সিলেট আদালত পাড়ায় সাংবাদিক নির্যাতনের মামলায় চার্জশিট দাখিল

সিলেটের সকাল রিপোর্ট :: সিলেটের আদালত পাড়ায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে দুই সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী ও তার তিন সহযোগীকে বাদ দিয়ে চার্জশিট দাখিল হয়েছে।

বুধবার সিলেটের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সাইফুজ্জামান হিরোর আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব ইন্সপেক্টর হাদিউল ইসলাম এ চার্জশিট দাখিল করেন। আদালত আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি শুনানীর দিন ধার্য্য করেছেন। চার্জশিট নং ৫০/১৮।

সিলেট কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি গৌছুল হোসেন জানান, ‘সাংবাদিক নির্যাতনের মামলায় ভিডিও ফুটেজ দেখে ১৩ আসামিকে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে এজাহারে উল্লেখিত ৪ জন অভিযুক্তকে বাদ দেয়া হয়েছে। ভিডিও ফুটেছে তাদের শনাক্ত করতে না পারায় তাদেরকে চার্জশিট থেকে বাদ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে, চার্জশিটে অনাস্থা এনে মামলার বাদি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মঈনুল হক বুলবুল বলেন, ‘প্রধান আসামীকে চার্জশিটে বাদ দেয়া হয়েছে। এ কারণে আমরা নারাজি দেব। আগামি ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আদালত সময় দিয়েছেন।’

চার্জশিট থেকে বাদ পড়া ৪ অভিযুক্ত হচ্ছেন জৈন্তাপুরের মল্লিফৌদ গ্রামের ওয়াজিদ আলীর পুত্র লিয়াকত আলী, নয়াখেল গ্রামের মতিউর রহমানের পুত্র ফয়েজ আহমদ বাবর, আদর্শ গ্রামের জালাল মিয়ার পুত্র শামীম আহমদ ও খারুবিল গ্রামের আলী আহমদের পুত্র মো: হোসাইন আহমদ।

চার্জশীটে অভিযুক্তরা হচ্ছে, জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্ত গ্রামের খাতির আলীর পুত্র নজরুল ইসলাম, হরিপুর গ্রামের লাল মিয়ার পুত্র জুয়েল আরমান, চাল্লাইন গ্রামের সাইফ উদ্দিনের পুত্র নুরুদ্দিন মড়া, ঘাটেরছটি গ্রামের লুৎফুর রহমান কালার পুত্র এম জেড জাহাঙ্গীর, শফিকুর রহমানের পুত্র তোফায়েল আহমদ, আলু বাগান গ্রামের মোস্তফা মিয়ার পুত্র সৈয়দ রাজু, বাউরবাগ মল্লিফৌদ গ্রামের মোহাম্মদ আলী মড়ার পুত্র ফারুক আহমদ, হাটিরগাঁও গ্রামের হোসেন মিয়ার পুত্র শাব্বির আহমদ, আদর্শ গ্রামের আইয়ুব আলীর পুত্র মনির মিয়া, লক্ষীপুর পূর্ব গ্রামের মনির মিয়ার পুত্র তাজ উদ্দিন, সরুফৌদ গ্রামের সিদ্দিক আলীর পুত্র হোসেন আহমদ উরফে টাটা হোসেন, সরুখেল পশ্চিম গ্রামের আবুল হোসেনের পুত্র সুলতান আহমেদ ও বাউরবাগ গ্রামের আব্দুল হান্নানের পুত্র নুরুল ইসলাম। জব্দ করা ভিডিও ফুটেজ দেখে এই ১৩ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে চার্জশীটে উল্লেখ করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

গত ২৫ জানুয়ারি সিলেটের আদালত প্রাঙ্গনে দুই সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনা ঘটে। আক্রান্তরা হচ্ছেন যমুনা টেলিভিশনের ক্যামেরাপার্সন নিরানন্দ পাল ও যুগান্তরের চিত্রগ্রাহক মামুন হাসান। এ ঘটনায় নিরানন্দ পাল বাদী হয়ে লিয়াকত আলী ও ফয়েজ আহমদ বাবরকে প্রধান অভিযুক্ত করে আরও ১৫/১৬ জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের করেন।

শেয়ার করুন