পাল্টাপাল্টি বহিষ্কার, বিএনপি জোটসঙ্গী জমিয়তে ফের ভাঙন

সিলেটের সকাল রিপোর্ট :: পাল্টাপাল্টি বহিষ্কারের মধ্য দিয়ে চূড়ান্তভাবে ভেঙে গেলো ২০ দলীয় জোটের শরীক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম। এর আগেও জমিয়ত ভেঙে ‘জমিয়তে উলামা’ নামে অনিবন্ধিত দল গঠন করেছিলেন একাংশের আলেমরা। যদিও ওই অংশটি নীতিগত ভাবে আওয়ামী লীগের সমর্থন করে আসছে।

সর্বশেষ সংগঠন বিরোধী কার্যক্রমের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে জমিয়তের সহ-সভাপতি সাবেক প্রতিমন্ত্রী এবং সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদ ওয়াক্কাসকে দল থেকে বহিষ্কার করার মধ্য দিয়ে আকাবিরে দেওবন্দের উত্তরসূরি খ্যাত রাজনৈতিক এই সংগঠনটিতে ফের আরেক দফা ভাঙন দেখা দিয়েছে। বুধবার বিকেলে মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমীর অংশের নেতারা রাজধানীর নয়া পল্টনে অবস্থিত দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন।

এদিকে, মুফতি ওয়াক্কাসের নেতৃত্বাধীন আরেক অংশ  বৃহস্পতিবার প্রেসক্লাবে জাতীয় কনভেনশন ডেকেছে। এই কনভেনশনে নতুন কমিটি ঘোষণাসহ অপর অংশের অবৈধ কার্যকলাপের জবাব দেওয়া হবে বলে ওয়াক্কাস অনুসারী নেতা মাওলানা মাওলানা ওয়ালিউল্লাহ আরমান এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন।

তিনি জানান, ‘গত ১২ ডিসেম্বর জমিয়তের কেন্দ্রীয় আমেলা ও শুরার যৌথ সভায় সংবিধান ও সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপের দায়ে জমিয়তের মহাসচিব মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী, সহসভাপতি মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুককে সংগঠনের সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। অব্যাহতিপ্রাপ্ত মহাসচিব বা কোনো দায়িত্বশীলের কোনো প্রকার মিটিং আহ্বান করা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক। ফলে মুফতি ওয়াক্কাসের বহিষ্কার অবৈধ এবং গঠনতন্ত্রবিরোধী। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠেয় জমিয়তের জাতীয় কনভেনশনে তারা নিজেদের অবস্থান তুলে ধরবেন।’

অন্যদিকে, বুধবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে নূর হোসাইন কাসেমী অনুসারী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ-এর সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুক লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় মজলিসে আমেলা বৈঠকের সিদ্ধান্তে গঠনতন্ত্র পরিপন্থী ও সংগঠন বিরোধী তৎপরতার কারণে এবং দলের অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে প্রাথমিক সদস্য পদ বিলুপ্তিসহ মুফতি ওয়াক্কাসকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুক বলেন, সংগঠন বিরোধী কার্যক্রমের সাথে জড়িত থাকার কারণে মুফতি ওয়াক্কাস সাহেবের সহসভাপতি পদ স্থগিত করে গত ১৫-০২-১৭ তারিখে শোকজ করা হয়। যার জবাব ১৪-১২-১৮ তারিখের মধ্যে দিতে বলা হয়। কিন্তু তার শোকজ নোটিসের জবাব তিনি দেননি। সংগঠনের বৃহৎ স্বার্থে তাকে সংগঠন বিরোধী কর্মকাণ্ড বিশেষ করে জমিয়ত সুরক্ষা কমিটির নামে চালানো অবৈধ তৎপরতা এবং আগামী ১১ জানুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবে ডাকা অবৈধ কনভেনশন স্থগিত করার আহ্বান জানানো হয়। এবং তাকে সহসভাপতির পদ পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়। কিন্তু তিনি তাতে কোনো সাড়া দেননি।’

তিনি আরও বলেন, প্রেসক্লাবে কনভেনশনের আহ্বায়ক ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহসভাপতি মাওলানা মনসুর হাসান রায়পুরী এবং যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা শেখ মুজিবুর রহমানের মজলিসে আমেলার পদ স্থগিত করা হলো এবং তাদের দল থেকে কেনো বহিষ্কার করা হবে না মর্মে আগামী ২০ জানুয়ারির মধ্যে সভাপতি বরাবর জবাব দেওয়ার জন্য অবগত করা হলো। তাদের জবাব যদি সন্তোষজনক না হয় তাহলে সভাপতি তাদেরও দল থেকে বহিষ্কার করতে পারবেন।

প্রসঙ্গত; বেশ পুরোনো দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামে অস্থিরতা চলছে অনেক দিন ধরে। দলের নির্বাহী সভাপতি মুফতি ওয়াক্কাস আর মহাসচিব নূর হোসাইন কাসেমীর মধ্যে দ্বন্দ্বের জেরে এই টানাপোড়েন। দলটির সভাপতি বয়োবৃদ্ধ আলেম আল্লামা আবদুল মোমিন। সম্প্রতি দলের গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করে নির্বাহী সভাপতির পদ বিলুপ্ত করে মুফতি ওয়াক্কাসকে সহসভাপতি করা হয়। এটা নিয়ে দ্বন্দ্ব চূড়ান্ত রূপ লাভ করে। দলের নেতাকর্মীরাও দুই ভাগে ভাগ হয়ে যান। এক সময় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী এই দলটির ভাঙন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

এর আগেও সিলেটের কানাইঘাটের একাংশের আলেমদের নেতৃত্বে জমিয়তে উলামা নামের নতুন একটি রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম শুরু করেন জমিয়ত থেকে বের হওয়া একদল আলেম। তবে, তারা রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসলেও নির্বাচন কমিশন থেকে নিবন্ধিত নয়।

শেয়ার করুন