জনপ্রিয় গানের মুর্চ্ছনায় ভাসলো সিলেট

সঙ্গীত পরিবেশন করছেন জেমস

আহমাদ সেলিম ॥ দীর্ঘদিন পর ব্যান্ড মিউজিকের বড় একটি আসর উপভোগ করলেন সিলেটের মানুষ। জেমস, দলছুট আর মমতাজের গানে ভাসলেন গান পাগল তরুণরা। একের পর এক জনপ্রিয় গানের মুর্চ্ছনায় মুখরিত ছিলো পুরো স্টেডিয়াম। তরুণদের একটি বড় অংশ দীর্ঘ সময় পর এমন একটি বড় আয়োজন উপভোগ করার সুযোগ পেলেন। রোববার জেলা স্টেডিয়ামে সেই সুযোগটি করে দিলো সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। নব্বই দশকটা বাংলাদেশের ব্যান্ডগুলোর জন্য ছিলো স্বর্ণযুগ। সেই সময়ের সাথে জড়িয়ে আছে এদেশের তরুণ তরুণীদের নস্টালজি। বাংলাদেশের বাজার তখন দখলে ছিলো ব্যান্ডের নতুন নতুন এ্যালবামে। সেই সময় সারাদেশের মতো ব্যান্ডের প্রবাহ ছড়িয়ে পড়েছিলো সিলেটেও। এক সময় অনেকগুলো ব্যান্ডদল সিলেটে দাপটের সাথে কাজ করেছে। কিন্তু একটা সময় এসে দারুণ আকাল উকি দেয় বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতে। তারপর অনেকটা থমকে যায় ব্যন্ডের সোনালী দিন। কিছু কিছু ব্যান্ড টিকে থাকলেও জনপ্রিয়তার দিকে পিছিয়ে পড়েছিলো ব্যন্ডের সুনাম। তারপর অনেকগুলো বছর পর গতকাল সেই সোনালী সময়ের একটা ঝিলিক দিয়ে গেলেন বাংলাদেশের প্রথম সারির ঐতিহ্যবাহী কয়েকটি ব্যান্ডদল। এসেছিলেন জেমস, দলছুট ব্যান্ডের বাপ্পা মজুমদার। তাদের সাথে গাইলেন ফোক শিল্পী মমতাজ। সিলেটে নব্বই দশকের পর এ ধরণের বড় কোনো ব্যান্ড কনসার্টের আসর এটিই প্রথম। তাইতো বিকেল থেকে পুরো মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। সকল বয়েসি মানুষ ছুটে আসেন মাঠে। একদিনের জন্য সবাই ফিরে গিয়েছিলেন সেই নব্বই দশকে, পুরনো স্মৃতিতে। যে সময়ের সাথে মিশে আছে জীবনের রঙিন গল্প। জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হওয়া কনসার্টে সন্ধ্যার পূর্ব পর্যন্ত সিলেটের শিল্পীরা স্টেডিয়াম মাতিয়ে রাখেন। এ সময় গানের সাথে পরিবেশিত হয় নৃত্য। সন্ধ্যার পর অপেক্ষার অবসান হয়। ব্যান্ড তারকা বাপ্পা মজুমদার তার দলছুট নিয়ে হাজির হন। একে একে পরিবেশন করেন ‘গাড়ি চলেনা চলে না চলেনা রে’, ‘তোমার বাড়ির রঙের মেলায় দেখে ছিলাম বায়োস্কোপ’, ‘তুমি আমার বায়ান্ন তাস’সহ জনপ্রিয় কয়েকটি গান। দলছুটের পর মঞ্চে আসেন জনপ্রিয় শিল্পী মমতাজ। তিনি পরিবেশন করেন রাধারমন, শাহ আবদুল করিমসহ বেশ কয়েকজন গুণী শিল্পীর

উৎসুক মানুষের ভিড়

গান। তারপর পুরো স্টেডিয়ামকে মাতিয়ে রাখেন দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড তারকা জেমস। দেশ-বিদেশে জনপ্রিয় এই শিল্পীর গানে পাল উড়ে তরুণ-তরুণীদের ক্যানভাসে। সাড়া জাগানো বেশ কয়েকটি গান তার সুমধুন কন্ঠে বেজে ওঠে। যে গানগুলো এক সময় মুখে মুখে ছিলো তরুণ তরুণীদের। ‘কবিতা তুমি স্বপ্নচারিণী হয়ে খবর নিয়ো না, লেইস ফিতা লেইস’সহ বেশ কয়েকটি গান মাঠ কাপায় রাত পর্যন্ত। তার গানের পর পরই ভাঙ্গে মিলনমেলা। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘অগ্রযাত্রায় দূর্বার বাংলাদেশ’ কনসার্টটির মাধ্যমে আবহমান বাংলার ইতিহাস-ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি দেশব্যাপী আরো প্রচার-প্রসার এবং সরকারের চার বছরের উন্নয়ন ও সাফল্যগাঁথাকে ফুটিয়ে তোলা হয়। কয়েকটি গানের পর পর দেখানো হয় বর্তমান সরকারের হাত ধরে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের গল্প, অভাবনীয় সাফল্য। একইসাথে বাংলাদেশকে নিয়ে সরকারের আগামীর স্বপ্নের কথাও তুলে ধরা হয় বড় পর্দার মাধ্যমে। তবে পুরো কনসার্টের ফাঁকে ফাঁকে দেখানো হয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ। ওঠে আসে মুক্তিযুদ্ধের বিভীষিকাময় সেই মুহূর্তগুলো। সন্ধ্যার পর কনসার্টের উদ্বোধনী বক্তব্যে সরকারের সাফল্য এবং পরিকল্পনার কথা তুলে বক্তব্য রাখেন, সিলেটের জেলা প্রশাসক নুমেরী জামান। পুরো অনুষ্ঠান দেশ টিভিতে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়।

শেয়ার করুন