‘নাগরী স্যার’র এতিমখানা পুড়ানোর ঘটনায় দুই সহযোগীসহ ডাকাত সরদার মর্তুজ আলীর আদালতে আত্মসমর্পন

ডেস্ক রিপোর্ট ॥ দুই সহযোগীসহ সিলেটের উত্তর সদরের ডাকাত সরদার মর্তুজ আলী অবশেষে আদালতে আত্মসমর্পন করেছে। রোববার আদালতে হাজির হয়ে তারা জামিন আবেদন করে। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন। দীর্ঘ দিন থেকে নানা আলোচিত- সমালোচিত ছিল মর্তুজ আলী বাহিনী। সর্বশেষ ‘নাগরী স্যার’ খ্যাত প্রফেসর ইরহাছুজ্জামান (আয়না পীর) এর প্রতিষ্ঠিত এতিমখানা পুড়িয়ে দিয়ে আলোচনায় আসে এই বাহিনী। এলাকাবাসীর চাপের মুখে গতকাল আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করে মর্তুজ আলী ও তার দুই সহযোগী। ডাকাত সরদার মর্তুজ আলী জেলে যাওয়ার খবরে এলাকায় স্বস্তি নেমে এসেছে।
সিলেট সদর উপজেলার হাটখোলা ইউনিয়নের বাবুরাগাওয়ের বাসিন্দা মৃত মনাই শাহর পুত্র মুর্তুজ আলী। তার বিরুদ্ধে চুরি-ডাকাতিসহ অভিযোগের শেষ নেই। এলাকাবাসী মিলে দেশ স্বাধীনের পরবর্তী সময়ে তিন দফা উচ্ছেদের পর ঘুরে ফিরে চলে আসে এলাকায়। এসে পুনরায় চুরি ডাকাতিসহ নানা অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে তারা। সম্প্রতি এলাকায় মর্তুজ আলী ডাকাত তার নিজস্ব বাহিনী গড়ে তুলেছে। ব্যক্তিগত জীবনে ৪টি বিয়ে করে সে। এই চার স্ত্রীর ঘরের সন্তান সন্ততি মিলে বিশাল বাহিনী গড়ে উঠেছে এলাকায়। এখন ধীরে ধীরে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সে। এমন অভিযোগ তুলে তার প্রতিকার চেয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বরাবরে দরখাস্ত দিয়েছেন এলাকাবাসী।
আদালত সূত্র জানায়, মর্তুজ আলী ডাকাতের বিরুদ্ধে সিলেট ও সুনামগঞ্জের ৮টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে সর্বশেষ এসএমপির জালালাবাদ থানায় মামলা রয়েছে দুটি। সম্প্রতি দেশের স্বনামখ্যাত নাগরী গবেষক নিভৃতে হাওরপারে বসবাস করা ‘নাগরী স্যার’ হিসেবে পরিচিত প্রফেসর ইরহাছুজ্জামান (আয়না পীর) এর গড়া এতিমখানা পুড়িয়ে দেয় মর্তুজ আলী বাহিনী। এ ঘটনায় মামলাও হয় জালালাবাদ থানায়। যার নং ০৮(০৮/০৩/১৮)। এছাড়া, দস্যুতার অভিযোগে আরো একটি মামলা হয় একই থানায়। যার নং ০৫(০৬/০৬/১৮)।
অন্যদিকে, বিভিন্ন থানায় আরো ৬টি মামলা রয়েছে। তৎকালীন কতোয়ালী থানায় জিআর মামলা নং ২২৯/২০০৫, জিআর মামলা নং ৬৮৭/৯২ ও জিআর মামলা নং ৫০১/৯৮। সুনামগঞ্জ থানায় মামলা নং ৫২/৮৯। গোয়াইনঘাট জিআর মামলা নং ৪২৯/৯২ ও ২০৬/০৮। এসব এখনো আদালতে বিচারাধীন। গতকাল রোববার নাগরী স্যারের এতিমখানা পুড়ানো মামলায় আদালতে আত্মসমর্পন করলে আদালত তাদের জামিন নামমঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠান। আদালতে আত্মসমর্পনকারী অপর দুই সহযোগী হচ্ছে-ইউনুছ আলী ও সাহার উদ্দিন। তাদের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে।
অপরদিকে, ডাকাত সরদার মর্তুজ আলী ২০০৩ সালে লামাকাজি এলাকায় ডাকাতি করতে গিয়ে ধরা পড়ে। পরে উত্তেজিত জনতা তার একটি চোখ উপড়ে ফেলে। বর্তমানে তার একটি চোখ নেই।
জালালাবাদ থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, দুটি অভিযোগ আমরা সম্প্রতি পেয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন