চিত্রাংকন মেধা বিকাশের অন্যতম মাধ্যম

 

একাদশ কেমুসাস বইমেলার তৃতীয় দিন

 

সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সেক্রেটারি, বিসিসি বোর্ডের পরিচালক এবং দৈনিক উত্তরপূর্ব পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল বলেছেন, মুসলিম সাহিত্য সংসদ তার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এ অঞ্চলের শিক্ষা সংস্কৃতির গতিকে বেগবান করতে কাজ করেছে। অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে কেমুসাস আজ এ পর্যায়ে এসেছে। বায়ান্ন’র ভাষা আন্দোলনের শহিদদেরকে উৎসর্গকৃত এবারের কেমুসাস বইমেলা। বাংলা ভাষা আন্দোলনে কেমুসাস-এর অনেক অবদান রয়েছে। বাংলা ভাষার দাবিতে সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রবন্ধ সম্ভবত ভাষার দাবিতে লিখিত প্রথম প্রবন্ধ- যা কেমুসাসের এক সভায় পঠিত হয়েছিল এবং তা সেই সময় কেমুসাসের মুখপত্র আল ইসলাহে প্রকাশিত হয়। চিত্রাংকন মেধা বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা নেতৃত্বের যোগ্যতার দিকে নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে নিয়ে যায়। আজকে যে ক্ষুদে আঁকিয়েরা এখানে প্রতিযোগিতায় এসেছে, ভবিষ্যতে যেন তারা স্বনামখ্যাত হয়, এই কামনাই করি।
বৃহস্পতিবার বিকেল চারটায় একাদশ কেমুসাস বইমেলা মঞ্চে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ‘খ’ এবং ‘গ’ গ্রুপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সহসভাপতি এবং বইমেলা উপকমিটির আহ্বায়ক আ ন ম শফিকুল হকের সভাপতিত্বে এবং বইমেলা উপকমিটির সদস্যসচিব সৈয়দ মবনুর সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং দৈনিক সিলেটের ডাকের চিফ রিপোর্টার মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মাহমুদ রাজা চৌধুরী। পবিত্র কালামে পাক থেকে তেলাওয়াত করেন হাফিজ মিনহাজুল ইসলাম হৃদয়।
সভাপতির বক্তব্যে আ ন ম শফিকুল হক বলেন, চিত্রাংকন শুধু সুন্দরের জন্য নয়, চিত্রের মাধ্যমে একজন চিত্রকর অনেক বক্তব্য প্রকাশ করে থাকেন। এত ব্যস্ততার মাঝে যারা শিল্প-সাহিত্যে সময় দেন তারা অবশ্যই চিত্তবান মানুষ। আজকে যারা চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন তারা একদিন চিত্রাংকনের মাধ্যমে আমাদের দেশকে বিশে^র সামনে আলোকিত করে তুলবেন বলে আমরা আশা করি।
দেওয়ান মাহমুদ রাজা চৌধুরী উপস্থিত প্রতিযোগী ও অভিভাবকদেরকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, চিত্রাংকনের মাধ্যমে একজন মানুষ তার মনের ভাবকে প্রকাশ করে থাকে। শুধু ছবি এঁকেও একটি সমাজকে নাড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। আগামী প্রজন্মকে চিত্রাংকনের প্রতি উৎসাহী করতে কেমুসাস প্রতিবছর বিভিন্ন বয়সের ছেলেমেয়েদের মধ্যে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছে। বইমেলার আজ তৃতীয় দিন। আরও নানা বিষয়ের প্রতিযোগিতা রয়েছে আগামী ৩০ মার্চ পর্যন্ত। আপনারা আপনাদের সন্তানদেরকে নিয়ে আসবেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিরাজুল ইসলাম বলেন, চিত্র মেধা বিকাশের অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম। অনেক শিল্পী ছবি আঁকার মাধ্যমে নানা দেশে জাগরণ তৈরি করেছেন, ইতিহাস-ঐতিহ্যকে উপস্থাপন করেছেন। আমাদের কামরুল হাসান, জয়নুল আবেদিন ও কাইয়ূম চৌধুরীর কথা এক্ষেত্রে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি।
চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় ‘খ’ গ্রুপে ১ম স্থান অধিকার করেছে দেবরাজ বণিক, ২য় স্থান ফাহিমা আলভী রহমান রিফা ও ৩য় স্থান যুবরাজ মালাকার এবং ‘গ’ গ্রুপে ১ম স্থান অধিকার করেছে ফাতেমা বেগম রাণী, ২য় স্থান তারান্নুম আজিজ চৌধুরী ও ৩য় স্থান সাবা মুনতাহা। বিচারকের দায়িত্বে ছিলেন চিত্রশিল্পী তাহমিদ আহমদ তামিম ও প্রান্ত প্রতিম রায়। ।
সন্ধ্যে সাড়ে ছয়টায় আবুযর রেদওয়ানের ‘ওমর মুখতার, সাদ্দাম ও নতুন পৃথিবীর ফরিয়াদ’ গ্রন্থের পাঠ উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়। আজ মেলা শুরু হবে বিকাল ৩টায় এবং বিকাল ৪টায় মেলা প্রাঙ্গণে রয়েছে ক, খ, গ, ঘ এবং বিশেষ গ্রুপের আবৃত্তি প্রতিযোগিতার উদ্বোধন ও সন্ধ্যা ৬.৩০টায় প্রকাশনা উৎসব। বিজ্ঞপ্তি।

শেয়ার করুন