ঘনীভূত হচ্ছে মালদ্বীপের রাজনৈতিক সংকট

সিলেটের সকাল ডেস্ক :: মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিনের অভিশংসন বা তাকে গ্রেপ্তারে সুপ্রিম কোর্টের যেকোনো পদক্ষেপ রুখে দিতে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর প্রতি নির্দেশনা দিয়েছে দেশটির অবরুদ্ধ সরকার। রাজবন্দিদের মুক্তি দিতে মালদ্বীপ সরকার অস্বীকৃতি জানানোয় দেশটিতে বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

এর আগে ৪ ফেব্রুয়ারি মালদ্বীপের দুই বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য দেশে ফিরলে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ওই ঘটনার পর প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় সুপ্রিম কোর্ট। দেশটির প্রধান বিরোধী দল মালদ্বীপিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টি (এমডিপি) জানিয়েছে, পার্লামেন্ট স্থগিত করতে সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একটি বৈঠক করতে যাচ্ছিলেন তাদের এমপিরা। কিন্তু তাদের ধরে নিয়ে যায় সশস্ত্র সৈন্যরা।

গত বছরের মার্চ মাস থেকেই মালদ্বীপের সংসদ ‘পিপলস মজলিসে’ নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করে রেখেছেন আবদুল্লাহ ইয়ামিন। এ নিয়ে শেষ পর্যন্ত কথা বলতে বাধ্য হয়েছে জাতিসংঘসহ আরো কয়েকটি দেশ। গণতন্ত্রের স্বার্থে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

গত বৃহস্পতিবার রাতে নয় রাজবন্দিকে মুক্তি ও ১২ আসনে অপসারিত সংসদ সদস্যদের পুনর্বহালে কর্তৃপক্ষকে আদেশ দেয় মালদ্বীপের সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ মানতে অস্বীকার করে ইয়ামিন সরকার। এতে তার ওপর বাড়তে থাকে আন্তর্জাতিক চাপ। রবিবার মালদ্বীপের জাতীয় টেলিভিশনে দেয়া বক্তব্যেও অনঢ় ছিলেন দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ অনীল।

তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্টকে গ্রেপ্তারে সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অসাংবিধানিক ও অবৈধ। তাই আমি পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে কোনো অসাংবিধানিক আদেশ বাস্তবায়ন না করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

১২ সংসদ সদস্যকে সুপ্রিম কোর্ট পুনর্বহালের নির্দেশ দেয়ায় ৮৫ আসনের মালদ্বীপ সংসদে বিরোধীরা এখন সংখ্যাগরিষ্ঠ। তারা চাইলে ইয়ামিনের অভিশংসন করতে পারে। কিন্তু এরইমধ্যে অনির্দিষ্টকালের জন্য সংসদ মূলতবি করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আদালতের আদেশের পর দুই পুলিশ প্রধানকেও অপসারণ করেছে ইয়ামিন সরকার।

শেয়ার করুন