অবশেষে মেয়ের অভিভাবকত্ব পেলেন বাঁধন

বিনোদন ডেস্ক :: একমাত্র কন্যাসন্তানকে সায়রাকে নিজের কাছে রাখার অধিকার চেয়ে গত বছরের ৩ আগস্ট পারিবারিক আদালতে মামলা করেছিলেন ছোট পর্দার অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন।

এ মামলার রায় দিয়েছেন আদালত। আজ (৩০ এপ্রিল) সকাল ১১টায় দ্বাদশ সহকারী জজ ও পারিবারিক আদালত রায়ে জানায়, কন্যা শিশুর অভিভাবক হচ্ছেন মা। মায়ের জিম্মায়ই মেয়ে থাকবে। বাবা মাসে কেবল দুই দিন মায়ের বাসাতে গিয়ে মায়ের উপস্থিতিতে মেয়েকে দেখে আসবেন। কিন্তু কন্যার সর্বোত্তম মঙ্গলের জন্য মায়ের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। অর্থাৎ সাধারণ কাস্টডি নয়, বরং সম্পূর্ণ গার্ডিয়ানশিপ পাবেন মা।

মামলার কারণ হিসেবে বাঁধন বলেন, ‘গত বছরের জুলাই মাসে আমার মেয়ে সায়রাকে নিয়ে যায় আমার প্রাক্তন স্বামী সনেট। এরপর একরকম জোর করেই তাকে কানাডা নিয়ে যাওয়ার কথা বলে। সায়রা এখন কোথায় থাকবে, মা হিসেবে আমার অধিকার পেতে মামলা করেছিলাম। আদালত পরিস্থিতিটা পুরোপুরি উপলব্ধি করে সন্তানের কার্ডিয়ানশিপ আমাকে দিয়েছেন।’

বাঁধনের মামলা পরিচালনা করেছেন আইনজীবী দিলরুবা শরমিন।

আদালতের আরও নির্দেশনা সম্পর্কে তিনি জানান, যদি বাবা সন্তান না দেন, তবে বাদীকে থানায় জিডি করতে বলেছেন এবং নতুন পাসপোর্ট দেবার জন্য পাসপোর্ট অফিসে আদালত চিঠি ও আদেশ পাঠিয়ে দেবেন বলেও জানালেন। কন্যা শিশুকে নিয়ে মা দেশের ভেতরে এবং বাইরে যেতে পারবেন যেহেতু মা-ই কন্যা শিশুর অভিভাবক।

মামলার আগের ঘটনা সম্পর্কে বাঁধনের ভাষ্য, ‘২০১৪ সালের আগস্ট মাসে আমারা বিয়ে বিচ্ছেদের আবেদন করি। এরপর অক্টোবরে সে (সনেট) মাতাল অবস্থায় আমাদের বাসায় হামলা করে। তারপরও চেষ্টা করেছি, যেন সম্পর্ক ঠিক হয়। আমি আবারও বিয়ে করলে হয়তো স্বামী পাবো। কিন্তু আমার মেয়ের বাবা সনেটই। তাই মেয়ের দিকে তাকিয়ে সম্পর্ক ঠিক করে ফেলতে চেয়েছি। পরে শুনলাম সনেট বিয়ে করেছে। তার দ্বিতীয় স্ত্রীই মূলত আমার মেয়েকে কানাডা নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।’

গত বছরের আগস্টে বাবার বাসায় নেওয়া হয়েছিল সায়রাকে। তিনি বললেন, ‘আমার মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার পরদিন তার স্ত্রী আমাকে ফোন দিয়ে বলেন, তোমার মেয়ের ভবিষ্যত হলো কানাডায়। আর আমি যদি ভালো মা হয়ে থাকি তাহলে এটাই যেন মেনে নিই। তিনি দ্রুত সায়রা ও স্বামীকে নিয়ে কানাডা যেতে চান।’

বিচ্ছেদের আগের ঘটনা প্রসঙ্গে ‘লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার’ খ্যাত এই তারকা বলেছেন, ‘অনেকে মনে করে আমি শিল্পপতির স্ত্রী ছিলাম। অনেকে তো বলেও যে আমি টাকার লোভে বিয়ে করেছি। কিন্তু সত্যিটা হলো, কথিত সেই শিল্পপতি তার শ্বশুরবাড়িতে থাকতো। আর তার স্ত্রী (বাঁধন) নিজে অভিনয় করে রোজগার করে আনতো!’

এদিকে বাঁধন জানান, মেয়ে সায়রার এখন তার সঙ্গেই থাকছে। ভবিষ্যতে আদালতের নির্দেশনা মেনেই মেয়ের মঙ্গলজনক সব কাজ করবেন তিনি।

শেয়ার করুন