শীতার্তদের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহ দিয়েছে ইসলাম

সিলেটের সকাল ডেস্ক :: নিঃস্বার্থভাবে অসহায় মানুষের সেবা করাই মানবধর্ম। মানবসেবা পুণ্যময় ইবাদত। দরিদ্র মানুষের দুর্দিনে সহানুভূতি ও সহমর্মিতার মানসিকতা যাদের নেই, সে পূর্ণ মোমিন হতে পারে না। সুতরাং নামাজ, রোজার সঙ্গে মানবসেবার মানসিকতা জরুরি। মানবেতর জীবনযাপন করে শীতে অগণন ছিন্নমূল, গরিব, দুঃখী, বস্ত্রহীন শিশু ও বৃদ্ধ। তাই ধর্ম-বর্ণ, দল-মত নির্বিশেষে শীতার্ত বস্ত্রহীন মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব। যে ব্যক্তি মানবসেবার এ কাজ করবে তার জন্য নবী করিম (সা.) পরকালীন পুরস্কারপ্রাপ্তির কথা ঘোষণা করেছেন, ‘এক মুসলমান অন্য মুসলমানকে কাপড় দান করলে মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতের পোশাক দান করবেন। ক্ষুধার্ত অবস্থায় খাদ্য দান করলে আল্লাহ তাকে জান্নাতের সুস্বাদু ফল দান করবেন। কোনো মুসলমানকে তৃষ্ণার্ত অবস্থায় পানি পান করালে আল্লাহ তাকে জান্নাতের সিলমোহরকৃত পাত্র থেকে পবিত্র পানি পান করাবেন।’ (সুনানে আবু দাউদ)।

ইসলামে মানবতার সেবার গুরুত্ব অপরিসীম। জান্নাতে যাওয়ার মাধ্যম বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে মানবতার সেবকদের। আর আর্তমানবতার সেবা না করাকে জাহান্নামে যাওয়ার কারণ বলা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের কীসে দোজখে নিক্ষেপ করেছে? তারা বলবে, আমরা মুসল্লিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না, আমরা অভাবগ্রস্তকে আহার দান করতাম না।’ (সূরা মুদ্দাসসির : ৪২-৪৪)। পবিত্র এ আয়াতে গরিব-অসহায়দের সাহায্য, আহার না দেয়া, জাহান্নামে যাওয়ার অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মহান আল্লাহ আরও বলেন, ‘তুমি কি দেখেছ তাকে, যে দ্বীন অস্বীকার করে? সে তো সেই, যে এতিমকে রূঢ়ভাবে তাড়িয়ে দেয় এবং সে অভাবগ্রস্তকে খাদ্যদানে উৎসাহ দেয় না।’ (সূরা মাউন : ১-৩)। সুতরাং যারা মোমিন হবে, তাদের অবশ্যই বিপদগ্রস্ত ও আর্তমানবতার সাহায্যে এগিয়ে আসতে হবে।

যারা আল্লাহর রাস্তায় দান করে তাদের উপমা দিতে গিয়ে মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা আল্লাহর পথে তাদের সম্পদ ব্যয় করে, তাদের উপমা একটি বীজের মতো, যা উৎপন্ন করল সাতটি শিষ, প্রতিটি শিষে রয়েছে ১০০ দানা। আর আল্লাহ যাকে চান তার জন্য বাড়িয়ে দেন। আর আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।’ (সূরা বাকারা : ২৬১)। হজরত আবু মুসা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘একজন মোমিন অপর মোমিনের জন্য একটি ভবনসদৃশ, যার এক অংশ আরেক অংশকে মজবুত করে।’ অর্থাৎ সবল মোমিনদের সাহায্য-সহযোগিতায় অসহায় ও দ্বীনহীনরা শক্তিশালী হয়ে উঠবে, তাদের দৈন্য কেটে যাবে। এটিই শাশ্বত ও সত্য ধর্ম ইসলামের শিক্ষা ও প্রত্যাশা।’(মুসলিম : ৬৩৪৯)।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মোমিনের পার্থিব সব কষ্ট থেকে কোনো কষ্ট দূর করবে, কেয়ামতের সব কষ্ট থেকে আল্লাহ তার একটি কষ্ট দূর করবেন। যে ব্যক্তি কোনো অভাবীকে দুনিয়ায় ছাড় দেবে, আল্লাহ তায়ালা দুনিয়া ও আখিরাতে তাকে ছাড় দেবেন। যে ব্যক্তি কোনো মোমিনের দোষ গোপন রাখবে, আল্লাহ তায়ালা দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ গোপন রাখবেন। আর আল্লাহ তায়ালা বান্দার সাহায্যে থাকেন যতক্ষণ সে তার ভাইয়ের সাহায্য করে যায়।’ (মুসলিম : ৭০২৮; সুনানে আবু দাউদ : ৪৯৪৮)।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যারা দয়া করে থাকে (সৃষ্টির প্রতি) পরম দয়ালু আল্লাহও তাদের প্রতি দয়া করে থাকেন।’ সুতরাং তোমরা জগদ্বাসীদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করো, তাহলে আকাশের মালিক মহান আল্লাহও তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।’ (সুনানে আবু দাউদ ও সুনানে তিরমিজি)।

শীতার্ত মানুষের সেবা ইসলামের অতি আগ্রহ এবং অনন্ত প্রেরণার স্বাক্ষর হিসেবে আর কিছু নয়; শুধু নিম্নোক্ত হাদিসে কুদসিই যথেষ্ট হতে পারে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘কেয়ামত দিবসে নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ বলবেন, হে আদম সন্তান, আমি অসুস্থ হয়েছিলাম; কিন্তু তুমি আমার শুশ্রুষ করোনি। বান্দা বলবে, হে আমার প্রতিপালক। আপনি তো বিশ্বপালনকর্তা কীভাবে আমি আপনার শুশ্রুষা করব? তিনি বলবেন, তুমি কি জানতে না যে, আমার অমুক বান্দা অসুস্থ হয়েছিল, অথচ তাকে তুমি দেখতে যাওনি। তুমি কি জান না, যদি তুমি তারশুশ্রুষা করতে তবে তুমি তার কাছেই আমাকে পেতে।

হে আদম সন্তান, আমি তোমার কাছে আহার চেয়েছিলাম; কিন্তু তুমি আমাকে আহার করাওনি। বান্দা বলবে, হে আমার রব, তুমি হলে বিশ্ব পালনকর্তা, তোমাকে আমি কীভাবে আহার করাব? তিনি বলবেন, তুমি কি জান না যে, আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে খাদ্য চেয়েছিল; কিন্তু তাকে তুমি খাদ্য দাওনি। তুমি কি জান না যে, তুমি যদি তাকে আহার করাতে তবে আজ তা প্রাপ্ত হতে? হে আদম সন্তান, তোমার কাছে আমি পানীয় চেয়েছিলাম, অথচ তুমি আমাকে পানীয় দাওনি। বান্দা বলবে, হে আমার প্রভু, তুমি তো রাব্বুল আলামিন তোমাকে আমি কীভাবে পান করাব? তিনি বলবেন, তোমার কাছে আমার অমুক বান্দা পানি চেয়েছিল; কিন্তু তাকে তুমি পান করাওনি। তাকে যদি পান করাতে তবে নিশ্চয়ই আজ তা প্রাপ্ত হতে।’ (মুসলিম : ৬৭২১)।

শেয়ার করুন