কাউন্সিলর জাবেদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন সিমন!

সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ

সিলেটের সকাল ডেস্ক :: কাউন্সিলর আব্দুল মুহিত জাবেদ এবং ফজলুর রহমান সোনাই মিয়া ও তার ভাতিজির বিরুদ্ধে আব্দুল আহাদ সিমন অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন সওদাগরটুলার মৃত আব্দুল আজিজের পুত্র ফজলুর রহমান সোনাই মিয়া।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, চামেলীবাগ মেজরটিলার বাসিন্দা মৃত আব্দুন নূরের ছেলে আব্দুল আহাদ সিমন সংবাদ সম্মেলনে তাদেরকে জড়িয়ে যে বক্তব্য দিয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট ও উদ্দেশ্যে প্রণোদিত। আগামী সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি মহলের ইন্ধনে কাউন্সিলর আব্দুল মুহিত জাবেদকে সমাজ ও আইনের চোখে অপরাধী বানানোর হীন অপচেষ্টা করছে সিমন।

সংবাদ সম্মেলনে দেয়া সিমনের বক্তব্য মিথ্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার বাড়িতে সিমনের কোনো পৈত্রিক ভিটা নেই। সিমনের পিতা আব্দুল নূরের জন্ম কুয়ারপাড় এলাকায়। আমার পিতার মুত্যুর পর আমার মাতা ময়না বিবি কুয়ারপাড় এলাকার নজির মিয়ার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। নজির মিয়ার ছেলে হলেন আব্দুল নূর। আর আব্দুল নূরের ঔরুসজাত সন্তান আব্দুল আহাদ সিমন। আমি ও আমার অপর ভাই আব্দুল রহমান (সন্টর মিয়া) একই বাড়িতে বসবাস করে আসছি। আমার ভাইয়েরা খরিদাসূত্রে উক্ত বসতবাড়ির মালিক ও দখলকার। আব্দুন নূরের ছেলে আব্দুল আহাদ সিমন তার দাদির ফরাজের ভুমি দাবী না করে উল্টো পৈত্রিক ভুমি উল্লেখ করে একের পর এক অপপ্রচার ও মিথ্যা মামলা মোকদ্দমা দায়ের করে আসছে। তার দাদি আমার মাতা ময়না বিবি যেহেতু কুয়ারপাড় এলাকার নজির মিয়ার স্ত্রী,সেহেতু তিনি ফরাজের সূত্রে ভুমির মালিক দাবী করলেও এই ভুমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান। অথচ আদালতে মামলা চলাকালীন সময়ে আব্দুল আহাদ সিমন সম্পূর্ন অন্যায়ভাবে মিথ্যার আশ্রয়ে পৈত্রিকভুমি উল্লেখ করে আসছে।

তিনি বলেন, সিমন আমাদের বিরুদ্ধে তাকে ও তার মাকে পৈত্রিক ভিটা থেকে তাড়িয়ে দিতে হামলা-মামলার যে অভিযোগ করেছে তা কাল্পনিক এবং বানোয়াট। সে উল্টো আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে পৈত্রিক ভুমি দাবি করে একের পর এক মিথ্যা মামলা মোকদ্দমা দায়ের করে আসছে।

আব্দুল আহাদ সিমন বর্তমানে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সে পৈত্রিক ভুমি পাওনার অজুহাতে প্রভাব খাটিয়ে অপতৎপরতা চালাচ্ছে। সিমনের বিভিন্ন অপকর্মে অতিষ্ঠ হয়ে আমার ভাতিজা হাবিবুর রহমান হাবিব থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে বাধ্য হয়। বিষয়টি মীমাংসার জন্য ১৩ সদস্য বিশিষ্ট সালিশ কমিটি গঠন করা হয়। সালিশে আব্দুল আহাদ সিমনসহ বাড়িতে বসবাসরত সবাইকে নিয়ে একটি অঙ্গিকারনামা সম্পাদন করা হয়। অঙ্গিকারনামায় উল্লেখ করা হয়, সালিশ বিচারকগণ যে রায় দেবেন, সে রায় সবাই মেনে নেবেন। শালিসের মাধ্যমে একজন আইনজীবী নিয়োগ করা হয়। শালিস বিচার চলাকালীন সময়ে শালিসাগণের রায় ঘোষণার পূর্বে আব্দুল আহাদ সিমন শালিসাগণের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা মোকদ্দমা দায়ের করতে থাকে। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি খারাপ ধারণ করলে সিলেট কতোয়ালী থানা থেকে গত ১৭ জুলাই নোটিশের মাধ্যমে উক্ত বাড়িতে শান্তিশৃংখলা রক্ষাসহ কোনোরূপ দখল কিংবা হামলা না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এবং যে যার অবস্থানে থাকতে বলা হয়। এরপরও গত ৪ নভেম্বর সিমনের নেতৃত্বে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আখতার হোসেন, আসকার হোসেন, বাবর আহমদসহ একটি দল আমার বাড়িতে হামলা চালায় ও ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় আমি সিলেট কতোয়ালী থানায় পাঁচ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৭/৮ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করি । মামলা নং-০৯/২০১৭।

ফজলুর রহমান সোনাই মিয়া তার পরিবারের সকল সদস্যের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং আব্দুল আহাদ সিমনসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান।

শেয়ার করুন