লালমাটিয়ায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নানা পরিকল্পনার কথা জানালেন মেয়র আরিফ

সিলেটের সকাল রিপোর্ট :: সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, ‘দক্ষিণ সুরমার লালমাটিয়া এলাকা ডাম্পিং এরিয়াটি আপাতত স্থানান্তরের কোনো পরিকল্পনা নেই, তবে এই এলাকায় ওয়ার্ল্ড ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় সুষ্ঠু ময়লা ব্যবস্থাপনা, গ্রীণ ভ্যালিসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা রয়েছে। যা বাস্তবায়ন হলে এলাকার বর্জ্য সমস্যার সমাধান হবে।’

সোমবার সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে দক্ষিণ সুরমার লালমাটিয়ায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য অপসারণ ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতায় আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান।

সিলেট মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের রাজনীতিক ফেলো মোহাম্মদ মুর্শেদ আহমদ মুকুল ও সিলেট জেলা যুবলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের রাজনীতিক ফেলো মো. জাহিদ সারোয়ারের যৌথ সঞ্চালনায় মতবিনিময়ে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবু জাহিদ, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল এন্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জহির বিন আলম।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ‘সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ২৭নং ওয়ার্ড এবং দক্ষিণ সুরমার এলাকার অন্তর্ভুক্ত সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ডাম্পিং এরিয়া সিলেট -ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কের লালমাটিয়া এলাকায় প্রতিদিন ময়লা ফেলে এলাকার পরিবেশ দূষণ, কৃষি জমি ও কৃষকের ক্ষতি, মৎস্য সম্পদের ক্ষতি এবং সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ রোডে চলাচলকারী যানবাহনের চালক ও জনসাধারণ এবং ট্রেন যাত্রীরা মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুকির মধ্যে রয়েছেন। সড়কের পাশে ডাম্পিং এরিয়াটি থাকায় দুর্গন্ধে এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত যেমনি দুরূহ তেমনি প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকার বাতাস দূষিত হয়ে বসবাসকারী মানুষের ব্যাপক শারীরিক ও পরিবেশগত সমস্যা হচ্ছে।’

‘এছাড়া পার্শ্ববর্তী ভাড়েরা বিলসহ হাওর-বাওরের পানি বিনষ্ট হয়ে যেমনি মৎস্য সম্পদের ক্ষতি সাধন হচ্ছে তেমনি প্রায় ১শ একর জমি এবং ৫শ কৃষক ফসল উৎপাদন করতে গিয়ে বিভিন্ন রোগ বালাইয়ের শিকার হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ২৫০ থেকে ২৬০-৭০ মেট্রিক টন ময়লা এই ডাম্পিং এলাকায় ফেলা হয়। কিন্তু এর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা না থাকায় হাসপাতাল ও ক্লিনিকের অপসারিত বর্জ্য সহ অন্যান্য বর্জ্য মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। এ থেকে উত্তরণের জন্য ডাম্পিং এলাকাটি অন্যত্র স্থানান্তর এবং এই এলাকায় সিটি কর্পোরেশন কর্মকর্তাদের আবাসিক কমপ্লেক্স নির্মাণ স্কুল কলেজ সহ বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণের জন্য সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর সুপারিশ করা হয়।’

বক্তব্যে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা চেয়ারম্যান আবু জাহিদ বলেন, লালমাটিয়ার বর্জ্যরে অপকারিতা বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি, দক্ষিণ সুরমা এলাকাবাসী সহ এই রোডে চলাচলকারী মানুষের ক্যান্সার সহ বিভিন্ন রোগ বালাইয়ের ফিরিস্তি তুলে ধরেন। তিনি লালমাটিয়া থেকে সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য অপসারণের ডাম্পিং এলাকা স্থানান্তরের জন্য সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান।

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক সাইফুল আলম রুহেল, সিলেট জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও সদস্য এ.জেড রওশন জেবিন রুবা, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলর রোকশানা বেগম শাহনাজ এডভোকেট, জেলা পরিষদ সদস্য নুরুল ইসলাম ইছন, মতিউর রহমান মতি, সিলেট প্রেসক্লাবে সাবেক সহসভাপতি আমজাদ হোসেইন, সাবেক কোষাধ্যক্ষ আফতাব উদ্দিন, দক্ষিণ সুরমা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এম. আহমদ আলী, সমাজসেবী আফজল উদ্দিন, এডভোকেট মুহাম্মদ তাজ উদ্দিন, সাংবাদিক মঈন উদ্দিন, এডভোকেট খালেদ জুবায়ের, উজ্জ্বল রঞ্জন চন্দ, রীনা আক্তার প্রমুখ।

সভায় উপস্থিত ছিলেন ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল এর সিনিয়র রিজিওনাল কো অর্ডিনেটর সুদীপ্ত চৌধুরী, প্রোগ্রাম ম্যানেজার সানিয়া রহমান, ইউকে এইড এর টিম লিডার আইলিন বেকার,ডিএফ ্আইডির এডভাইজার ইউলিয়াম টার্নার।

মতবিনিময় সভা শেষে উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবু জাহিদকে আহ্বায়ক সাংবাদিক এম আহমদ আলীকে সদস্য সচিব করে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি স্টেশন রোডস্থ দক্ষিণ সুরমা সমাজ কল্যাণ সমিতির কার্যালয়ে পরবর্তী সভা আহ্বান করা হয়েছে।

শেয়ার করুন