সিলেটে অভিষেক ম্যাচ স্বরণীয় করতে পারলো না বাংলাদেশ

মিজান আহমদ চৌধুরী, সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম থেকে : সিেেলটে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অভিষেকটা স্বরণীয় হতে পারেনি। সফরকারী শ্রীলংকার কাছে ৭৫ রানে বিশাল ব্যবধানে হারে হারে তারা।

শ্রীলংকার বিপক্ষে সিলেটে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে টসে জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ দলের কাপ্তান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।দলে রয়েছে ৪টি পরিবর্তন। আগের ম্যাচে দলে অভিষেক হয়েছিলো ৪ জনের তবে এবার সংখ্যাটা চার না হলেও নেহাত কম নয়। এবার সংখ্যাটা দুয়ে। এই ম্যাচের মধ্যে দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথচলা শুরু হচ্ছে সিলেটের লকাল বয় আবু জায়েদ রাহীর ও মেহেদি হাসানের।ইঞ্জুরি কাটিয়ে দলে ফিরেছেন হার্ড হিটার ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল।তাকে জায়গা করে দিতে আগের ম্যাচে অভিষেক হওয়া সিলেটের লোকাল ম্যান জাকির দলে চান্স পাননি। তাছাড়া আফিফ হোসেনের পরিবর্তে খেলবেন মো: মিথুন।

এদিকে সিলেটে টাইগারদের অভিষেক ম্যাচকে ‘বিশেষ’ করে রাখতে ম্যাচের টসের জন্য রাখা হয় বিশেষ কয়েনের ব্যবস্থা। বিশেষায়িত কয়েন দিয়েই ম্যাচে টস করতে নামেন বাংলাদেশ ও শ্রীলংকা দলের অধিনায়ক।

২১১ রানের বিশাল টার্গেট তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের কাছে একটি তথ্য নিজেদের পক্ষে ছিলো ।সেটি হলো সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ইনিংসে যারা ব্যাট করে তারা পরিসংখ্যান বিবেচনায় বেশি জয় পেয়েছে তারা।তবে স্বাগতিক দল এই পরিসংখ্য্যানকে মিথ্যে প্রমাণ করে শুরুতেই মাত্র ২২ রানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে।

দ্বিতীয় ওভারেই আগের ম্যাচে ফিফটি করা সৌম্য সরকার শূণ্য রানে ধানাঞ্জয়ের বলে মেন্ডিসের তালু বন্দি হন। তামিম একপাশ আগলে রাখলেও মুশফিক (৬) ও মিথুনের (৫) দ্রুত বিদায়ে চাপে পড়ে দল। চতুর্থ উইকেট জুটিতে তামিম ও রিদায় বাংলাদেশ দলকে আশার আলো দেখাতে থাকেন।

তবে দলীয় ৫৯ রানে তামিমের বিদায়ে দর্শক গ্যালারী খালি হতে থাকে। কারণ এমন ম্যাচে বাংলাদেশ দলের নির্ভরতার প্রতিক একমাত্র ছিলে তামিম ইকবাল। তামিমের বিদায়ে হয়তো দর্শকেরা বুঝতে পেরেছিলেন যে এই ম্যাচে বাংলাদেশের আর কোন আশা নেই । তাই বাড়ি ফেরাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। তবে ¯্রুতের বিপরীতে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ একপ্রান্তে অবিচল ছিলেন। রান আাুটের শিকার হওয়ার আগে করেন ৪১ রান। শেষ দিকে সাইফুদ্দিন ২০ ও মেহেদি ১১ রান করলে ১৩৫ রানের বেশী করতে পারেনি বাংলাদেশ।

শ্রীলংকার হয়ে মাধুসংখ্যে ও গুনাতিলাকা দুটি এবং ধানাঞ্জয়,সানাকা,আপনছো ও উদানা একটি করে উইকেট লাভ করেন।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকে বাংলাদেশের বোলারদের উপর চড়াও হয়ে খেলতে থাকের লঙ্কানদের দুই ওপেনিং ব্যাটসম্যান গুনাতিলাকা ও মেন্ডিস। নিজের অভিষেক ম্যাচে ওপেনিং বোলার হিসেবে বল করা রাহী নিজের প্রথম ওভারেই দিয়ে দেন ১২ রান। এর পর রানের লাগাম টাইগারদের অন্য বোলাররা টেনে ধরতে পারেনি। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ৬৩ রান তুরে নেয় সফরকারী লঙ্কানরা। তবে ম্যাচে দুই দুইবার চান্স পেয়েও ৪২ এর বেশী রান করতে পারেননি গুনাতিলাকা।

তবে চতুর্থ ওভারে তামিম ইকবাল গুনাতিলাকার ক্যাচ মিস করলেও সৌম্য সরকারের করা একাদশ ওভারে তিনি ক্যাচটি লুফে নিতে ভ’ল করেননি। যার ফলে ৯৮ রানের ওপেনিং জুটি ভাঙ্গে।দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে মেন্ডিসকে সঙ্গে নিয়ে আরো আগ্রাসী হয়ে উঠেন পেরেরা। মাত্র ২৬ বলে ৫০ রান সংগ্রহ করে এই জুটি । তবে ১৭ বলে একটি ছয় ও তিনটি চারের সাহায্যে ৩১ রান করে পেরেরা ফিললে ভাঙ্গে এই জুটি। লোকাল বয় রাহী করা বলে সৌম্য সরকারের হাতে লং অফে ক্যাচ দেন তিনি। এরপর দারুণ খেলতে থাকা মেন্ডিসকে (৭০) মুস্তাফিজ ফেরালে তিন উইকেটে ১৬০ রানে পরিণত হয় শ্রীলংকা। তবে উইকেট পড়লেও রানের চাকা দুর্দান্ত গতিতে চলতে থাকে। শেষ দিকে সানাকা ১১ বলে ৩০ ও তারাঙ্গা ১৩ বলে ২৫ রান করলে ২১০ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় লঙ্কান বাহিনী।

বাংলাদেশের হয়ে রাহী ,মুস্তাফিজ,সাইফউদ্দিন ও সৌম্য একটি করে উইকেট লাভ করেন।

 

শেয়ার করুন