লালবাজারে জমে উঠেছে মৎস্য মেলা : ‘এসেছে বড় মাছ, বিক্রিতে ভাটা‘

ছবি: এইচ এম শহীদুল ইসলাম

সিলেটের সকাল রিপোর্ট :: সিলেটে লালবাজার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির লিমিটেডের আয়োজনে তিন দিনব্যাপী মৎস্য মেলা দ্বিতীয় দিন জমে উঠেছে। এ উপলক্ষে বাজারে এসেছে বড় আকারের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। মানুষের আনাগোনাও বেড়েছে ঢের। তবে মাছের বাজারে দাম বেশী থাকায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের দর কষাকষি অনবরত চলছে।

ক্রেতারা বলছেন, ‘মাছের চড়া দাম থাকায় পছন্দসই মাছ কিনতে পারছেন না তারা। অনেকের পছন্দ হলে শখের পূরণ করতে কিনতে হয় মাছ। বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, মেলা উপলক্ষে বাজারে মানুষের আনাগোনা বাড়লেও মাছ বিক্রির হার তেমন বাড়েনি। বিশেষ ক্রেতা ছাড়া মানুষজন মেলা দেখতে আসছেন। তবে ছোট মাছ বিক্রি মাত্রাও স্বাভাবিক রয়েছে।’

মেলার দ্বিতীয় দিন লালবাজার ঘুরে দেখা যায়, উপরে বেলুন ও নানা রঙ্গিন কাগজের সাজে সাজানো হয়েছে মাসের বাজার হিসেবে পরিচিত লালবাজার। মানুষের আনাগোনা রয়েছে বেশ। মাছের কিনতে ক্রেতা ও বিক্রেতার চলছে দর কষাকষি। বাজারের বিভিন্ন স্টলে দেখা গেছে বড় প্রজাতির বোয়াল মাছ, গ্রাস কার্প, রুই মাছ, চিতল মাছ, বিরগেট, গাগট, বড় চিংড়িসহ অনেক মাছ। এসব মাছের দামে বিক্রেতা ও ক্রেতার সন্তুষ্টি হলে টাকা ও মাছের বিনিময় হচ্ছে।

বাজারের পূর্ব পাশে দেখা গেল বিশাল আকৃতির একটি বোয়াল। আনোয়ার নামের মৎস্য ব্যবসায়ী মাছটি এনেছেন লামাকাজি থেকে। মাছটির দাম হাকাচ্ছেন বিশ হাজার টাকা। বিপরীতে ক্রেতারা দাম করেছেন সাড়ে ১২ হাজার টাকা। এই মুহুর্তে বাজারে বড় মাছ বলে জানালেন আরেক মৎস্য ব্যবসায়ী ইসমাইল মিয়া। এছাড়াও বড় মাছের পাশাপাশি নিয়মিত রয়েছে ছোট মাছ। বেশী বিক্রি হচ্ছে শিং মাছ।

মাছ ক্রেতা রাহাত আহমদ বলেন, মাছ বাজারের যথেষ্ট পরিমাণ মাছ আছে। পছন্দ হওয়ার মাছ বাজারে আছে। কিন্তু দর কষাকষি করে কেনা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানালেন তিনি।

কামাল মিয়া নামের ক্রেতা বলেন, মেলা উপলক্ষে ছাড় পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মাছের দাম সেই আগের মতো। একটি বড় গ্রাস কার্প মাছ পছন্দ হয়েছে বলে ১১শত টাকা দিয়ে কিনেছি। শখ পূরণের জন্য এই মাছটি কিনছেন বলে তৃপ্তির ঢেকুর তুললেন তিনি।

ব্যবসায়ী ইসমাইল মিয়া জানান, পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে এই মেলায় আয়োজন করা হয়েছে। পাইকারী বাজারে মাছের দাম বেশী থাকায় কম দরে মানুষকে মাছ দেওয়া যাচ্ছে না। মেলায় বড় মাছ ও মানুষের উপস্থিতিতে বাড়লেও মেলা হিসেবে বিক্রি তেমন বাড়েনি। আগে ২০ থেকে ৩০হাজার বিক্রি হতো। তবে কিছুটা বিক্রি বেড়েছে বলে জানালেন এই মৎস্য ব্যবসায়ী।

এই ব্যবসায়ী আরো জানান, ‘বার্মা রুই সাড়ে ৩শ টাকা ও দেশী রুই ৮শ বা সাড়ে ৮শ টাকায় বিক্রি করা যায়। বাকী মাছগুলো দর কষাকষি করে চুক্তিতে বিক্রি করি।’

মৎস্য বিক্রেতা আনোয়ার মিয়া জানালেন, আমার দোকানের মাছ বড় হওয়ায় মানুষজন দেখে যাচ্ছেন। দর কষাকষিও হচ্ছে। তবে উপযুক্ত দামের আশায় রয়েছি। বাজারে ক্রেতার চেয়ে দর্শণার্থী বেশী বলে জানালেন এই মৎস্য ব্যবসায়ী। সকালে একটি মাছ ১২ হাজার টাকা বিক্রি হয়েছে। এখনও পর্যণÍ সেই মাছের দাম কেউ ছাড়িয়ে যেতে পারেন নি। এছাড়াও মেলায় গ্রাস কার্প’র কেজী সাড়ে ৬শ টাকা করে বিক্রি করছেন বলে জানালেন আনোয়ার।

শেয়ার করুন