সিলেটের তিন সাহিত্যিক পেলেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার

সিলেটের সকাল রিপোর্ট :: বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ১৯৬০ সাল থেকে প্রতি বছর বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার দেওয়া হয়। এ বছর দশটি বিভাগে বারোজন লেখক এ পুরস্কার পাচ্ছেন। পুরস্কার প্রাপ্তদের মধ্যে তিনজন সিলেটি স্থান পেয়েছেন। তারা হচ্ছেন- কবিতায় অবদান রাখায় কবি মোহাম্মদ সাদিক, ভ্রমণ সাহিত্যে শাকুর মজিদ ও শিশুসাহিত্যে ঝর্ণা দাশ পুরকায়স্থ।

শনিবার বিকেলে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান সংবাদ সম্মেলনে মাধ্যমে পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন। আসছে ১ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে গ্রন্থমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুরস্কার প্রাপ্তদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন। পুরস্কার হিসেবে তাদের দেয়া হবে এক লাখ টাকা, সনদপত্র ও স্মারক।

কবি মোহাম্মদ সাদিক বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের ১৩ম চেয়ারম্যান। তিনি ১৯৫৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে ১৯৭৬ সালে বি. এ.(সম্মান) এবং ১৯৭৭ সালে এম.এ. ডিগ্রীধারী ড. মোহাম্মদ সাদিক যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় হতে ১৯৯৪-৯৫ সালে পারসোনাল ম্যানেজমেন্ট-এর উপর পড়াশুনা করেন এবং পরে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সিলেটিনাগরী লিপির ওপর তাঁর গবেষণার জন্যে ভারতের আসাম বিশ্ববিদ্যালয় হতে পি. এইচ. ডি. ডিগ্রী লাভ করেন।

তিনি বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে সক্রিয় আছেন। তিনি বাংলা একাডেমি ও এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ-এর জীবন-সদস্য। তিনি জাতীয় কবিতা পরিষদ ও বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাব-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। তিনি কবিতায় অবদানের জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার-২০১৭ এর জন্য মনোনিত হয়েছেন।

শাকুর মজিদ ১৯৬৫ সালের ২২ নভেম্বর বিয়ানীবাজার উপজেলার মাথিউরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মূলত তিনি একজন নাট্যকার। কিন্তু এছাড়াও তার আরো একটি বড় পরিচয় ভ্রমণ কাহিনী রচয়িতা হিসেবে। ভ্রমণের ওপর টেলিভিশনের জন্যে তিনি বহু তথ্যচিত্রও বানিয়েছেন। কবিতা এবং গল্পও লিখেন তিনি। আর পেশায় একজন স্থপতি। সিলেট বেতারে রেডিও নাটক দিয়ে তার নাট্যকার জীবনের শুরু। তিনি ভ্রমণ সাহিত্যে বাংলা একাডেমি সাহিত্য ‍পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন।

অন্যদিকে, সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা থানার সুখাইড় গ্রামে ১৯৪৫ সালের ২৭ জুলাই সম্ভ্রান্ত জমিদার পরিবারে ঝর্ণা দাশ পুরকায়স্থের জন্ম। বাবা সুধাংশু শেখর রায় চৌধুরী ও মা নীলিমা চৌধুরী। সম্ভ্রান্ত এই পরিবারে কন্যা শিশুর আগমনকে লক্ষ্মীর আগমন বলে ধরা হত। তাই তাঁর জন্মতিথিতে উলু ধ্বনিতে মুখর হয়েছিল বাড়ী। শাক বেজেছিল মধুর সুরে। আর ছিল অঝোর ধারায় বৃষ্টি। চাচা বিমলকান্তি সেদিনের সেই পরিবেশের সাথে মিলিয়ে তার নাম রাখলেন ঝর্ণা।

লিখছেন পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে। তাঁর লেখার গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধ। প্রকৃতি ঘনিষ্ঠতা তাঁর রচনার অন্যতম দিক। পাশাপাশি বিজ্ঞান প্রযুক্তিতে উৎসাহী নবীন প্রজন্মকে মানবিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত করতে ভূমিকা রেখে চলেছেন তিনি। শিশু মনস্তত্ত্বের স্বচ্ছ ও সাবলীল প্রকাশে উজ্জ্বল তাঁর শিশু সাহিত্য। সহজ সরল বর্ণনা ও জীবনমুখী ভাবনা তার রচনার প্রাণ। ঝর্ণা দাশের উল্লেখযোগ্য শিশুতোষ গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে- ভুতু ও টুনটুনের স্বপ্ন, ডালির মেম পুতুল, ইভানের কাজলা দিদি, রং মাখা শার্ট, মুশকিল আসান মামা, টুসি আমার টুসি, লালুর মুক্তিযুদ্ধ, মেঘ জোসনার টুপুর, টুলটুলের রঙিন বেলুন, টক ঝাল মিষ্টি।

তিনি বাংলাদেশ শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ১৪২১ এর জন্য মনোনীত হয়েছিলেন ঝর্ণা দাশ পুরকায়স্থ। শিশু সাহিত্যে সামগ্রিক অবদান বিবেচনায় তাঁকে ২০১৭ সালের বাংলা একাডেমি পুরস্কারেও মনোনিত করা হয়েছে।

এই তিনজন ছাড়াও বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০১৭ যারা পেয়েছেন তারা হলেন- কবিতায় কবি মারুফুল ইসলাম, কথাসাহিত্যে মামুন হুসাইন, প্রবন্ধে মাহবুবুল হক, গবেষনায় রফিকউল্লাহ খান, অনুবাদে আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্যে কামরুল হাসান ভূঁইয়া ও সুরমা জাহিদ, নাটকে মলয় ভৌমিক এবং বিজ্ঞান ও কল্পকাহিনিতে মোশতাক আহমেদ।

নাম ঘোষণার আগে শামসুজ্জামান খান জানান, বাংলা একাডেমির কার্যনির্বাহী পরিষদের বৈঠকে পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম চূড়ান্ত করা হয়। যার সভাপতিত্বে ছিলেন কবি আসাদ চৌধুরী।

শেয়ার করুন