দক্ষিণ সুরমায় প্রতিপক্ষের নির্যাতনে অতিষ্ঠ একটি পরিবার

প্রশাসনের সহায়তা কামনা

সিলেটের সকাল ডেস্ক:: সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় প্রতিপক্ষের হামলা নির্যাতনে অতিষ্ঠ এক পরিবার প্রশাসনের সাহায্য কামনা করেছে।

শনিবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের কাছে আকুতি জানান দক্ষিণ সুরমা উপজেলার টিলা মোহাম্মদপুর গ্রামের মো. আসকর আলী।

আসকর আলী তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, দক্ষিণ সুরমা উপজেলাধীন ৫ নং সিলাম ইউনিয়নের অর্ন্তগত সুড়িগাঁও মোহাম্মদপুর মৌজার জে.এল নং-১৪৪ স্থিত বিভিন্ন দাগে আমাদের পূর্ব পুরুষের পৈত্রিক ভূমিতে বাড়িঘর নির্মাণ করে আমরা বসবাস করে আসছি। ঐ ভুমি নিয়ে নিজেদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে সমাধান হয়। এতে একটি স্কেচ ম্যাপও করা হয়।

স্কেচ ম্যাপ অনুসরণ করে আমাদের বাড়িতে যাতায়াতের জন্য একটি এজমালি রাস্তা রাখা হয়েছে, যা দিয়ে আমি ও আমার পরিবারসহ অপরা পর শরীকানগণ নির্বিঘেœ চলাচল করে আসছেন।

তিনি আরো জানান, সম্প্রতি আমি উক্ত রাস্তায় বৈদ্যুতিক খুঁটি বসিয়ে আমার নিজ বসতঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ গ্রহণের উদ্যোগ গ্রহণ করি। কিন্তু, আমাদের প্রতিবেশী মাহমুদা খাতুনের পক্ষ নিয়ে কিছু লোক আমাদের বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপনে বাধা সৃষ্টি করেন। তারা আমাদের বাড়িতে বিদ্যুতের সংযোগ প্রদান বন্ধ করে জোরপূর্বক নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে থাকেন। তাদের এ ধরনের কার্যকলাপে আমরা গ্রামবাসীর নিকট বিচারপ্রার্থী হলে গ্রামবাসীও আমাদের রাস্তা দিয়ে খুঁটি বসিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ গ্রহণের পক্ষে মতামত প্রদান করেন।

ফলে, আমরা আমাদের এজমালী রাস্তায় বৈদ্যুতিক খুঁটি বসানোর কাজ অব্যাহত রাখি। গত ২ জানুয়ারী আমাদের বসতঘরে আমরা যখন বিদ্যুৎ লাইন স্থাপনের কাজ করছিলাম, তখন আকষ্মিকভাবে আমাদের পার্শ্ববর্তী বাড়ির বাসিন্দা মৃত নজির উল্লাহর পুত্র মো: আনিস মিয়া সেখানে উপস্থিত হয়ে চলমান কাজ বন্ধ রাখার নিদের্শ দেয়, অন্যথায় সে সবাইকে প্রাণে হত্যা করবে বলে হুমকী দেয়। আমরা কাজ অব্যাহত রাখলে মৃত নজির উল্লাহর পুত্র আনিস মিয়া, মৃত শফিক মিয়ার পুত্র দিলোয়ার মিয়া, মৃত তহির আলীর পুত্র আল আমিন, আনিস মিয়ার পুত্র সোহাগ ও মৃত তহির আলীর পুত্র জাহাঙ্গীর আলম দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমাদের উপর হামলা চালায়। তাদের আক্রমণ থেকে বাঁচতে আমার স্বজনরা আমাদের বাড়িতে আশ্রয় নিলে হামলাকারীরা আমাদের বাড়িতে অনুপ্রবেশ করে তাদের উপর হামলা চালায়। তাদের হামলায় আমার চাচাতো ভাই রহমত উল্লাহ, আমার ফুফু হারিছা বেগম, আমার ভাই জাবের আহমদ, আমার চাচা লতিব উল্লাহ ও আমার বৃদ্ধ পিতা আকই মিয়া গুরুতর আহত হন। ঘটনার পর পরই আমরা পুলিশে খবর দিলে মোগলাবাজার থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করে। এ ঘটনায় আমি আসকর আলী বাদী হয়ে মোগলাবাজার থানায় চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি একটি মামলা দায়ের করেছি, যার নম্বর- ০১
আসকর আলী বলেন, আমার দায়ের করা মামলার এজাহার নামীয় প্রধান আসামী আনিস মিয়া ঘটনার পর পরই সৌদী আরবে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করছে। আমরা আজকের এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আসামী আনিস মিয়াসহ সকল আসামীকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে সুবিচার নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। অন্যথায় এরা তাদের জানমালের ক্ষতি করতে পারে। তাই তিনি এ ব্যাপারে প্রশাসনের সর্বোচ্চ সহায়তা কামনা করেন।

শেয়ার করুন