যেসব অভ্যাস আপনাকে রাখবে মানসিক চাপমুক্ত!

সিলেটের সকাল ডেস্কঃ ব্যস্ততাপূর্ণ জীবনে প্রতিদিনের বিভিন্ন কাজের মাঝে মানসিক শান্তির চেয়ে ক্লান্তিই বেশি কাজ করে। প্রচণ্ড মানসিক চাপ ও নানান দুশ্চিন্তায় স্বাভাবিক কাজও অনেক সময় ঠিকমতো করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। তবে এমন ব্যস্ততা ভরা জীবনেও অনেকেই দারুণ উৎফুল্ল ও খোশমেজাজে থাকেন। কীভাবে এত হালকা মেজাজে থাকেন তারা?

সেই রহস্য উন্মোচন করেছেন আমেরিকার লাইফ, ক্যারিয়ার ও মডার্ন ফ্যামিলি কোচ অ্যালিসন টাস্ক। তিনি জানিয়েছেন কীভাবে আপনি হাজারও ব্যস্ততার ভিড়ের মাঝে থেকেও মানসিক চাপ মুক্ত থাকতে পারবেন।

সাহায্যকারীর কাছ থেকে সাহায্য পাওয়া

অনেক স্বামী-স্ত্রী যুগল নিজের পরিবার সামলিয়ে, সন্তানের দেখাশোনা করে, চাকরি করেও সবসময় স্বতঃস্ফূর্ত থাকেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে কখনও মনে হবে না, তাদের মাঝে কোনো মানসিক দুশ্চিন্তা বা চাপ রয়েছে। কারণ তারা পরিবারের কাজের জন্য অথবা শিশুর দেখভালের জন্য সাহায্যকারীর কাছ থেকে সাহায্য পেয়ে থাকেন। সাহায্যকারী যে সবসময় ফুলটাইম কাজ করবেন তাও নয়। অল্প কিছু সময়ের জন্য সাহায্যকারীর সাহায্যে কিছু কাজ গুছিয়ে রাখতে পারলে অনেকটা মানসিক চাপমুক্ত থাকা সম্ভব হয়।

ঘুম, স্বাস্থ্যকর খাবার ও শরীরচর্চার ব্যাপারে গুরুত্ব

অ্যালিসন জানান, তার সবচেয়ে পুরানো ও বয়স্ক একজন ক্লায়েন্টের সহজ ও চিন্তামুক্ত জীবনযাপনের মূলমন্ত্র হলো—দিনের মাঝে সবচেয়ে বেশি খাবার সকালে খান, প্রতিদিন সকালে শরীরচর্চা করেন এবং রাত গভীর হবার আগেই ঘুমিয়ে পড়েন। একইসঙ্গে পর দিন সকালে দ্রুত ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করা। অ্যালিসন নিজেও তার ক্লায়েন্টের সাথে একমত। খুব সাধারণ এই নিয়মগুলো সঠিকভাবে মেনে চলতে পারলে দুশ্চিন্তা কমে যায় অনেকটাই।

নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান

শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক সুস্থতার প্রয়োজনীয়তা অনেক। দুঃখজনক হলেও সত্যি, এই ব্যাপারটা অনেকেই বুঝতে চান না। যে কারণে মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি একেবারেই যত্ন ও খেয়াল রাখতে চেষ্টা করেন না কেউ কেউ। এরই ফলাফল স্বরূপ দেখা দেয় স্ট্রেস। যা একটা সময়ের পর বাড়তে শুরু করে। অ্যালিসনের মতে, যেকোনো ছোট ও আপাতদৃষ্টিতে কম গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারেও নিজের মনে কোনো প্রভাব তৈরি হয় কিনা সেটা লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন।

নাটকীয়তা থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকা

যারা নিজের মতো শান্তিতে থাকতে পছন্দ করেন, তারা যেকোনো ধরনের নাটকীয়তা থেকে নিজেদের নিরাপদ দূরত্বে রাখার চেষ্টা করেন। কারণ তারা খুব ভালোভাবেই জানেন, জীবনে নাটকীয়তা যত কম থাকবে মানসিক শান্তি তত বেশি থাকবে।

নিজেকে প্রাণবন্ত রাখতে নিজেই যথেষ্ট

সত্য হচ্ছে সকলেই ক্লান্তি অনুভব করেন। সকলেরই একটা সময় পর নিজস্ব কিছু সময়ের প্রয়োজন হয়। মানসিক চাপমুক্ত মানুষেরা জানেন, কখন তাদের বিশ্রাম প্রয়োজন। কখন তাদের কাজ থেকে বিরতি নিয়ে নিজের মতো করে সময় কাটানো প্রয়োজন। এমন সময়ে তারা নিজেদেরকে সময় দেন। পছন্দের বই পড়ে, সিনেমা দেখে নিজের মাঝে তৈরি হওয়া ক্লান্তিকে দূর করার চেষ্টা করেন। যতক্ষণ না পর্যন্ত নিজের মাঝে তৈরি হওয়া ক্লান্তি পুরোপুরিভাবে দূর হচ্ছে, তারা নিজেদের সাথে সময় কাটানো অব্যাহত রাখেন।

খেলাধুলা অথবা সৃজনশীলতার প্রতি আগ্রহী

নিজের পছন্দনীয় যেকোনো খেলাধুলা অথবা সৃজনশীল কাজ যেমন—ছবি আঁকা, ভাস্কর্য তৈরি করা, গান গাওয়া, নাচ করার মতো কাজগুলোকে ভালোবাসা এবং প্রতিদিনের জীবনে এই কাজগুলোর চর্চা অব্যাহত রাখা। এতে করে সাধারণভাবেই মন অনেক বেশি হালকা ও দুশ্চিন্তামুক্ত হয়।

বেশি পরিকল্পনা ও দুশ্চিন্তা থেকে দূরে থাকা

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আমরা কোনো একটা কাজের আগে অহেতুক অনেক দুশ্চিন্তা করি, পরিকল্পনা তৈরি করি। যেকোনো কাজের আগে পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তবে অতিরিক্ত পরিকল্পনা ও দুশ্চিন্তা ক্ষেত্র বিশেষে একেবারেই অপ্রয়োজনীয়। শুধু মানসিক চাপ বৃদ্ধি ছাড়া এসবের কোনো ভূমিকাই থাকে না। তাই বোঝার চেষ্টা করতে হবে কোন কাজের গুরুত্ব কেমন, কতটা পরিকল্পনা করা প্রয়োজন।

প্রাণোচ্ছ্বলভাবে হাসা ও জীবনকে উপভোগ করতে শেখা

নিজের জীবনকে উপভোগ করতে চাইলে প্রাণ খুলে হাসার চেষ্টা করতে হবে। সকল পরিস্থিতিতে নিজেকে প্রাণবন্ত রাখতে চাইলে ও জীবনকে উপভোগ করতে চাইলে বেশি বেশি হাসার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

সূত্ররিডার্স ডাইজেস্ট

শেয়ার করুন