সড়ক ও জনপথ বিভাগের বিরুদ্ধে বিনা নোটিশে জোরপূর্বক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙ্গার অভিযোগ

সিলেটের সকাল ডেস্ক:: সড়ক ও জদপথ বিভাগ আইনের তোয়াক্কা না করে জোরপূর্বক বিনা নোটিশে আম্বরখানা-এয়ারপোর্ট সড়কের বড়শালা এলাকায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভেঙ্গে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী। এতে ওই ব্যবসায়ী প্রায় দুই কোটি টাকার সম্পদ হারিয়েছেন এবং বছরে ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকার আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
রোববার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন নগরীর লেচুবাগান মজুমদারী ১৯ তরঙ্গ বাসার মালিক ব্যবসায়ী মো. সিরাজুল ইসলাম।

লিখিত বক্তব্যে সিরাজুল ইসলাম বলেন, গত ২৩ জানুয়ারি আম্বরখানা-এয়ারপোর্ট সড়কের বড়শালা এলাকায় সওজ উচ্ছেদ অভিযানের নামে তার মালিকানাধীন আমির রেস্টুরেন্ট ও আমিনা ডিপার্টমেন্টাল স্টোরসহ ৮টি দোকানঘর এবং একটি বিল বোর্ড ভেঙ্গে ফেলে। কোনো ধরনের নোটিশ ছাড়াই তার ১০ শতক ভূমির উপর নির্মিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করে দেয়। অভিযানকালে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলতে এবং মালিকানার বৈধ কাগজপত্র দেখাতে চাইলেও তারা তার কোনো কথা না শুনে দুর্ব্যবহার করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, সিলেট সদর উপজেলার বড়শালা মৌজার জে এল নং ৫৪, খতিয়ান নং ৫২৭, দাগ নং ১৯২৬ এর ১০ শতক ভূমিসহ অপরাপর ভূমি সৈয়দীয় ওয়াকফ এস্টেটের অধীনস্ত থাকাবস্থায় জনৈক রাশিদ আলী বন্দোবস্ত গ্রহণ করে দখলকার হন। পরবর্তীতে রাশিদ আলী জনৈক কঠাই মিয়া ও অরুণ ভূষণ দাশ এডভোকেটের নিকট এ ১০ শতক ভূমিসহ অপরাপর ভূমি ১৯৯০ সালের ১৭ অক্টোবর সাফ কাবালমূলে হস্তান্তর করেন। সেটেলমেন্ট জরিপকালে এই ভূমি অশুদ্ধ রেকর্ড হওয়ায় ওই দুই ক্রেতা স্বত্ব মোকদ্দমা (নং১৬/৯২) দায়ের করলে আদালত তাদের পক্ষে ডিক্রি প্রদান করেন। ডিক্রিপ্রাপ্ত হয়ে তারা নিজ নিজ নামে নামজারি করেন এবং খাজনা পরিশোধ করে ভোগদখল করেন। কঠাই মিয়া তার নিজ অংশের ১০ শতক ভূমি ১৯৯৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর তার নিকট বিক্রি করেন। এরপর তিনি নামজারী এবং খাজনা পরিশোধ করে এই ১০ শতক ভূমিতে দোকানকোঠা নির্মাণ করে ভাড়া প্রদান করেন। ওই দোকানঘরের বড় একটি অংশে আমির রেস্টুরেন্ট ও আমিনা ডিপার্টমেন্টাল স্টোরসহ ৮টি দোকানকোঠা রয়েছে। এছাড়া একটি বিলবোর্ডও ছিল। এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো এবং বিলবোর্ড থেকে বছরে ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকা পেয়ে থাকেন তিনি।
তিনি বলেন, পরবর্তীতেও এ ভূমি নিয়ে জনৈক শাহজাদা হোসেন গং তাদের ভূমি দাবি করে একটি স্বত্ব মামলা (নং ৯৯/৯১) করেন এবং এ মামলায় তিনি ১০ নম্বর বিবাদী এবং সওজকেও বিবাদী করা হয়েছিল। এই মামলায় আদালত তাদের পক্ষে রায় প্রদান করেন। পরবর্তীতে বাদী পক্ষ এ রায়ের বিরুদ্ধে জেলা জজ আদালতে আপিল করেন। যার নং ৩১১/১৭ ইং)। এ অভিযানে তিনি প্রায় দুই কোটি টাকার সম্পদ হারানোর পাশাপাশি বছরে ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকার আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এছাড়া তার এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে যারা কর্মরত ছিল তারাও উপার্জন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, এ ব্যাপারে শীঘ্রই তিনি আইনের দ্বারস্থ হবেন। সংবাদ সম্মেলনে তার সাথে উপস্থিত ছিলেন খন্দকার রোহান উদ্দিন, মো, ছদরুল ইসলাম, জহিরুল ইসলাম, লিয়াকত আলী, নাজমুল করিম খন্দকার প্রমুখ।

শেয়ার করুন