ড. আখলাকুর রহমানকে নিয়ে প্রফেসর আব্দুল আজিজের গ্রন্থের পাঠউন্মোচন

সিলেটের সকাল ডেস্ক :: জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী সদস্য ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, ড. আখলাকুর রহমান ছিলেন গভীর জ্ঞানের অধিকারী এবং স্পষ্টভাষী একজন মানুষ। প্রফেসর মো. আব্দুল আজিজ তার কলমের মাধ্যমে সিলেটের গর্ব অর্থশাস্ত্রী ড. আখলাকুর রহমানকে তুলে এনেছেন। গ্রন্থটি আকারে ছোট হলেও খুবই সমৃদ্ধ এবং বইটি এতো প্রাণবন্ত যে পাঠ শুরু করলে এক টানে শেষ করতে হয়। তৎকালীন ‘ফোরাম’ পত্রিকায় আমরা অর্থনৈতিক বৈষম্য নিয়ে লেখতে গিয়ে প্রায়ই আখলাক স্যারের স্মরণাপন্ন হতাম, তার কাছ থেকে অনেক কিছু জানতাম। তিনি আমার নানা বাড়ির এলাকার হওয়ায় তার সাথে আমার মামা-ভাগ্নে সম্পর্ক ছিল। আমার সরকারি চাকরি জীবনের দিনগুলো তার সাথে মধুরভাবে কাটিয়েছি। আমেরিকা থাকাকালে আমি অমর্ত্য সেনের কাছে তার ভূয়সী প্রশংসা শুনেছি। অমর্ত্য সেন বলতেন ঐব ধিং ঃযব ঐবৎড় ড়ভ ড়ঁৎ মৎড়ঁঢ়. তিনি বাংলার তৎকালীন অর্থনৈতিক বৈষম্য সম্পর্কে যারপর নাই সচেতন এবং প্রতিবাদী ছিলেন। তিনি মাত্র তিন বছরে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। আব্দুল আজিজ স্যারের মত আরো মানুষকে আখলাকুর রহমানের ব্যাপারে গবেষণায় এগিয়ে আসা উচিত।

গতকাল শনিবার সন্ধ্যা সাতটায় প্রগতিশীল পাঠকসংঘ শৈলী কর্তৃক প্রকাশিত প্রফেসর মো. আব্দুল আজিজের ‘দায়বদ্ধ অর্থশাস্ত্রী : ড. আখলাকুর রহমান’ গ্রন্থের পাঠউন্মোচন ও আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথাগুলো বলেন।

শৈলীর কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ফিদা হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পাঠউন্মোচন ও আলোচনাসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দৈনিক সিলেটের ডাকের নির্বাহী সম্পাদক গবেষক আবদুল হামিদ মানিক, দৈনিক উত্তরপূর্বের প্রধান সম্পাদক আজিজ আহমদ সেলিম, কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মাহমুদ রাজা চৌধুরী, শৈলীর প্রধান উপদেষ্টা কবি ও গবেষক সৈয়দ মবনু, শৈলীর উপদেষ্টা সচিব তরুণ প্রাবন্ধিক মাহবুব মুহম্মদ।

মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শৈলীর সহসভাপতি সালেহ আহমেদ সাদি ও কোরআন তেলাওয়াত করেন শৈলীর সদস্য হাফিজ জামিল আহমদ।

