শুভ জন্মদিন কবি আহসান হাবীব

সিলেটের সকাল ডেস্ক :: আহসান হাবীব একজন খ্যাতিমান বাংলাদেশী কবি ও সাহিত্যিক। তার কবিতায় মধ্যবিত্তের সংকট ও জীবনযন্ত্রণা গভীরভাবে ফুটে উঠেছে। সামাজিক বাস্তবতা, মধ্যবিত্ত শ্রেণির সংগ্রামী চেতনা এবং সমকালীন যুগ যন্ত্রণা তার কবিতায় শিল্পসম্মতভাবে পরিস্ফুটিত হয়েছে।

আজ এই খ্যাতিমান কবির আজ শততম শুভ জন্মদিন। তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুরের শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহন করেন।

পারিবারিকভাবে সাহিত্য সংস্কৃতির আবহে বড় হওয়া কবি আহসান হাবীব ছেলেবেলা থেকেই লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৩৩ সালে সপ্তম শ্রেণিতে পড়াকালে প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় ‘ধর্ম’ নামক প্রবন্ধ লিখে পুরস্কৃত হন। ১৯৩৪ সালে তার প্রথম কবিতা ‘মায়ের কবর পাড়ে কিশোর’ পিরোজপুর গভর্নমেন্ট স্কুল ম্যাগাজিনে ছাপা হলে তিনি ব্যাপক প্রশংসিত হন। সে সময় মোহাম্মদী, বিচিত্রার মতো নামি দামী পত্রপত্রিকায় তার বেশ কিছু লেখা প্রকাশিত হয়।

অর্থনৈতিক সংকট কবিকে তার শিক্ষাজীবনে বেশিদূর নিয়ে যেতে দেয়নি। কবি ১৯৩৫ সালে পিরোজপুর গভর্নমেন্ট স্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বরিশালে বিখ্যাত বিএম কলেজে ভর্তি হন।

কিন্তু টাকার অভাবে তাকে কলেজের পড়াশোনা বন্ধ করে দিতে হয়। অধ্যয়ন অসমাপ্ত রেখেই জীবিকার উদ্দেশ্যে ১৯৩৬ সালে তিনি কলকাতায় পাড়ি জমান।

কলকাতায় এসে ১৯৩৭ সালে ‘দৈনিক তকবির’ পত্রিকায় ১৭ টাকা বেতনে সহ-সম্পাদকের কাজে নিযুক্ত হন। ১৯৩৭ সাল থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত কলকাতার ‘বুলবুল পত্রিকা’ ও ১৯৩৯ সাল থেকে ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত ‘মাসিক সওগাত পত্রিকায় কাজ করেন। এছাড়া তিনি আকাশবাণীতে কলকাতা কেন্দ্রের স্টাফ আর্টিস্ট পদে ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত কাজ করেন৷

দেশ বিভাগের পর ঢাকায় এসে কবি আহসান হাবীব বিভিন্ন সময়ে আজাদ, মোহাম্মদী, কৃষক, ইত্তেহাদ প্রভৃতি পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন। দীর্ঘদিন ‘দৈনিক বাংলা’ পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক পদের দায়িত্ব পালন করেন।

কবি আহসান হাবীব বাংলাদেশের একজন অগ্রগণ্য কবি। তিনি আধুনিক কাব্যধারার কবি ছিলেন। ভাষা ও প্রকাশ ভঙ্গিতে আহসান হাবীবের কবিতা ও সাহিত্যে রয়েছে নাগরিক মননের ছাপ।

১৯৪৭ সালে তার প্রথম কবিতার বই ‘রাত্রি শেষ’ প্রকাশিত হয়। কাব্যগ্রন্থ, বড়দের উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটদের ছড়া ও কবিতার বই সব মিলিয়ে আহসান হাবীবের বইয়ের সংখ্যা ২৫টি।

তার কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে ছায়া হরিণ (১৯৬২), সারা দুপুর (১৯৬৪), আশার বসতি (১৯৭৪), মেঘ বলে চৈত্রে যাবো (১৯৭৬), দুই হাতে দুই আদিম পাথর (১৯৮০), প্রেমের কবিতা (১৯৮১), বিদীর্ণ দর্পণে মুখ (১৯৮৫) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

কবি আহসান হাবীব তার সাহিত্য ও সাংবাদিক জীবনে বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। তম্মধ্যে ইউনেস্কো সাহিত্য পুরস্কার ও একাডেমি পুরস্কার (১৯৬১), একুশে পদক (১৯৭৮), স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার ও বাংলা একাডেমি পুরস্কার অন্যতম।

কবি আহসান হাবীব চল্লিশ দশকের অন্যতম প্রধান আধুনিক কবি হিসেবে পরিগণিত। ১৯৮৫ সালের ১০ জুলাই আহসান হাবীব মৃত্যুবরণ করেন। কবি পুত্র মঈনুল আহসান সাবের একজন স্বনামখ্যাত বাংলা ঔপন্যাসিক।

শেয়ার করুন