প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা পেলেন পঙ্গুত্ব বরণ করা সিলেটের ছাত্রলীগ কর্মী শাহীন

প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে অনুদানের চেক গ্রহণ করছেন ছাত্রলীগ কর্মী শাহীন

ডেস্ক রিপোর্ট ॥ সিলেট নগরীর সোবহানীঘাটে ধারালো অস্ত্রের কোপে গত আগস্ট মাসে আহত হয়েছিলেন ছাত্রলীগ কর্মী শাহীন আহমদ। এ ঘটনায় পঙ্গুত্ব বরণ করেন তিনি। কেটে ফেলা হয় একটি হাত। সেই আহত শাহীনকে ১০ লাখ টাকা অনুদান ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই অনুদানের টাকা শাহিনের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। শুক্রবার বিকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই অনুদান হস্তান্তর করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে এই অনুদানের চেক শাহীনের হাতে তুলে দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান এবং কানাডা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সরওয়ার হোসেন।
শাহীন আহমদ সিলেট সদর উপর পীরপুরের টুকেরবাজারের নুরুল আমিনের ছেলে। তিনি মদন মোহন কলেজের শিক্ষার্থী। সেদিন আসিফ নামের আরও এক ছাত্রলীগ কর্মী আহত হয়েছিলেন।
এর আগে গত ১৮ জানুয়ারি পঙ্গুত্ব বরণ করে নেয়া ছাত্রলীগকর্মী শাহীন আহমদকে অনুদান হিসেবে দেয়া ১০ লাখ টাকা অনুদানের চেকে স্বাক্ষর করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই চেকটিই শুক্রবার বিকালে শাহীনের হাতে তুলে দেয়া হলো। প্রধানমন্ত্রীর কাছে শাহীনকে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে সহযোগিতা করেন কানাডা আওয়ামী লীগের সভাপতি সরওয়ার হোসেন।
সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহফুজ চৌধুরী জয় জানিয়েছেন- ‘গত ১৮ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কানাডা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সরওয়ার হোসেনের কাছে শাহীনের ব্যাপারে খোঁজখবর নেন। এসময় সরওয়ার হোসেন শাহীনের ব্যাপারে সবকিছু অবগত করেন প্রধানমন্ত্রীকে। এরপরই প্রধানমন্ত্রী শাহীনের জন্য ১০ লাখ টাকার অনুদান ঘোষণা করেন। সরকারী কর্মকর্তার মাধ্যমে অনুদানের বইয়ে স্বাক্ষর করেন। সেই অর্থের চেকই শুক্রবার বিকালে শাহীনের হাতে পৌঁছুলো। এসময় সরওয়ার হোসেনও সাথে ছিলেন। আহত শাহীনের নামে বরাদ্দ হওয়া অনুদানের টাকা প্রাপ্তিতে সহযোগিতা করেছেন মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রাহাত তরফদার ও সাবেক সদস্য কিশোয়ার জাহান সৌরভ।’
প্রসঙ্গত, গত বছরের ৭ আগস্ট নগরীর সোবহানিঘাট এলাকার জালালাবাদ কলেজে হামলার ঘটনাটি ঘটে। এতে গুরুতর আহতাবস্থায় শাহীনকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। পরে তার একটি হাত কেটে ফেলতে হয়।
এ ঘটনায় শিবিরকে দায়ী করে নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল করেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। মিছিল ও সমাবেশ থেকে হামলাকারী শিবির ক্যাডারদের গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়। পরে সেই রাতে জালালাবাদ কলেজে হামলা ও ভাংচুর করেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

শেয়ার করুন