অনুভূতি ব্যক্তকালে বইয়ের লেখক কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সভাপতি ও সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির সাবেক উপাচার্য এমিরেটাস প্রফেসর মো. আব্দুল আজিজ বলেন, ‘দায়বদ্ধ অর্থশাস্ত্রী : ড. আখলাকুর রহমান’ বইটি আকারে অত্যন্ত ছোট, আমরা সাধারণত বড় বইগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে থাকি। কিন্তু ছোট হলেই বইয়ের গুরুত্ব কমে যায় না। এ বইটি ছোট হলেও গুরুত্বপূর্ণ এবং আমি শৈলীর কাছে কৃতজ্ঞ তারা এটি প্রকাশের দায়িত্ব গ্রহণ করায়। গুণীজনের মূল্যায়নে বিবেকের দায়বদ্ধতা থেকে এই বই লেখার সূচনা। সর্বোপরি তিনি অত্যন্ত প্রতিভাবান এবং জ্ঞানী ব্যক্তি ছিলেন। তার জীবদ্দশায় এমনকি মৃত্যুর পরও তার যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি। এমনকি তার নিজের প্রতিষ্ঠানেও তার সব তথ্য মিলেনি। তিনি দু’বার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হওয়ার সুযোগ পেয়েও স্বৈরশাসক এরশাদের সাথে সমঝোতা না করায় হতে পারেন নি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আবদুল হামিদ মানিক বলেন, অনেক মানুষ বয়সে বৃদ্ধ হলেও চেতনায় যুবক থাকেন। আমাদের আজিজ স্যারেরও এই বৃদ্ধ বয়সে যৌবনের তেজ রয়েছে। তিনি লেখালেখিতে তার তারুণ্য ধরে রেখেছেন। সিলেট কেবল প্রাকৃতিক সম্পদে নয়, মেধার দিকেও উল্লেখযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ। শুধু এই সময়েই নয়, একান্নর আদম শুমারিতেও আমরা শিক্ষায় এগিয়ে ছিলাম। এখনতো অনেক লোকই জাতীয় পর্যায়ে সিলেটের প্রতিনিধিত্ব করছেন। প্রফেসর আব্দুল আজিজের এ বই আমাদের অতীত গৌরবের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। একজন প্রায় হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তিকে তুলে আনতে স্যার অনেক কষ্ট করেছেন।

আজিজ আহমদ সেলিম বলেন, এদেশের অর্থনীতিকে কীভাবে সকল মানুষের জন্য করা যায় ড. আখলাকুর রহমান সারা জীবন সে প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন। ড. আখলাকুর রহমানকে আমাদের সামনে তুলে ধরায় আমরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি প্রফেসর আব্দুল আজিজ এবং প্রকাশক প্রগতিশীল পাঠকসংঘ শৈলীর প্রতি। আশা করি এ গ্রন্থ পাঠ করে গুণীজনের জীবন থেকে তরুণরা শিক্ষা নেবে এবং নিজেদেরকেও গুণী হিসেবে গড়ে তুলেবে।

সৈয়দ মবনু বলেন, প্রফেসর আব্দুল আজিজ অনেক কষ্ট করে ড. আখলাকুর রহমানের জীবন নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরেছেন। তথ্য সংগ্রহের ব্যাপারে তিনি এত সচেতন ছিলেন, আমাকে একটি বিষয়ে তথ্য সরবরাহ করতে বলায় আমি ড. আখলাকুর রহমানের গ্রাম পর্যন্ত যাই। অবশেষে প্রগতিশীল পাঠকসংঘ শৈলী কর্তৃক প্রফেসর মো. আব্দুল আজিজের ‘দায়বদ্ধ অর্থশাস্ত্রী : ড. আখলাকুর রহমান’ গ্রন্থ প্রকাশ করায় আমরা জাতি হিসেবে কিছুটা দায় আদায় করতে পেরেছি বলে মনে হয়।

সভাপতির বক্তব্যে শৈলীর সভাপতি ফিদা হাসান বলেন, আমাদের সংগঠনের প্রধান কাজ জ্ঞান চর্চা। এই চেতনা থেকেই আমরা আজিজ স্যারের বই প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করি। আমাদের বিশ^াস এই বই পাঠের মাধ্যমে তার জীবন সম্পর্কে আমরা যেমন জানতে পারবো, তেমনি আমরা উজ্জীবিত হবো জ্ঞানের চর্চায়।

শেয়ার করুন