লিডিং ইউনিভার্সিটিতে চারদিনব্যাপী ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলন শুরু

লিডিং ইউনিভার্সিটির ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন দানবীর ড. রাগীব আলী-ছবি সিলেটের সকাল

সিলেটের সকাল রিপোর্ট ॥ সিলেটের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় লিডিং ইউনিভার্সিটিতে চারদিনব্যাপী মডেল ইউনাইটেড ন্যাশন্স ক্লাবের ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলন ‘লিডিং ইউনিভার্সিটি মডেল ইউনাইটেড ন্যাশন্স ২০১৮’ গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে। সম্মেলন চলবে আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
সম্মেলনে বিশ্বের ৮টি দেশের ৩৮০ জন প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন। দেশ-বিদেশের ৪৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন।
আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ সুরমাস্থ ময়ূরকূঞ্জ কনভেনশন হলে নৈশভোজে অংগ্রহণের মাধ্যমে সম্মেলনের পর্দা নামবে।
বৃহস্পতিবার বেলা দুইটায় রিকাবীবাজারস্থ কবি কাজী নজরুল অডিটোরিয়ামে চারদিনব্যাপী মডেল ইউনাইটেড ন্যাশন্স সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট শিল্পপতি দানবীর ড. রাগীব আলী। অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. কামরুজ্জামান চৌধুরী। বক্তব্য রাখেন রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশনের সচিব ইঞ্জিনিয়ার মো. লুৎফুর রহমান। সম্মেলনে এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘সুন্দর আগামীর জন্য শান্তিপূর্ণ ও সর্বব্যাপী সমাজ প্রতিষ্ঠা’। এলইউমুনা’র উপদেষ্টা তাহরিমা চৌধুরী জান্নাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ও রাফিয়া ফেরদৌসির সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি দানবীর ড. রাগীব আলী তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমাদের জাতীয় জীবনের অগ্রগতির মূলমন্ত্র হচ্ছে শিক্ষা। শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতি উন্নতি লাভ করতে পারে না। এ কারণেই শিক্ষাকে জাতির মেরুদন্ড বলা হয়। শিক্ষা যে শুধু একটি জাতির মেরুদন্ড তা নয়, বরং শিক্ষা মানুষের নৈতিক চরিত্র গঠনের শ্রেষ্ঠ হাতিয়ার। সুনির্দিষ্ট দর্শনভিত্তিক শিক্ষা মানুষকে সব ধরণের অসদাচরণ থেকে রক্ষা করে আলোকিত মানুষ, সমাজ ও একই সঙ্গে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলে। তিনি আরো বলেন, এ ধরনের সম্মেলনের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীরা শিখতে পারে কিভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হয়, কিভাবে নেতৃত্বের গুণাবলী অর্জন করতে হয়। একই সঙ্গে বিশ্বের কূটনীতি সম্পর্কেও ব্যাপক ধারণা লাভ করা যায়।
প্রসঙ্গত, ছায়া জাতিসংঘ বা মডেল ইউনাইটেড ন্যাশন্স জাতিসংঘের একটি অনুরূপ অনুশীলন- যার লক্ষ্য হচ্ছে গবেষণা, বিতর্ক, উপস্থাপন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং কূটনীতি বিষয়ে একজন প্রতিযোগীকে শিক্ষিত করে তোলা। এবারের সম্মেলনে মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মো. মতিউর রহমান আলেক।
তার অধীনে এই সচিবালয় পরিষদে আরও থাকবেন দুইজন সহকারী মহাসচিব, একজন পরিচালক, একজন কর্মচারী প্রধান, নয়জন অধীনস্থ মহাসচিব, এগার জন পরিচালক, চার জন সহকারী পরিচালক, তিন জন ঊর্ধ্বতন কার্যনির্বাহক এবং বাইশ জন কার্যনির্বাহক। চারদিনব্যাপী সম্মেলনটি আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিগণ জাতিসংঘের বিভিন্ন কমিটির অধীনে বিশ্বের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে একটি সমাধানপত্র পেশ করবেন। এই সমাধানপত্র পরবর্তীতে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে প্রেরণ করা হবে।

শেয়ার করুন