একাদশ কেমুসাস বইমেলার ৬ষ্ঠ দিন

সিলেটের সকাল ডেস্ক :: বিশিষ্ট্য কবি প্রফেসর নৃপেন্দ্রলাল দাশ বলেছেন, প্রবন্ধ কিংবা নিবন্ধে সম্মান পাওয়া যায়, কিন্তু গানে পাওয়া যায় সৃষ্টিকর্তার আর্শিবাদ। প্রাচীনকাল থেকে বাংলায় সংগীতের চারটি ধারা দেখা যায়, প্রথম হলো লোকগীতি, দ্বিতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত, তৃতীয় শ্যাম সংগীত, চতুর্থ হিন্দুস্তানী সংগীত। বাংলা সংগীতে নজরুলের মতো প্রতিভাধর খুবই বিরল, তিনি সংগীতের জন্য তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন, পার্সী সংগীতকে বাংলায় রূপান্তরিত করেছেন, নিজের মতো করে গান লিখেছেন এবং সংগীতে ইসলামী ধারাকে জনপ্রিয় করেছেন।

তিনি আরও বলেন, প্রকৃত গানের সন্ধানী কেউ এলে আমি তাঁকে বলি, যেতে হবে সিলেটে, যেতে হবে সুনামগঞ্জে। এই অঞ্চলের সাধকেরা প্রকৃত গান লিখেছেন। গানে সফলতার জন্য মন দিয়ে সাধনার বিকল্প নেই।

রোববার বিকেল চারটায় একাদশ কেমুসাস বইমেলা মঞ্চে সংগীত প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সহসভাপতি গল্পকার সেলিম আউয়ালের সভাপতিত্বে এবং বইমেলা উপকমিটির সদস্যসচিব সৈয়দ মবনুর সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট ল’ কলেজের প্রিন্সিপাল এডভোকেট সৈয়দ মহসিন আহমদ।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন কেমুসাসের নির্বাহী সদস্য সৈয়দ মোহাম্মদ তাহের।

সভাপতির বক্তব্যে সেলিম আউয়াল বলেন, কেমুসাস কর্তৃক প্রথমবারের মতো সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। কেমুসাস সবসময় মাটি ও মানুষের সাথে মিশে কাজ করতে চায়, শেকড়ের অনুসন্ধান করতে চায় এবং তা ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে। বিশেষ অতিথি সৈয়দ মহসিন বলেন, সংগীত মানুষের অন্তরকে বিকশিত করে। আত্মসাধনার জন্য সংগীত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে কেমুসাসের ভূমিকা প্রশংসার দাবি রাখে। সংগীত প্রতিযোগিতা শেষে শিল্পী মালতি পাল ও পপি কর-এর একক পরিবেশনায় গাওয়া গান উপস্থিত দর্শকদেরকে মুগ্ধ করে।

সবশেষে বিশেষ অতিথি সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এবং টিভি চ্যানেল ৭১-এর সিলেট প্রতিনিধি ইকবাল মাহমুদ-এর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

সংগীত প্রতিযোগিতায় ‘ক’ গ্রুপের ১ম স্থান অধিকার করে নাবিহা আহমদ, ২য় স্থান অহনা রাণী মুনা, ৩য় স্থান ফারিয়া তাহসীন প্রিমা, ‘খ’ গ্রুপের ১ম স্থান অধিকার করে তালুকদার নুসরাত জাহান, ২য় স্থান তাহসিনা তাবাসসুম লাবিবাহ ও ৩য় স্থান মনোয়ার হোসেন মনির। বিচারকের দায়িত্বে ছিলেন ওস্তাদ মধু খান, বিপ্রদাশ ভট্টাচার্য্য, মালতি পাল এবং পপি কর। হারমনিতে ছিলেন ফারুক আহমদ এবং তবলায় সঙ্গত করেন কান্ত কুমার দাস।

২৬ শে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বইমেলা শুরু হবে সকাল ১১টা থেকে। সন্ধে সাড়ে ছয়টায় মহান স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভা।

শেয়ার করুন