বিয়ানীবাজারে প্রকাশ্য দিবালোকে যুবক খুন

মায়ের আর্তনাদ

বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি ॥ বিয়ানীবাজার পৌর এলাকার খাসাড়ীপাড়ায় পারিবারিক বিরোধের জের ধরে প্রকাশ্য দিবালোকে আলম হোসেন (২৫) নামের এক যুবককে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার বেলা ৩টায় নিহতের বাড়ির সামনে বড়ভাইয়ের শ্যালক ও তার সহযোগীদের ছুরিকাঘাতে নৃশংস এ হত্যাকান্ডটি ঘটে। পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য লাশ সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছে।
একাধিক সূত্রে জানা যায়, নিহত আলম হোসেনের বড় ভাই ফ্রান্স প্রবাসী জামিল হোসেনের সাথে বিয়ে হয় পাশের বাড়ির সোনা মিয়ার কন্যা নাজমিন বেগমের। সোনা মিয়া নিহত আলম হোসেনের পিতার আপন চাচাত ভাই। বিয়ের পর থেকে জামিল তার মা সহ পরিবারের অন্যদের সাথে বৈরী আচরণ এবং টাকা পয়সা দেওয়া বন্ধ করে দেয়। এ নিয়ে দেশে নাজমিনের সাথে পারিবারিক কলহ শুরু হয়। নাজমিনের পরিবার ও জামিলের পরিবারের মধ্যে এ বিষয়ে কয়েক দফা বাকবিতন্ডা ও ঝগড়া হয়। এর জের ধরে শুক্রবার বেলা ২টায় নাজমিনের ভাই ফুয়াদ ও তার আপন চাচা এবং চাচাতো ভাইয়েরা মিলে আলমের পরিবারের সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত হয়। এ সময় প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হয় মৃত আলা উদ্দিনের পুত্র মোঃ রুবেল আহমদ (২৫) ও মৃত মঈন উদ্দিনের পুত্র জাহেদ আহমদ (২২)। এক পর্যায়ে স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষ যার যার বাড়িতে চলে যায়। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঐ ঘটনার সাথে আলম হোসেন জড়িত ছিল না। সে সংঘর্ষেও সময় পৌরশহরে অবস্থান করছিল বলে স্থানীয়রা জানান। বেলা ৩টার দিকে আলম হোসেন শহর থেকে বাড়ি ফিরছিল। এ সময় রাস্তায় ওঁৎ পেতে থাকা প্রতিপক্ষের লোকজন তার ওপর সশস্ত্র হামলা চালায়। তাদের উপর্যুপরি আঘাতে ঘটনাস্থলেই মারা যা য় আলম হোসেন। স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে বিয়ানীবাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে বিয়ানীবাজার থানার ওসি (তদন্ত) জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে মতিউর রহমানের শ্যালক জকিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা জামিল আহমদ ও মতিউর রহমানের স্ত্রী রুমা বেগমকে আটক করে।

নিহত আলমের গর্ভধারিনী মা এ প্রতিবেদকের সাথে কেঁদে কেঁদে বলেন, ‘আমার পুয়ার বউ (পুত্রবধূ) নাজমিনের কারণে তার ছেলে আলম খুন হয়েছে। তিনি বলেন, নাজমিনের ভাই ফুয়াদ, চাচা মতিউর, মতিউরের শ্যালক জামিল, চাচাতো ভাই শিপন, শাহজাহান, খুদেজা, সুমাইয়া, মইরম, শরীফ মিলে আমার পুত্রকে খুন করেছে। আমি তাদের ফাঁসি চাই, ফাঁসি চাই বলে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন।’
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, নিহত আলম হোসেন ৩ ভাই ও ১ বোনের মধ্যে দ্বিতীয়। বড় ভাই ফ্রান্স প্রবাসী জামিল ও ছোট ভাই সাবেক ছাত্রলীগ নেতা কাতার প্রবাসী এলেক্স কামাল। তাদের একমাত্র বোন ফরিদা ইয়াসমিন মিনুর বিয়ে হয়েছে সম্প্রতি।

বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহজালাল মুন্সী বলেন, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ দু’জনকে গ্রেফতার করেছে। তিনি বলেন, এখনো মামলা হয়নি, তবে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তিনি বলেন, খুনের সাথে জড়িত অপর অপরাধীদের গ্রেফতারে পুলিশ সক্রিয় রয়েছে। এজন্য তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

 

শেয়ার করুন