সিঙ্গাপুরে অর্থ পাচার: এবি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যানসহ গ্রেফতার ৩

সিলেটের সকাল ডেস্ক :: অর্থ পাচারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় এবি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এম ওয়াহিদুল হকসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া অপর দুজন হলেন ব্যাংকটির হেড অব করপোরেট আবু হেনা মো. মোস্তফা কামাল ও ব্যবসায়ী মো. সাইফুল হক।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে দুদক। দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য গণমাধ্যমকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, অর্থ পাচারের প্রমাণ পাওয়ায় বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মতিঝিল থানায় এবি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও দুই ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও এক ব্যবসায়ীসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে দুদকের সহকারী পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

মামলার আসামিরা হলেন- আরব বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাক্তন চেয়ারম্যান এম ওয়াহিদুল হক, ব্যাংকের প্রাক্তন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এম ফজলুর রহমান ও শামীম আহমেদ চৌধুরী, ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন অ্যান্ড ট্রেজারি শাখার প্রধান আবু হেনা মোস্তফা কামাল, ব্যাংকের হেড অব করপোরেট কাজী মাহফুজ উল ইসলাম, হেড অব অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট (ওবিইউ) মোহাম্মদ লোকমান, প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তা এমএন আজিম ও ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম।

মামলার এজাহারে আসামিদের বিরুদ্ধে অসৎ উদ্দেশ্যে ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে এবি ব্যাংকের বৈদেশিক শাখা থেকে ১৬৫ কোটি টাকা দুবাইয়ে পাচার ও আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন ও সহকারী পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান এবি ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অনুসন্ধান করেন।

এ বিষয়ে আরও জানা যায়, পিজিএফ নামের দুবাইভিত্তিক একটি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে ২০ মিলিয়ন ডলার ঋণ হিসেবে দেওয়ার কথা বললেও ওই কোম্পানির কোনো কর্মকর্তার নাম বা পরিচয় কাগজপত্রে দেখাতে পারেনি এবি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। বরং ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ওই টাকা ব্যক্তিগত হিসাবে স্থানান্তর করেছে।

তিন কিস্তিতে ওই টাকা দুবাই যাওয়ার পর ব্যাংক হিসাব বন্ধ করে দেয় প্রতারক চক্র। পরবর্তীকালে যার কোনো তথ্য এবি ব্যাংকের কাছে নেই। ঋণ প্রদানে আসামিদের সংশ্লিষ্টতা মিলেছে দুদকের অনুসন্ধানে।

উল্লেখ্য, গত ২১ ডিসেম্বর এবি ব্যাংকের প্রাক্তন চেয়ারম্যান এম ওয়াহিদুল হক, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিম আহমেদ ও পরিচালক ব্যারিস্টার ফাহিমুল হক পদত্যাগ করেন।

শেয়ার করুন