বিএনপির সঙ্গে আলোচনার কোনো প্রয়োজন নাই: প্রধানমন্ত্রী

সিলেটের সকাল ডেস্ক :: আগামী নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সঙ্গে আলোচনার কোনো প্রয়োজন নাই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, “বিএনপি নাকে খত দিয়ে নির্বাচনে আসবে। এবার আর তারা ভুল করবে না।”

বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসন ভবন গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এসব কথা বলেন। কম্বোডিয়া সফর সম্পর্কে বিভিন্ন দিক তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এটিএন বাংলার সাংবাদিক জ ই মামুনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গণতান্ত্রিক একটি দেশে যে দলগুলো গণতন্ত্র চর্চা করে সেই সব দলের নির্বাচনে আসা কর্তব্য। তবে কে নির্বাচনে আসবে আর কে নির্বাচনে আসবে না সে ব্যাপারে সরকারের কিছু করণীয় নেই।”

সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিএনপিকে নির্বাচনে আনা নিয়ে যদি আপনাদের এতই আগ্রহ থাকে তাহলে তেলের টিন, ঘিয়ের টিন নিয়ে সেখানে যান। আমি অপাত্রে ঘি ঢালি না।”

আগামী নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকার কোনো উদ্যোগ নেবে কি না, ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্তের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বরণ ডালা পাঠাতে হবে?’ একবার তার (খালেদা জিয়া) সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে আমন্ত্রণ জানিয়ে ঝাড়ি খেয়েছি, অপমানিত হয়েছি। আর ঝাড়ি খাওয়ার-অপমানিত হওয়ার ইচ্ছে নেই। যাদের মধ্যে ভদ্রতা জ্ঞান নেই, তাদের সঙ্গে আলোচনার ইচ্ছে নেই।”

দৈনিক সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ারের এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “উত্তর একটাই সব ফুল ফুটতে দিন। অনেকে প্রার্থী হতে চান, ভালো কথা। এটা তাদের রাজনৈতিক অধিকার। কেন সবাই প্রার্থী হতে পারবেন না? শত ফুল ফুটবে। হোক না। শত ফুলের মধ্যে যেটা ভালো সব থেকে সুন্দর ফুল সেটা আমরা বেছে নেবো। সময় এলে আপনারা দেখতে পারবেন। আর কীভাবে নেবো সেটা সময়ই বলে দেবে।”

গোলাম সারওয়ারের আরেক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “জনগণ ভোট দিলে আছি, না দিলে নাই। দেশের জনগণের জন্য কাজ করেছি। দেশের উন্নয়নে কাজ করেছি। এরপরও জনগণ যদি ভোট না দেয় তাহলে আমরা নেই। যারা ভোট পাবে তারা ক্ষমতায় যাবে। এতে আমার কোনো আফসোস নেই।”

সংবাদ সম্মেলন মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। এ ছাড়া সেখানে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা, সরকারের মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা।

শেয়ার করুন