বিশ্বনাথে উত্তরাধীকারী সাজিয়ে প্রবাসীর সম্পদ আত্মসাতের পাঁয়তারা

সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ

সিলেটের সকাল ডেস্ক :: বিশ্বনাথের কাজীরগাঁওয়ে জাল উত্তরাধীকারী সনদ তৈরি করে প্রবাসীর সম্পদ আত্মসাতের পাঁয়তারার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উদ্দেশ্য হাসিলে কেয়ারটেকারের উপর হামলা-মামলাসহ বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে কুচক্রি মহল। বুধবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন কাজীরগাঁও গ্রামের মৃত ওয়াহাব আলীর পুত্র যুক্তরাজ্য প্রবাসী কলমদর আলীর কেয়ারটেকার আনরপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘প্রবাসী কলমদর আলীর পিতা মরহুম ওয়াহাব আলী যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত স্ত্রীর মোছা. নছিরা বিবির অনুমতি না নিয়ে ৬৫ বছর বয়সে দেশে অবস্থানকালে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। প্রথম পক্ষের ৪ ছেলে ও ২ মেয়ে সন্তান রেখে একটি কুচক্রি মহলের ইন্ধনে ১৯৯৪ সালের ৫ মে সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই থানার কুলঞ্জ গ্রামের মহবত উল্লার মেয়ে মোছা. আলেয়া বিবি (২৮) এর সাথে এই বিবাহ হয়। দ্বিতীয় স্ত্রীর গর্ভে শাহানারা বেগম ও মো. ইউসুফ আলী নামে দুই সন্তানের জন্ম হয়। ওয়াহাব আলী তাদের যুক্তরাজ্যে নেয়ার জন্য ভিসার আবেদন করেন। ভিসা প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ এ দুই সন্তানের ডিএনএ পরীক্ষা নির্দেশ দেন। ডিএনএ পরীক্ষায় দুই সন্তানের সাথে মা আলেয়া বিবির রিলেশনশীপ সনাক্ত হয় এবং পিতা ওয়াহাব আলীর সাথে কোনো রিলেশনশিপের প্রমাণ পাওয়া যায় নাই বলে উল্লেখ করা হয়। ফলে তাদের ভিসা বাতিল হয়ে যায়। এ অবস্থায় গত ২০০২ সালের ১৫ আগস্ট ওয়াহাব আলী বড় অংকের টাকা দিয়ে আলেয়া বেগমকে তালাক প্রদান করেন। ২০১০ সালের ৭ নভেম্বর ওয়াহাব আলী মৃত্যুবরণ করার পর স্থাবর সম্পত্তি নামজারী করার জন্য বিশ্বনাথ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর নামজারী মোকদ্দমা নং-২৩০৩/২০১৬-১৭ দাখিল করেন কলমদর আলী। বিষয়টি জানার পর তালাকপ্রাপ্ত দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তান শাহানারা বেগম (২২) ও মো. ইউসুফ আলী একই দপ্তরে হাজির হয়ে এ সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারী দাবি করে। আবেদনের প্রেক্ষিতে তদন্তকালে দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ড সদস্য মো. গোলাম হোসেন এবং চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আমির আলী স্বাক্ষরীত দুইটি উত্তরাধীকারী সনদপত্র পর্যালোচনায় দুই পক্ষের নামে দুইটি ভিন্ন ভিন্ন হওয়ায় জটিলতার সৃষ্টি হয়।

তিনি বলেন, কুচক্রি মহল গত ১২ সেপ্টেম্বর কলমদর আলীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং অপর কেয়ারকেটার আনিছকে আহত করে টাকা পয়সা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটপাট করে নিয়ে যায়।

তিনি আরো বলেন, ওয়াহাব আলীর সম্পত্তির লোভে আলেয়া বিবির সন্তান শাহানারা বেগম ও ইউসুফ আলীকে ফুসলিয়ে কাজীরগাঁওয়ের আছকির মিয়া, তোতা মিয়া, কাছা মিয়া, আগুর মিয়া, হোশিয়ার আলী, কলমদর আলী, পিতা- মৃত ওয়াহাব আলী (ওরফে কদু পীর), আতিক আলী, মবউল্লাহ, ছুরত মিয়া, তছির আলী, আমির আলী, নূর মিয়া ও লাল মিয়া বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে জাহাঙ্গীর আলম প্রবাসী পরিবারের সম্পত্তি রক্ষায় ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে আইননানুগ ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন

শেয়ার করুন