সম্মেলনের আড়াই বছর পর বিশ্বনাথ উপজেলা আ’লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি

সভাপতি পংকি খান ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমদ

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি :: সব জল্পনা-কল্পনার শেষে সম্মেলনের প্রায় আড়াই বছর পর সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা আওয়ামী লীগের ৭৬ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দিয়েছে জেলা আওয়ামী লীগ। এ কারণে নেতাকর্মীদের মাঝে বিপুল উৎসাহ-উদ্দিপনা দেখা দিয়েছে। শনিবার রাতে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী ওই কমিটির অনুমোদন প্রদান করেন। বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করেছেন শফিকুর রহমান চৌধুরী।

কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন- সভাপতি পংকি খান, সহ সভাপতি শাহ আসাদুজ্জামান আসাদ, ফখরুল ইসলাম মতছিন, হাজী ইরন মিয়া, সমছু মিয়া, সেলিম আহমদ সেলিম, আখদ্দুছ আলী, হাজী মোঃ আসাদুজ্জামান, জবেদুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমদ, যুগ্ম সম্পাদক আমির আলী চেয়ারম্যান, শাহ ফয়েজ আহমদ সেবুল, মখদ্দছ আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম, আবুল কালাম জুয়েল, আবদুল আজিজ সুমন, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট গিয়াস উদ্দিন, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আবদুল মন্নান, তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক আবদুল মতিন, দপ্তর সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম সাহিদ, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ফখর উদ্দিন মাস্টার, প্রচার সম্পাদক নিখিল পাল, বন ও পরিবেশ সম্পাদক রুনু কান্ত দে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মাহবুব রহমান লিলু, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপিকা রুকিয়া বেগম, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক রনজিত ধর রন, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আবদুল বাহার আনা মিয়া, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক সাধণ চন্দ্র দাস, সাংস্কৃতিক সম্পাদক শামীম আহমদ, স্বাস্থ্য সম্পাদক অধ্যাপক জহির হোসেন, সহ দপ্তর সম্পাদক নুরুল হক মেম্বার, সহ প্রচার সম্পাদক ও প্রকাশনা সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন, অর্থ সম্পাদক নুরুল ইসলাম, কার্যনির্বাহী সদস্য আলহাজ্ব শফিকুর রহমান চৌধুরী, আ.ন.ম শফিকুল হক, অ্যাডভোকেট শাহ ফরিদ আহমেদ, অ্যাডভোকেট শাহ মোশাহিদ আলী, নাজমিন হোসেন, হাজী মজম্মিল আলী, ছয়ফুল হক চেয়ারম্যান, এস এম নুনু মিয়া, অধ্যক্ষ আবদুল মুকিদ, তাজ উদ্দিন আহমদ, শফিক উদ্দিন স্বপন, শেখ নূর মিয়া, কবির আহমদ কুব্বার, আফরোজ বক্স খোকন, মখদ্দুছ আলী, অধ্যক্ষ নেহারুন নেছা, মানিক মিয়া, রিয়াজুল হক, শেখ বাবরুছ আলী, আজিজুর রহমান, জয়ন্ত আর্চায্য, আহমদ আলী, সাজিদ আলী, তপন দাস, আকবর আলী, আবদুল জলিল জালাল, এমদাদুল হক, আনোয়ার আলী, শেখ আজাদ, আখতার হোসেন জুনেদ, মিজানুর রহমান, নাজমুল আলম চৌধুরী অপু, ডাক্তার শানুর হোসেন, ফজর আলী মেম্বার, রফিক হাসান মেম্বার, এনামুল হক মেম্বার, আবুল কালাম, আশিক আলী, আলমগীর চেয়ারম্যান, নিজাম উদ্দিন।

এছাড়া উপদেষ্ঠা পরিষদের সদস্যরা হলেন- খলিলুর রহমান মাস্টার, আপ্তাব উদ্দিন মাস্টার, আলহাজ্ব সুনু মিয়া, এডভোকেট আব্দুর রশীদ লাল মিয়া, বশারত আলী বাচা, মাহবুব মিয়া, তাজ উদ্দিন খান শিশু, শের আলী, শেখ শহিদুল ইসলাম, সাজ্জাদুর রহমান, হাজী আব্দুল জলিল, সমছু মিয়া লয়লুছ, মুক্তিযুদ্ধা আব্দুর রুপ, আব্দুল গফুর, আছাব আলী, সমুজ মিয়া, আতাউর রহমান, অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মনির, আবুল খায়ের লালা, আব্দুল ছোবহান, আমীর আলী, ফারুক আহমদ, মধু মিয়া, আবুল বশর চৌধুরী, মাওলানা বুরহান উদ্দিন, সুনু মিয়া, মুক্তিযুদ্ধা আব্দুস শহিদ চৌধুরী।

প্রসঙ্গত, বিশ্বনাথ উপজেলা আওয়ামী লীগ দুটিভাগে বিভক্ত রয়েছে। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি আলহাজ্ব শফিকুর রহমান চৌধুরী বলয়,অপরটি যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান বলয়। উভয় গ্রুপেই কমিটি আসার পূর্বেই পৃথক পৃথক বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। তবে নব-গঠিত পূর্নাঙ্গ কমিটিতে সভাপতি পদে শফিক চৌধুরীর বলয়ের নেতা পংকি খান ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক পদে আনোয়ারুজ্জামান বলয়ের নেতা ফারুক আহমদ স্থান পেয়েছেন।

২০১৫ সালের ৮ জুন উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়। ওই সম্মেলনের কণ্ঠভোটে পংকি খানকে সভাপতি ও পুনরায় বাবুল আখতারকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়। তবে সম্প্রতি ওমরা হজ্ব পালনকালে সৌদিআরবে বাবুল আখতার মৃত্যুবরণ করেন। তারা দু’জনই ছিলেন শফিক চৌধুরী গ্রুপের নেতা। কিন্তু এই কণ্ঠভোটের প্রতিবাদ করেন আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী গ্রুপের নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, গোপন ভোটের মাধ্যমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করতে হবে।

আনোয়ারুজ্জামান গ্রুপের নেতাকর্মীদের দাবির মুখে দীর্ঘ প্রায় আড়াই বছরেও ওই তালিকার কমিটি প্রকাশ করা হয়নি। এ নিয়ে জেলা কমিটির সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। আর ওই দ্বন্ধের আড়াই বছর ধরে এভাবেই ঝুলে ছিল উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি। অবশেষে উপজেলা আওয়ামী লীগের পূর্নাঙ্গ কমিটি অনুমোদন লাভ করে।

শেয়ার করুন