কোটা সংস্কার আন্দোলনে দিনভর উত্তাল  শাবি ক্যাম্পাস

 

শাবির প্রধান ফটকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অবস্থান-ছবি এইচ এম শহিদুল ইসলাম

হাবিবুল হাসান, শাবি প্রতিনিধি:: বিসিএসসহ সব ধরনের সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে বরাবরের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়ে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আহ্বায়ক কমিটি ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্লোগানে উত্তাল ছিল পুরো ক্যাম্পাস।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, সকাল ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান  করে কোটা সংস্কারের পক্ষে স্লোগান দিতে থাকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা দ্রুত কোটা সংস্কারসহ, সংসদে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর “রাজাকার” বক্তব্যের প্রত্যাহার দাবী করেন

সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শাবি’র আবাসিক ছাত্রীহল থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল এতে অংশ নেয়। এসময় তাদের হাতে বিভিন্ন ধরণের শ্লোগান সম্বলিত প্লেকার্ড শোভা পায়।
এদিকে, ক্যাম্পাস সূত্রে  জানা যায় বুধবার আন্দোলনকারীদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সকল বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাদের ক্লাস, পরীক্ষা বর্জন করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা প্রধান ফটকে অবস্থান নেয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়গামী শিক্ষক-কর্মকর্তাদের প্রবেশ করতে দিলেও শিক্ষার্থীদের বিআরটিসি বাস ফটকের সামনে সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়ক থেকেই ফিরিয়ে দেওয়া হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতর চলাচলকারী শিক্ষার্থীদের শাটলবাস। পরবর্তীতে সকাল ১০টার পর বিপুল শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর সকল প্রকার যানবাহন প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এদিকে কোটা সংস্কারের আন্দোলনে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর জহীর উদ্দিন আহমদ। তবে তিনি শান্তি পুর্ণ ভাবে আন্দোলন চালিয়ে যেতে বলেন। যারা আন্দোলনের সাথে জড়িত না, সাধারণ জনগন, তাদের যেন ভোগান্তি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখার অনুরোধ জানান তিনি।
বুধবার সকাল ১১ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এসে আন্দোলনে সমর্থন জানান তিনি। এসময় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দেন তিনি।

এদিকে দুপুর সাড়ে ১২টায় অান্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মিছিল আকারে পায়ে হেঁটে সিলেটের চৌহাট্টা পয়েন্টে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সাথে সমেবেত হন।

বর্তমানে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ বিভিন্ন ধরনের অগ্রাধিকার কোটা রয়েছে। আর বাকি ৪৪ শতাংশ নিয়োগ হয় মেধা কোটায়।
এ জন্য এই কোটা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা।

শেয়ার করুন