স্বৈরাচার পতন দিবস আজ

সিলেটের সকাল ডেস্ক :: আজ ৬ ডিসেম্বর স্বৈরাচার পতন দিবস।

১৯৯০ সালের এ দিনে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনতার প্রতিবাদ, প্রতিরোধ আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানের মুখে স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পতন হয়। মুক্তি পায় গণতন্ত্র।

দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। তবে এরশাদের নেতৃত্বাধীন দল জাতীয় পার্টি এ দিবসটিকে ‘গণতন্ত্র দিবস’ হিসেবে পালন করে।

১৯৮২ সালের মার্চ মাসে রক্তপাতহীন এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর এরশাদ সরকার দেশের রাজনীতি ও সংস্কৃতি সব ক্ষেত্রে গণবিরোধী ধারা প্রবর্তন করেন। রাজনৈতিক নেতারাও ব্যাপক নিপীড়নের শিকার হন। ১৯৯০ সালের ১০ অক্টোবর সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচির মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ গণ-আন্দোলনের সূচনা হয়।

ঢাকা পলিটেকনিকের ছাত্র মনিরুজ্জামান হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রসমাজ ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করার প্রত্যয় ঘোষণা করে। ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর হরতালের সময় নূর হোসেনকে স্বৈরাচার এরশাদের বাহিনী গুলি করে। নূর হোসেনের বুকে-পিঠে লেখা ছিল ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’।

অন্য দিকে ওই দিন সেনা ও পুলিশ বাহিনী আমিনুল হুদা টিটোকে হত্যার পর গুম করে। এ ঘটনায় সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এরশাদ হঠানোর আন্দোলনে নেমে পড়েন। এভাবে ঘটনাক্রমিক আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় এরশাদ ১৯৯০ সালের ৫ ডিসেম্বর পদত্যাগের ঘোষণা দেন। পরদিন ৬ ডিসেম্বর দীর্ঘ ৯ বছরের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটে।

আজকের এ দিনে তিন জোটের রূপরেখার ভিত্তিতে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বিজয় অর্জিত হয়েছিল।

শেখ হাসিনার বাণী : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বাণীতে জনগণের উদ্দেশে বলেন, ‘আসুন, গণতন্ত্রের ভিত্তিকে আরো সুদৃঢ় ও শক্তিশালী করে দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করি। গণতন্ত্র মুক্তি দিবসে এই হোক আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকার। ’ তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নব্বই-পরবর্তী দুই দশকে গণতন্ত্র, ভোট ও ভাতের অধিকার রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে। বাংলাদেশের সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে অবৈধ ক্ষমতা দখলের পথ রুদ্ধ করা হয়েছে। ’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্বৈরাচারী শাসন উত্খাত করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, জনগণের ভোট ও মৌলিক অধিকারসমূহ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমরা দীর্ঘ সংগ্রাম করি। এ আন্দোলন-সংগ্রামে দেশের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়। নূর হোসেন, বাবুল, ফাত্তাহ, ডা. মিলনসহ অগণিত গণতন্ত্রকামী মানুষ আত্মাহুতি দেন। স্বৈরাচারী শাসক গণ-আন্দোলনের কাছে নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়। শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয় গণতন্ত্র। ’

খালেদা জিয়ার বাণী : স্বৈরাচার পতন ও গণতন্ত্র মুক্তি দিবস উপলক্ষে এক বাণীতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেন, ৬ ডিসেম্বর আমাদের জাতীয় ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৯০ সালের এ দিনে দীর্ঘ ৯ বছরের অগ্নিঝরা আন্দোলনের পর পতন ঘটেছিল সামরিক স্বৈরশাসক এরশাদের। যে স্বৈরশাসক এরশাদ ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ পেশাগত বিশ্বস্ততা ও শপথ ভেঙে বন্দুকের নলের মুখে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাত্তারকে ক্ষমতাচ্যুত করে সাংবিধানিক রাজনীতি স্তব্ধ করেছিলেন। যে সাংবিধানিক রাজনীতি ছিল বহুপক্ষীয় ও বহুদলীয়, যার পুনঃপ্রবর্তন করেছিলেন স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। স্বৈরাচারী এরশাদ একে একে সব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক বিকাশকে করেছিলেন বাধাগ্রস্ত। এ দিনে ছাত্র-জনতার মিলিত সংগ্রামে স্বৈরাচারকে পরাজিত করে মুক্ত হয়েছিল আমাদের গণতন্ত্র। আজকের এ দিনে আমি ’৮২ থেকে ’৯০ পর্যন্ত রক্তস্নাত স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে আত্মদানকারী বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই এবং তাদের রূহের মাগফিরাত কামনা করি। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এ স্মরণীয় দিনে আমি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী গণতন্ত্রের হেফাজতকারী দেশবাসীকে।

শেয়ার করুন