মালদ্বীপের সংসদ ভবন দখলে নিয়েছে সেনারা

সিলেটের সকাল ডেস্ক :: মালদ্বীপে কারাবন্দি রাজনীতিকদের মুক্তি দিতে প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ ইয়ামিনের অস্বীকৃতিকে কেন্দ্র করে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে দেশটির সংসদ ভবন দখলে নিয়েছে সেনাবাহিনী। একইসঙ্গে বিরোধী দলীয় দুই সাংসদকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল ও শীর্ষ প্রসিকিউটরকে অপসারণের জন্য রবিবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) পার্লামেন্টে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে পিটিশন দাখিল করা হয়। এর পরপরই দেশটির সেনারা সংসদ ভবন ঘিরে ফেলে।

এদিকে মালদ্বীপের বিরোধী দলীয় নেতাদের দাবি, মালদ্বীপে ২০০৮ সালে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতাকে কেন্দ্র করে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদকে ক্ষমতাচ্যূত করা হয়। যদিও এর পর মালদ্বিভিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টির (এমডিপি)সহ বিরোধী দলগুলোর একটি জোট গঠন করে দেশটিতে গণতন্ত্র ফেরাতে কাজ করছিলেন নাশিদ।

এমডিপি নেতাদের দাবি, প্রেসিডেন্ট নাশিদসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে দণ্ডাদেশ পাল্টে সুপ্রিম কোর্ট তাদের মুক্তির যে রায় দিয়েছে তা পালনে ব্যর্থ হওয়ায় অ্যাটর্নি জেনারেল ও প্রসিকিউটরের অপসারণে পিটিশন দাখিল করা হয়।

এদিকে সুপ্রিম কোর্টের আদেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দেশটির প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ অনিল স্থানীয় এক বেসরকারি টিভি চ্যালেনকে দেয়া বক্তব্যে বলেন, ‘আমি সকল আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে বলেছি, এমন অবৈধ আদেশ যেন তারা না মানেন।’

যদিও সাবেক প্রেসিডেন্ট নাদিশ টুইটারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় অনিলের এই বিবৃতিতে ‘অভ্যুত্থানের সমতুল্য’ বলে দাবি করেন।

আদালতের রায় নিয়ে দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি হলেও জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলোর পক্ষ থেকে এ রায়ের প্রতি সম্মান দেখানো হয়েছে। একইসঙ্গে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইয়ামিনকে সর্বোচ্চ আদালতের রায় মেনে নেয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন দেশগুলো।

অবশ্য সুপ্রিম কোর্টের রায় প্রেসিডেন্ট ইয়ামিনের জন্য একটি বড় ধাক্কা বলেও মনে করেন দেশটির রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কারণ, ইয়ামিন অস্বীকার করলেও এরই মধ্যে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, দুঃশাসন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।

দেশটির আদালতের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী পার্লামেন্টের ১২ সদস্য পুনর্বহাল হওয়ায় ৮৫ সদস্যের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পায় বিরোধী দল এমডিপি।

তবে ওই ১২ জনের মধ্যে আব্দুল্লাহ সিনান ও ইলহাম আহমেদ নামে দুই নেতা আদেশের কয়েক মাস পর দেশে ফিরলে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে বিমানবন্দরে তাদের আটক করা হয়।

এদিকে সংসদ ভবন ঘেরাওয়ের পর দেশটির সেনাপ্রধান আহমেদ শিয়াম বলেছেন, ‘অনিলের পরামর্শ অনুসরণ করবে নিরাপত্তা বাহিনী। আমরা দেশের সংকটকালে চুপ হয়ে থাকতে পারি না।’ সূত্র: আল জাজিরা, দ্য হিন্দু

শেয়ার করুন