প্রতিবন্ধীদের দক্ষ জনশক্তিতে গড়ে তোলার পাশাপাশি তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির তাগিদ

সিলেট চেম্বারের উদ্যোগে প্রতিবন্ধী বিষয়ক সেমিনার

সিলেটের সকাল ডেস্ক :: সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধীদের আরো কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং নিয়োগ প্রদানের আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেছেন, ‘দেশের জনসংখ্যার ১০ শতাংশ প্রতিবন্ধীদের অবহেলা এবং বেকার রেখে দেশকে প্রকৃত অর্থে উন্নতির দিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। তাই প্রতিবন্ধীদের কর্মের সুযোগ দান করে তাদেরকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে হবে। প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নের বাইরে রাখায় জিডিপি’র ১.৭ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। তাই প্রতিবন্ধীদের সমাজের বোঝা না হয়ে সম্পদে পরিণত করতে যুগোপযোগী শিক্ষা ও দক্ষতার পারদর্শী করতে হবে।

সোমবার বিকালে নগরীর সোবহানীঘাটস্থ আগ্রা কমিউনিটি সেন্টারে দি সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি, বাংলাদেশ এমপ্লোয়ার্স ফেডারেশন (বিইএফ), বাংলাদেশ বিজনেস এন্ড ডিজেবিলিটি নেটওয়ার্ক (বিবিডিএন) ও ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন (আইএলও) এর উদ্যোগে “কর্মক্ষেত্রে শারীরিক প্রতিবন্ধীদের সংযুক্তকরণে উদ্বুদ্ধকরণ” বিষয়ক সেমিনারে আলোচকরা উপরোক্ত অভিমত ব্যক্ত করেন।

বক্তারা বলেন, প্রতিবন্ধীদের কর্মের সুযোগ দান করে তাদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করা সম্ভব। কর্মক্ষেত্রে তারা কোন অন্তরায় নয়, বরং প্রতিবন্ধীরা বহুমুখী দক্ষতার অধিকারী। প্রতিবন্ধীদের স্বাভাবিক ব্যক্তিদের মতই মূল্যায়ন করা উচিত। তারা সব ধরণের কাজই করতে পারেন। বিশেষ করে অর্থনৈতিক সকল সেক্টরে সব পর্যায়ে কাজ করতে সক্ষম। স্বাভাবিক কর্মীর চেয়ে প্রতিবন্ধীদের দক্ষতা কোন ক্ষেত্রেই কম নয়। সুযোগ পেলে তারা অনেক দূর এগিয়ে যাবে বলে বক্তারা অভিমত ব্যক্ত করেন। সেমিনারে আলোচকরা দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করার আহবান জানিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধীদের কাজের সুযোগ এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবী জানান। তাদের উপেক্ষিত ও অবমূল্যায়িত করা ঠিক নয়। স্বাভাবিক মানুষের মতোই তাদের সাথে আচরণ করতে হবে।

সিলেট চেম্বারের সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত এবং চিটাগাং স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, প্রতিবন্ধীত্ব কোন রোগ নয়। দুনিয়াতে অনেক প্রতিবন্ধী আমাদের জন্য গর্ব ও আশীর্বাদ। স্টিফেন হকিংসের মতো অনেক বিজ্ঞানী ও মনিষীও প্রতিবন্ধী ছিলেন। তিনি বলেন, আমরা সুযোগ করে দিতে পারিনি বলে বাংলাদেশে অনেক প্রতিবন্ধী তাদের প্রতিভা প্রকাশ করতে পারছেন না। তিনি বলেন, প্রতিবন্ধীদের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার কন্যা সায়েমা ওয়াজেদ পুতুল খুবই আন্তরিক ও সচেতন। তাদেরকে মেইন স্ট্রীমে নিয়ে আসতে তারা কাজ করে যাচ্ছেন। সরকার প্রতিবন্ধীদের চাকুরীর ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ কোটা এবং সরকারী বেনিফিট চালু করেছে। তিনি প্রতিবন্ধীদের প্রতি যাতে কেউ বিরূপ মনোভাব ও রূঢ় আচরণ প্রকাশ করতে না পারে সে প্রয়োজনে আইন প্রয়োগেরও আহবান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে সিলেট চেম্বারের সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ সিলেট চেম্বার অব কমার্সে প্রতিবন্ধীদের জন্য হেল্প ডেস্ক চালু, কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং চাকুরী মেলা আয়োজন করা হবে বলে জানান। তিনি বলেন, সিলেট চেম্বারের পক্ষ থেকে সাধ্যমত প্রতিবন্ধীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহযোগিতা করা হবে। সেমিনারে বক্তব্য রাখেন বিবিডিএন এর কো-চেয়ারম্যান মোর্তেজা আর খান, বিইএফ এর সেক্রেটারী জেনারেল ফারুক আহমেদ, আইএলও এর চীফ টেকনিক্যাল এডভাইজার শ্রী কিশোর কুমার সিংহ, কনসালটেন্ট অ্যালবার্ট মোল্লা, সিলেট চেম্বারের সহ সভাপতি মোঃ এমদাদ হোসেন সিলেট বিভাগ উন্নয়ন পরিষদ, নিউইয়র্ক এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রানা ফেরদৌস চৌধুরী।

এছাড়া মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন শাবিপ্রবি’র সহকারী অধ্যাপক আবুল কাশেম উজ্জ্বল, সিলেট টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ সাইদুর রহমান, জালালাবাদ প্রতিবন্ধী হাসপাতালের চেয়ারম্যান মাহবুব সোবহানী চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফা কামাল, সিলেট ইনক্লুসিভ স্কুল এন্ড কলেজের উপাধ্যক্ষ ফারজানা ইশরাত, শাহ্জালাল রাগীব-রাবেয়া প্রতিবন্ধী ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ শামীম নাছরিন পপি, গোল্ডেন হার্ভেস্টের নির্বাহী পরিচালক মইনুল ইসলাম চৌধুরী, শাবিপ্রবি’র প্রতিবন্ধী ছাত্র সাফওয়ান আহমেদ, গ্রীনক্রিসেন্ট সোসাইটির গভর্নর প্রবাসী গোলাম সাদাত জুয়েল, জাহানারা বেগম, সামিয়া বেগম চৌধুরী, আতাউর রহমান, চৌধুরী মোঃ কামরুল হাসান, নূরে আক্তার ফাতিমা, রাইসুল করিম সাজু, বায়েজিদ খান, জাহানারা ইয়াসমিন, এ টি এম বদরুল ইসলাম, সিদ্ধার্থ শংকর রায়, মোঃ আশিক্জ্জুামান, তানজির ইসলাম, সজিব চৌধুরী, মোঃ লুৎফুর রহমান, জি ডি রুমু, শিরীন আক্তার রেবা, আবু তাহের মোঃ ইবনে সাঈম খান প্রমুখ।

শেয়ার করুন