হন্ডুরাসে নির্বাচনী সহিংসতা ঠেকাতে কারফিউ

সিলেটের সকাল ডেস্ক :: আফ্রিকার মধ্যাঞ্চলীয় দেশ হন্ডুরাসে নির্বাচন পরবর্তী যে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর অবস্থা ঠেকাতে দেশটির পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চ ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতা বন্ধে সারা দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।

সাংবিধানিক ক্ষমতা সাময়িকভাবে বর্জন করে শুক্রবার রাতে এই জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। ফলে আগামী ১০ দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত সর্বসাধারণকে অবাধে চলাফেরা না করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এর আগে গত রবিবার হন্ডুরাসে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পর ফলাফল ঘোষণার সময় বিরোধী দলীয় প্রার্থীরা ভোটে কারচুপির অভিযোগ আনে। তারা অন্তত ৫ শতাধিক ব্যালট বাক্স ফের গণনার দাবি তুললে ভোটের ফলাফল ঘোষণায় বিলম্ব দেখা দেয়।

একই সময়ে নির্বাচনে কারচুপির প্রমাণ আছে এমন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে সরাসরি অভিযোগ আনেন বিরোধীদলীয় নেতা মধ্য ও বামপন্থি জোটের প্রার্থী স্যালভাদর নাসরালা। তিনি সরকারের কারফিউ জারির এই পদক্ষেপেরও কঠোর সমালোচনা করেন।

দেশটির সরকারি সমন্বয়ক জর্জ রামোন হার্নানদেজ আলসেরো জানান, প্রেসিডেন্ট জুয়ান ওর্লান্দো হার্নানদেজ এ ফরমানের অনুমোদন দিয়েছেন।

এদিকে গতকাল শুক্রবার হন্ডুরাসের রাজধানী তেগুসিগালপা’য় নির্বাচনের জালিয়াতির অভিযোগ এনে বিরোধী দলীয় সমর্থকরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। বিক্ষোভকারীরা শহরের বিভিন্ন সড়ক অবরোধসহ একাধিক যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করে। যদিও পরক্ষণেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

দেশজুড়ে চলমান নির্বাচনী সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ১ জন নিহত ও কমপক্ষে ২০ জন আহতের খবর পাওয়া গেছে।

ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজ ও বিরোধী জোটের প্রার্থী সালভাদর নাসরাল্লা উভয়েই নিজেদের বিজয়ী দাবি করেছেন। ভোটের আগে হওয়া জনমত জরিপে নাসরাল্লা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে ৫ পয়েন্ট এগিয়ে ছিলেন। যদিও ৯০ শতাংশ গণনা শেষে হার্নান্দেজই ৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে আছেন বলে নির্বাচনী সংস্থাগুলোর ভাষ্য।

প্রসঙ্গত, হন্ডুরাসের সংবিধান অনুযায়ী পুনঃনির্বাচনের ক্ষেত্রে বাধানিষেধ রয়েছে। কিন্তু সাংবিধানিক নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ওর্লান্দো হার্নানদেজ দেশটিতে পুনঃনির্বাচনের প্রয়াস চালাচ্ছেন। খবর বিবিসি।

শেয়ার করুন