জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স চতুর্থ বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা পেছানোর দাবি শিক্ষার্থীদের

এমসি কলেজ মানববন্ধন ।। স্বারকলিপি

এহসানুল হক ‍মুন্না, এমসি কলেজ সংবাদদাতা :: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক চতুর্থ বর্ষের (২০১৩-১৪ সেশন) চুড়ান্ত পরীক্ষা পেছানোর দাবি জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, তৃতীয় বর্ষের চুড়ান্ত পরীক্ষার আট মাসের মাথায় কোর্স শেষ না করেই চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণ করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এতে করে শিক্ষার্থীদের ফলে যেমন প্রভাব পড়বে, ঠিক তেমনি করে তৃতীয় বর্ষের মান্নোনয়ন পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা পড়ছেন বিপাকে। এ কারণে পরীক্ষা পেছানো দাবিতে মানববন্ধন এবং স্মারকলিপিও দিয়েছেন তারা।

রোববার সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মুরারী চাঁদ (এমসি) কলেজের প্রধান ফটকে মানববন্ধন করেন ওই প্রতিষ্ঠানের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধনে বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত ফ্যাস্টুন হাতে নিয়ে অবস্থান করেন তারা। এসময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে পরীক্ষা পিছিয়ে নতুন সময়সূচি নির্ধারণের জন্য স্লোগানও দেন তারা।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কলেজের ইংরেজি বিভাগের ছাত্রী লিমা জানান,‘আমরাও চাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সেশনজট মুক্ত হোক। কিন্তু এ সেশন মুক্ত করার নামে এক বছরের পরীক্ষা সাত-আট মাসে নেওয়া হচ্ছে যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য অমানবিক। তাই আমরা চাই অনতিবিলম্বে ৪র্থ বর্ষের পরীক্ষা পেছানো হোক এবং গ্রহণযোগ্য রুটিন দেওয়া হোক।’

পদার্থ বিভাগের মাহবুব জানান, ‘একই সাথে তৃতীয় এবং চতুর্থ বর্ষের চুড়ান্ত পরীক্ষা চলতে পারে না। আমাদের অনেকেরই মানউন্নয়ন পরীক্ষা আছে। কিন্তু বর্তমানে আমাদের যে মূল পরীক্ষার রুটিন করা হয়েছে তা মানউন্নয়ন পরীক্ষার সাথে প্রায় সাংঘর্ষিক। তাই এই রুটিন কোনো ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়!’

মানববন্ধন শেষে কলেজ প্রধান ফটক শেষে বের করা মিছিল ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় আন্দোলনকারীরা ‘অযৌক্তিক রুটিন মানি না, মানব না, মানব না’-এমন স্লোগান দেন তারা। পরে কলেজের অধ্যক্ষ নিতাই চন্দ চন্দ্র বরাবরে স্মারকলিপিও প্রদান করেন তারা।

উল্লেখ্য, আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্নাতক তৃতীয় বর্ষের চুড়ান্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। একই সাথে ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। এ কারণে সিলেটসহ সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনে নেমেছেন চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা।

শেয়ার করুন