মুক্ত রাজনীতির বিকল্প নেই

অনিন্দ্য শুভ

সংস্কৃতি শব্দটি পরিবার থেকে শুরু করে সমাজ, রাষ্ট্র সর্বত্র জড়িত। অর্থাত্, একটি পরিবার যেমন সংস্কৃতি দ্বারা প্রভাবিত একই ধারায় সমাজ ও রাষ্ট্রেও।

সেদিক থেকে বিবেচনা করলে রাজনীতিরও রয়েছে নিজস্ব সংস্কৃতি অর্থাত্ রাজনৈতিক সংস্কৃতি। রাজনৈতিক সংস্কৃতি (political culture) শব্দটি যার হাত দ্বারা আত্মপ্রকাশ ঘটে তিনি হলেন সিডনি ভার্বা।

রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে যে জিনিসটি আবিষ্কার হয় তা হলো, রাজনৈতিক বিশ্বাস, চেতনা, মূল্যবোধ ও পারস্পরিক বিশ্বাস।

এখন একটা দেশের রাজনৈতিক অবস্থায় যদি রাজনৈতিক সংস্কৃতির ভাবধারা অনুপস্থিত থাকে তাহলে সেখানে যেমন গণতন্ত্রের প্রকাশ ঘটে না; তেমনি অবরুদ্ধ হয় রাষ্ট্রের সম্মুখ যাত্রা!

বাংলাদেশের চলমান রাজনীতিতে যে সুষ্ঠু রাজনৈতিক সংকট পড়েছে তা  সামপ্রতিক সময়ের আবিষ্কার এমন নয়! ৭৫ পরবর্তী সময় থেকেই আমাদেরকে এমন রাজনৈতিক পরিবেশের মধ্য দিয়ে দৌড়াতে হচ্ছে।

উপর্যুপরি বুকে দুই হাত রেখে বলতে পারি আমাদের রাজনীতিতে যে সুষ্ঠু রাজনৈতিক সংস্কৃতির অনুপস্থিতি তাতে গণতন্ত্র বিপথগামী হয়ে হাঁটছে।

বলুন তো আমাদের কী দেখতে হয়নি ? বিরোধী দলের ক্রমাগত সংসদ বর্জন, সর্বক্ষেত্রে সরকারি দলের প্রভাব বিস্তার, জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলন, হরতাল, সংসদ ও তার বাইরে একদল আরেক দলকে নানাভাবে হেয়মূলক কথাবার্তা বলে রেষারেষি তৈরি  করা  ইত্যাদি।

এখন বলুন তো আমি যতগুলো কারণ তুলে ধরেছি তা কি গণতন্ত্রের সঙ্গে বিরোধ সাপেক্ষ নয়? গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে আর কোনো কিছুর আবশ্যকতা নেই বলে আমি মনে করি।

আমরা মাইক বাজিয়ে, মিডিয়ার বুকে দাঁড়িয়ে বলে বেড়াই যে, আমাদের গণতন্ত্র সুরক্ষিত আছে এবং তা নিজস্ব পথেই চলছে। কিন্তু বাস্তবতা তাই যে, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি আমাদের রাজনীতিতে পুরোপুরি দখল নিতে পারেনি।

এখন আমাকে যদি বলা হয়, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি কেমন হওয়া উচিত? আমার ছোট মাথায় অতশত কাজ করে না বলেই আমি সহজ শর্তে আমাদের এই চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে দুইটি বিষয়কেই উপস্থাপন করবো। যার প্রথমটি হচ্ছে মুক্ত রাজনৈতিক চর্চা এবং পরেরটি রাজনীতিতে তরুণদের অবস্থান স্পষ্ট করা।

প্রথমেই আমি আলোকপাত করবো মুক্ত রাজনৈতিক চর্চার বিষয়ে। আমি বলতে বাধ্য যে, সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য আবশ্যক মুক্ত রাজনৈতিক চর্চা। আর এই মুক্ত রাজনৈতিক চর্চা কেবল রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকবে তা নয়।

মুক্ত রাজনৈতিক চর্চা হবে বিকেন্দ্রীকরণ;অর্থাত্ জনগণ শুধু তার ভোটাধিকার প্রয়োগেই থেমে যাবে তা নয়, তাকেও যেন রাজনৈতিক মতামত প্রকাশের  সুযোগ দেওয়া হয় সেই পরিবেশ তৈরি  করতে  হবে।

কিন্তু অযথাই বঙ্গদেশে রামের গীত কে শোনে আমরা যেখানে সবাই ব্যস্ত রহিম গীতে!! মুক্ত রাজনৈতিক চর্চা বঙ্গ রাজনীতিতে নেই বললেই চলে। কারণ ধ্বংসাত্মক, আত্মকেন্দ্রিক রাজনীতি নিয়েই যে আমরা ব্যস্ত।

কিন্তু গণতন্ত্রের পথ সুগম করতে মুক্ত রাজনীতির কোনো বিকল্প নেই।

পরের বিষয়টি ছিল রাজনীতিতে তরুণদের অবস্থান স্পষ্ট করা। বলেই রাখি আঁতুরঘরের শিশুটিও বোধ হয় আমাকে পাগল বলতে পারে- ছাত্রলীগ, ছাত্রদল বা অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের এতো তরুণ রাজনৈতিক  নেতা  থাকতে  আমি আবার  রাজনীতিতে কাদের স্পষ্ট অবদান দেওয়ার কীর্তন গাইছি!

আসলে বঙ্গ রাজনীতিতে তরুণদের আবশ্যকতা থাকা সত্ত্বেও সেখানে তরুণদের উপস্থিতি নগণ্য! এতক্ষণ যাদের কথা বলা হলো তারা কোনো না কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সহযোগী হিসেবে কাজ করে। যার কারণে তার ঐ রাজনৈতিক দলগুলো দ্বারা প্রভাবিত অনেকটা স্বকীয়তা হারানোর মতো তাদের অবস্থান।

রাজনীতির এই মায়াজাল থেকে বের হয়ে আসতে তরুণদের দায়িত্ব নেওয়া উচিত কিন্তু সেই কাজটা এগিয়ে দিতে হবে আমাদের সমাজপতিদেরকে (যারা রাজনীতিতে প্রবীণ)।

কারণ তরুণদের বুদ্ধিদীপ্ত ভাবনা রাজনীতিকে বেগবান করে তুলবে।

মোট কথা রাজনীতিতে তরুণরা যাতে জড়াতে কোনো সংকোচ বোধ না করে সেই পরিবেশ তৈরি  করা আবশ্যক।

রাজনীতিতে গণতন্ত্রের জাগরণের জন্য গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করা আবশ্যক। আর সেখানে সর্বসম্পৃক্ততা (মুক্ত রাজনৈতিক  চর্চা+তরুণদের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট ইত্যাদি) তৈরি করা প্রয়োজন।

আমাদের চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে অবশ্যই রাজনৈতিক দলগুলোর সহনশীল মনোভাব আবশ্যক।

লেখক :শিক্ষার্থী, এমসি কলেজ, সিলেট।

উৎস: ইত্তেফাক

শেয়ার করুন