আগাম নির্বাচনে প্রস্তুত বড় দুই দল

সিলেটের সকাল ডেস্ক :: আগাম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হলে অংশ নিতে প্রস্তুত রয়েছে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, তাদের দল যে কোন সময় নির্বাচনে অংশ নিতে তৈরি। আগামী মাসেও যদি নির্বাচন হয় আওয়ামী লীগ তাতে অংশগ্রহণে প্রস্তুত রয়েছে। তবে বরাবরের মতোই নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বিএনপির রয়েছে শর্ত। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমদ জানিয়েছেন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হলে যে কোন সময় বিএনপিরও নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি রয়েছে। অবশ্য নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজন করা হয় কী না- সেটাই মূখ্য বিষয়। গতকাল শুক্রবার রাজধানীতে পৃথক দুটি অনুষ্ঠানে আগাম নির্বাচন সম্পর্কে নিজেদের দলীয় অবস্থান এভাবেই তুলে ধরলেন এই দুই নেতা।

এর আগে আগাম নির্বাচন নিয়ে কথা বলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদাও। গত বুধবার সিইসির সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত রেনসিয়ে টিয়েরিংক বৈঠক করেন। ওই বৈঠক শেষে সিইসি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, সরকার চাইলে আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রস্তুত রয়েছে। নির্বাচন কমিশন আগাম নির্বাচনের জন্য কতটুকু প্রস্তুত সে সম্পর্কে জানতে চাইলে সিইসি বলেন, সেটা করা যাবে। নির্বাচনের জন্যতো ৯০ দিন সময় থাকে। এটাতো সরকারের ওপর নির্ভর করে আগাম নির্বাচনের বিষয়টা। তারা যদি আগাম নির্বাচনের জন্য বলে, তখন আমরা পারবো। সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে আমাদের কোনো আপস নেই।

ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে গতকাল দলের সম্পাদকমন্ডলীর সদস্যদের সঙ্গে সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের যৌথসভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচন আগামী মাসে হলেও আওয়ামী লীগ প্রস্তুত।’ তিনি বলেন, ‘আমরা তো প্রস্তুতি নেবো আগামী মাসে নির্বাচন হলে কিভাবে জিততে পারি। যদি নির্বাচন আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে হয়, তাহলে আমাদের সাংগঠনিক প্রস্তুতি থাকবে না? নির্বাচনের বিষয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এখতিয়ার। তিনি তো বলেন নাই কবে নির্বাচন হবে। আমরা ধরে রাখছি নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে। কিন্তু এখন যদি প্রধানমন্ত্রী মনে করেন তিনি আগাম নির্বাচন দেবেন সেটা তার এখতিয়ার। এটা নিয়ে আমাদের সঙ্গে কোনও কথা হয় নাই। তবে নির্বাচনের জন্য আমরা সব সময়ই প্রস্তুত আছি।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরো বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জনসমর্থনের দিক দিয়ে বিএনপি আওয়ামী লীগ থেকে অনেক পিছিয়ে আছে। তিনি বলেন, ‘আমরা আগামীবার ক্ষমতায় আসব কি আসব না, সেটা নির্ধারণ করবেন আল্লাহ ও এ দেশের জনগণ। আমরা শুধু বলছি, বিজয়ের ব্যাপারে আমাদের আত্মবিশ্বাস রয়েছে, কারণ আমাদের উন্নয়ন ও অর্জন আছে।’

এদিকে গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক কাউন্সিল’ আয়োজিত ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের আগে নির্বাচন হলেও বিএনপি অংশগহণ করতে প্রস্তুত। তবে নির্বাচন অবশ্যই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতে হবে। যেকোনো সময় নির্বাচন দিলে, আমরা সেই নির্বাচনে প্রতিযোগিতা করব একটা সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ পরিবেশে।’

দুই নেতা আরো যা বললেন:খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বার বার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলেও কেন তাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আদালত ও আইন সরকার নিয়ন্ত্রণ করে না। খালেদা জিয়াকে কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না আদালতকে জিজ্ঞেস করুন।’ বিএনপি রাজপথ উত্তপ্ত করার চেষ্ট করলে আওয়ামী লীগ কি করবে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এই দলটির আন্দোলন করার কোনো ক্ষমতা নেই। তারপরও যদি তারা কোনো অপচেষ্টা করে তবে তাদের প্রতিহত করা হবে।’ সদ্যপ্রয়াত ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হকের স্মৃতিচারণ করে মন্ত্রী বলেন, ‘তিনি (আনিসুল) ছিলেন একজন স্বপ্নবাজ, আধুনিক এবং সংস্কৃতিমনা মানুষ। আমরা তার মৃত্যুতে গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি।’

সভায় অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য ডা. দীপু মণি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, এনামুল হক শামীম, আবদুস সোবহান গোলাপ, ফরিদুন্নাহার লাইলী, শ ম রেজাউল করিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে টিউলিপ সিদ্দিক টানা তৃতীয়বার এমপি নির্বাচিত হওয়ায় দলের পক্ষ থেকে তাকে অভিনন্দন জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। এদিকে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি প্রসঙ্গে মওদুদ আহমদ বলেন, আমি ৫০ বছরেরও বেশি সময় আইনজীবী হিসেবে কাজ করছি, কখনো দেখিনি সাপ্তাহিক জামিন। এতে আবারো প্রমাণ হলো নিম্ন আদালত স্বাধীন নয়, এই আদালতের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ সরকারের হাতে। তিনি বলেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী সংসদে আমাকে নিয়ে পাঁচ মিনিট বক্তব্য রেখেছেন। আমার যতো খারাপ দিক আছে সব তুলে ধরেছেন, অনেক সমালোচনা করেছেন। কিন্তু তিনি হয়তো ভুলে গেছেন সে সময়ে আমরা যারা আওয়ামী লীগ করতাম না এমন চারজন আইনজীবীই আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধুর আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ করে দিয়েছিলাম। এই জন্য কৃতজ্ঞতা থাকা দরকার ছিলো।

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বিএনপি নেতা বলেন, আজকে দুঃখের সাথে বলতে হয়, বর্তমানে কূটনৈতিক ব্যর্থতার কারণে বাংলাদেশ সরকারকে মিয়ানমারের একটি চুক্তির ফাঁদে পড়তে হয়েছে। যে চুক্তি কোনো দিন কার্যকর করা সম্ভব হবে না। নোয়াখালীর ভাসান চরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত ভুল দাবি করে তিনি বলেন, নোয়াখালীর ভাসান চরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর করা হবে আত্মঘাতী। এই আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন দৈনিক আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি প্রমুখ।

উৎস: ইত্তেফাক

শেয়ার করুন