হজের বেসরকারি প্যাকেজ ঘোষণা

বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাওয়ার প্যাকেজ ঘোষণা করেছে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)। এতে সর্বনিম্ন খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৩২ হাজার ৮৬৮ টাকা।
সোমবার নয়াপল্টনে একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হাবের মহাসচিব এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম এ প্যাকেজ ঘোষণা করেন। এ সময় হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া কমাতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
হাব মহাসচিব অভিযোগ করে বলেন, বিমান কর্তৃপক্ষ প্রধানমন্ত্রীকে সঠিক তথ্য না দিয়ে হজে বিমান ভাড়া তিনগুণ নির্ধারণ করেছে। এর সঙ্গে ধর্ম মন্ত্রণালয় এবং হাব একমত নয়। আমরা অবিলম্বে অতিরিক্ত ধার্যকৃত টাকা বাদ দিয়ে প্রকৃত ভাড়া নির্ধারণের দাবি জানাচ্ছি।
হাব মহাসচিব বলেন, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে জনপ্রতি সর্বনি¤œ খরচ পড়বে ৩ লাখ ৩২ হাজার ৮৬৮ টাকা। এর সঙ্গে কোরবানি বাবদ ৫০০ রিয়াল বা ১১ হাজার ১৭৫ টাকা হজযাত্রীকে সৌদি আরব নিয়ে যেতে হবে। এছাড়া ট্রলি ব্যাগ হজযাত্রীকে কিনে নিতে হবে। গত বছর এ খাতে ২ হাজার ৫০০ টাকা ধার্য ছিল। প্রতিটি হজ এজেন্সিকে কমপক্ষে দুটি প্যাকেজ ঘোষণা করতে হবে। তবে কেউ
সর্বনি¤œ প্যাকেজের কম টাকা নিতে পারবে না।
এর আগে সরকারিভাবে দুটি হজ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। প্যাকেজ-১ এর জন্য ৩ লাখ ৯৭ হাজার ৯২৯ টাকা এবং প্যাকেজ-২ এর জন্য ৩ লাখ ৩১ হাজার ৩৫৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম বলেন, আজ থেকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রী নিবন্ধন শুরু হবে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১১ মার্চ পর্যন্ত নিবন্ধন চললেও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় আরও সময় বাড়বে। সর্বনি¤œ ১ লাখ ৩৮ হাজার ১৯১ টাকা সংশ্লিষ্ট এজেন্সির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। বাকি টাকা ১৫ এপ্রিলের মধ্যে এজেন্সিকে পরিশোধ করতে হবে। এবার হজ এজেন্সিকে পুরো টাকা পরিশোধ না করলে কেউ হজে যেতে পারবেন না। দালালদের কাছে টাকা জমা দিলে প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এজন্য হজ এজেন্সি দায়ী থাকবে না।
হজে বিমান ভাড়া প্রসঙ্গে হাব মহাসচিব বলেন, জেট ফুয়েলের মূল্যবৃদ্ধি বা ভ্যাট প্রয়োগের অজুহাতে যদি হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়, তাহলে সাধারণ যাত্রী ও ওমরাহযাত্রীদের ক্ষেত্রে বিমান ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়নি কেন? বরং ওমরাহ ক্ষেত্রে ভাড়া আরও ৫০ ডলার কমানো হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশে জেট ফুয়েলের দাম কিছু বাড়লেও সৌদিতে দাম বাড়েনি। এতে প্রতীয়মান হয়, হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া তিনগুণ বৃদ্ধি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
শাহাদাত হোসাইন তসলিম আরও বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ অন্যান্য এয়ারলাইন্সে ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা আসা-যাওয়ার বর্তমান ভাড়া সাধারণ যাত্রীদের ক্ষেত্রে ৩৬ থেকে ৪০ হাজার টাকা। ওমরাহযাত্রীদের আসা-যাওয়ার ভাড়া ৪৯ থেকে ৫২ হাজার টাকা। হজযাত্রীদের ক্ষেত্রে যেহেতু বিমানকে এক পথে খালি আসতে হয় সেজন্য হজযাত্রীদেব বিমান ভাড়া সর্বোচ্চ দ্বিগুণ অর্থাৎ ৮০ থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এছাড়া প্রায় সারা বছর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সাধারণত ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ যাত্রী নিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে। অথচ হজের সময় প্রায় ১০০ ভাগ যাত্রী নিয়ে ফ্লাইট পরিচালিত হয়। হজের সময় প্রচার খাতসহ আরও অনেক খাতে বিমানের খরচ কমে যায়। এজন্য হজে বিমান ভাড়া ১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা হতে পারে না।
হাব মহাসচিব শুধু বাংলাদেশ বিমান ও সৌদি এয়ারলাইন্সে হজযাত্রী পরিবহনের সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে থার্ড ক্যারিয়ার অর্থাৎ জেদ্দাগামী অন্যান্য এয়ারলাইন্সেও হজযাত্রী পরিবহনের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে হাবের সভাপতি আবদুস ছোবহান ভূঁইয়া, সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা ইয়াকুব শরাফতি, সহ-সভাপতি আবদুস সালাম আরেফ, যুগ্ম মহাসচিব জহিরুল কবির চৌধুরী সিরু, অর্থ সচিব মাওলানা ফজলুর রহমান, জনসংযোগ সচিব মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, নির্বাহী সদস্য তাজুল ইসলাম, আবদুল হামিদ, এমএনএইচ খাদেম দুলাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, এ বছর ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজে যেতে পারবেন। এর মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ২০ হাজার এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাবেন ৭ হাজার ১৯৮ জন হজযাত্রী। ১ মার্চ থেকে সরকারিভাবে হজে যেতে ইচ্ছুক হজযাত্রীদের নিবন্ধন শুরু হয়েছে। ১১ মার্চ পর্যন্ত এ নিবন্ধন কার্যক্রম চলবে। ১৪ জুলাই বাংলাদেশ থেকে প্রথম হজ ফ্লাইট সৌদি আরবের পথে রওনা দেবে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২১ আগস্ট পবিত্র হজ পালিত হবে।

শেয়ার করুন