কান্না থামলো না মেয়েটির…

আব্দুল আহাদ :: ট্রেন থামলো তারপরও কান্না থামেনি। কি যে কান্না। সবাই শান্তনা দিয়েছে, দিয়েছি আমিও। কিন্তু কারো কথায় আশ্বস্ত হয়নি, কাঁদতে কাঁদতে অস্থির। ট্রেনের ঝনঝন আওয়াজ যেন কান্নার শব্দের কাছে হার মেনেছে।

আর কাঁদবেইবা না কেন, আমি হলেও হয়তো তাই করতাম। স্মার্ট ফোনে মানুষের কতো স্মৃতি জমা থাকে। থাকে সুখ, দুঃখ, আনন্দন, বেদনার কাব্য। ফোনটি হাত ছাড়া হওয়া মানে নিমিষেই সবকিছু ধ্বংস। মেয়েটির হয়তো তাই হয়েছে। তাইতো কেঁদেছে অনেক।

সেই শায়েস্তাগঞ্জ থেকে সিলেট। দীর্ঘ তিন ঘন্টার পথ। পুরো পথেই চিৎকার। কখনো নীরব হলেও হঠাৎ হাউমাউ করে কান্না শুরু করে দেয়। নাম জিজ্ঞাস করিনি। মনে হয়েছে কলেজে পড়ে। কথা বলার ধরণ শুনে বুঝেছি সিলেটের কোথাও বাড়ি।

কাল রাতে (মঙ্গলবার) ঢাকা থেকে সিলেট ফিরছিলাম আন্তঃনগর ট্রেন কালনীতে করে। আগের দিন ঘুম হয়নি, তাই খুব ক্লান্ত ছিলাম। দুপুরে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে ভারত থেকে ঢাকায় আসি। বিমানবন্দর স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠি। ট্রেন ছাড়ার পর ঘুম চলে আসে চোখে। ট্রেনের ছন্দময় ঝন-ঝনা-ঝন শব্দ বাড়িয়ে দেয় ঘুমের গভীরতা। গভীর ঘুমে মগ্ন।

হঠাৎ চিৎকার, কান্নার শব্দে ঘুম ভাঙে। তাকিয়ে দেখি ট্রেন শায়েস্তাগঞ্জ স্টেশন পার হয়ে যাচ্ছে। আর আমার সামনের সীটে বসা এক তরুণী চিৎকার করে কাঁদছে। ভয় পেয়ে যাই। সাথে সাথে উঠে পড়ি, বগির সব মানুষও উঠে আসেন। পাশের সিটে এসসিএস এর এমডি জুনেল ভাইও ছিলেন। সবাই এগিয়ে আসলেন। ট্রেনের জানালা খোলা রেখে মেয়েটি নাকি মোবাইল ব্যবহার করছিল। তখন বাহির থেকে কেউ একজন ঝাপটে মোবাইলটি কেড়ে নেয়। তখন ট্রেনও চলছিল। ফোন হারানোর কষ্টে মেয়েটি শায়েস্তাগঞ্জ থেকে সিলেট পর্যন্ত কেঁদেছে। এরপর কি হল জানিনা।

আমার পাশের সিটে একজন বৃদ্ধ লোক বসা ছিলেন। তিনি জানালেন, ট্রেনের কর্তব্যরত লোকজন কয়েকবার ঘুরে ঘুরে সবাইকে বলেছে জানালা খোলা রেখে যেন কেউ মোবাইল ব্যবহার না করেন। তারপরও কেউ শুনেনি কথা। পরে আসলো বিপদ।

হে বঙ্গ জননী, আমরা এই বিপদ থেকে মুক্তি পাবো কবে?

(ফেসবুক থেকে নেওয়া)
লেখক: স্টাফ রিপোর্টার, সময় টেলিভিশন এবং সাবেক ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সম্পাদক, সিলেট প্রেসক্লাব

শেয়ার করুন