২০ দলীয় জোটের কাছ থেকে সিলেট-৩ আসনে মনোনয়ন আদায় করবে খেলাফত মজলিস

দক্ষিণ সুরমায় বিশাল সমাবেশে অধ্যক্ষ ইসহাক

সিলেটের সকাল রিপোর্ট :: খেলাফত মজলিসের আমীর ও ২০দলীয় জোটের শীর্ষনেতা অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক বলেছেন, ‘বর্তমান সরকারের সময়ে সারাদেশে গুম, খুন আর ধর্ষণের ঘটনা আইয়্যামে জাহিলিয়াতের যুগের বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। জালেম এই সরকার আর বেশী দিন ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। বিদায় হবেই। সুদিন আসবেই।’

শনিবার সিলেটের দক্ষিণ সুরমা কলেজ সংলগ্ন মাঠে সিলেট-৩ সংসদীয় এলাকার (দক্ষিণ সুরমা-ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জের একাশং) খেলাফত মজলিস আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা ২০ দলীয় জোটের সাথে আছি। তাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। সিলেট-৩ সংসদীয় আসনের খেলাফত মজলিসের সিলেট জেলার সহ-সাধারণ সম্পাদক দিলওয়ার হোসাইনকে ২০দলীয় জোটের প্রার্থী ঘোষণার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সর্বস্তরের জনতার দাবির প্রেক্ষিতে এ আসনে ২০ দলীয় জোটের মনোনয়ন আদায় করেই ছাড়বো ইনশাআল্লাহ।’ সিলেট-৩ আসনে শরীক দলসমূহের প্রার্থীদের শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তাদের অন্য স্থানে সুযোগ করে দেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ইসলামী হুকুমত কায়েমে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে অধ্যক্ষ ইসহাক আরো বলেন, ‘ইসলামী আন্দোলনের কর্মীরা জেল-জুলুম আর ফাঁসির মঞ্চকে ভয় করে না। সরকারের কোন অত্যাচার তাদের দমিয়ে রাখতে পারবে না।’

দক্ষিণ সুরমা উপজেলা মজলিসের সভাপতি মাওলানা লুৎফুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে জনসভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে সিলেট জেলা মজলিসের সহ-সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব দিলওয়ার হোসাইন বলেন, ‘স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকেই দক্ষিণ সুরমা-ফেঞ্চুগঞ্জের মানুষ প্রতিটি ক্ষেত্রেই বঞ্চিত রয়েছে। সিলেট নগরের প্রবেশদ্বার হওয়া সত্বেও এই এলাকার জনগণ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকেও বঞ্চিত। সিলেট-৩ নির্বাচনী আসনের সবকটি এলাকার রাস্তাঘাটের বেহাল দশা। দক্ষিণ সুরমায় সরকারি হাসপাতাল আছে, চিকিৎসক নেই। ভালো মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। সর্বোপরি মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত এ আসনের জনগণ। তিনি বলেন, আমি এমপি হতে চাই না; তবে দক্ষিণ সুরমার সন্তান হিসেবে এই আসনের জনগণের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে রাজপথে আন্দোলনের করে যেতে চাই। এজন্য তিনি মজলিস নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকারও আহ্বান জানান।

বিকেল ২টা থেকে শুরু হওয়া জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন দলের নায়েবে আমীর প্রিন্সিপাল হাফিজ মাওলানা মজদুদ্দীন আহমদ, কেন্দ্রীয় যুগ্মমহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, সিলেট জেলা সভাপতি মাওলানা সৈয়দ মুশাহিদ আলী। আরো বক্তব্য রাখেন- সিলেট জেলার উলামা বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা ইমদাদুল হক নোমানী, সহকারী জোন তত্ত্বাবধায়ক মাওলানা সালেহ আহমদ ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল খালিক।

জেলা মজলিস নেতা আশিকুর রহমান, মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন ও মাওলানা ছালেহ আহমদের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- খেলাফত মজলিস সিলেট মহানগর সভাপতি অধ্যক্ষ বজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক এ কে এম আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিলেট জেলার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নেহাল আহমদ, মৌলভীবাজার জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ মো. আব্দুস সবুর, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আহমদ বিলাল, বালাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ আলী আসগর, জেলা শ্রমিক মজলিস সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম, সাধারণ সম্পাদক মতিউল ইসলাম মতিন, ছাত্র মজলিস সিলেট মহানগরের সভাপতি মুহাম্মদ শাহীন, জেলা পূর্ব শাখার সভাপতি মো. বিলাল আহমদ চৌধুরী, পশ্চিম জেলা সভাপতি জাকির হোসেন, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা খেলাফত মজলিসের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান আবদাল, মাওলানা আবু সুলাইমান, শ্রমিক মজলিসের জেলার যুগ্ম সম্পাদক শাহেদ আহমদ, হেলাল আহমদ, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আব্দুল খালেক, সাধারণ সম্পাদক মাস্টার হোসাইন আহমদ, বালাগঞ্জ উপজেলা মজলিসের সহসভাপতি প্রভাষক হোসাইন আহমদ মিসবাহ, দেওয়ানবাজার ইউনিয়ন শাখার সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান, প্রবাসী নেতা মো. খলকু প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন ক্বারী মাজেদুল ইসলাম মাসুম।

এদিকে, দুপুর থেকে জনসভায় অংশ নিতে বিভিন্ন শাখার নেতাকর্মীরা মিছিল সহকারে দক্ষিণ সুরমার জনসভাস্থলে আসতে থাকেন। ফলে পুরো মাঠ নেতাকর্মীতে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। শেষে আমীরে মজলিসের মোনাজাতের মাধ্যমে জনসভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। এরআগে সিলেট-৩ আসনের দলীয় প্রার্থীর হাতে দলীয় প্রতীক ‘দেয়াল ঘড়ি’ তুলে দেন আমীরে মজলিস।

শেয়ার করুন