  সাবেক প্রধান বিচারপতি

শ্রুতলিখন : রেজাউল করিম

(কালের কণ্ঠ অনলাইন থেকে সংগৃহীত)

শেয়ার করুন