সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির সমাবেশ রোববার

সিলেটের সকাল রিপোর্ট:আগামীকাল রোববার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করবে বিএনপি।

বিএনপির একাধিক নেতা জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে লিখিত অনুমতি মেলেনি। মৌখিক আশ্বাসের ওপর নির্ভর করেই আয়োজন করা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত হয়তো শর্ত আরোপ করা হতে পারে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়াও শুক্রবার রাতে সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘এখনও বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।’ অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপির সমাবেশের অনুমতি দেওয়ায় আবারও প্রমাণিত হয়েছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার কত গণতান্ত্রিক।

শুক্রবার বিকেলে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পরিদর্শনে যায়। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা সেখানে কীভাবে মঞ্চ তৈরি হবে, কতজন লোক বসতে পারবে, মঞ্চের সামনে কতটুকু জায়গা খালি থাকবে, এসব বিষয়ে মঞ্চনির্মাতাদের সঙ্গে কথা বলেন।

উদ্যান পরিদর্শনের পর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। সমাবেশের সর্বশেষ প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেন দলের নেতারা।

সমাবেশের স্থান পরিদর্শন করে মির্জা আব্বাস সাংবাদিকদের বলেন, আগামীকালের সমাবেশ অনুষ্ঠানে সরকারের কাছ থেকে ‘রাজনৈতিক আচরণ’ প্রত্যাশা করছি। ক্ষমতাসীন দলের নেতারা যেন কোনো উস্কানিমূলক কাজ না করেন। এটি যেন শান্তিপূর্ণভাবে করা যায়, সেজন্য সরকারের সহযোগিতা চাই।

মির্জা আব্বাস বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিশৃঙ্খলা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে; কিন্তু বিশৃঙ্খলা কারা করে, তা দেশের মানুষ জানে। বিএনপি কখনও বিশৃঙ্খল দল নয়, সুশৃঙ্খল দল। আওয়ামী লীগের মনের ভেতরে কী আছে, তা প্রকাশ করে দিলেন তাদের সাধারণ সম্পাদক। উনার কথায় উস্কানিমূলক ইঙ্গিত বহন করে। বিএনপি সমাবেশ করতে সরকারের সহযোগিতা চায়। কোনো রকম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করলে ব্যাপক লোকসমাগম হবে বলে আশা করেন তিনি।

শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেলকে নিয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যান। সেখানে মাঠে মঞ্চের স্থান ও তার সম্ভাব্য নকশা নিয়ে নির্মাতার সঙ্গে আলাপ করেন তারা। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনে গেট দিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শান্তিপূর্ণভাবে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রবেশের প্রক্রিয়া নিয়েও কথাবার্তা বলেন তারা।

পরিদর্শনের সময় অন্য নেতাদের মধ্যে ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব, আবদুল সালাম আজাদ, মহানগর দক্ষিণের কাজী আবুল বাশার, রফিকুল ইসলাম রাসেল, সাইফুল ইসলাম পটু, মহানগর উত্তরের মুন্সি বজলুল বাসিত আনজু, আহসানউল্লাহ হাসান, স্বেচ্ছাসেবক দলের শফিউল বারী বাবু, মোস্তাফিজুর রহমান ফিরোজ, যুব দলের মোরতাজুল করীম বাদরু, মামুন হাসান, নুরুল ইসলাম নয়ন, চেয়ারপারসনের গণমাধ্যম শাখার কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান প্রমুখ।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি এতে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এবং ২০১৪ সালের মতো ভোটারবিহীন নির্বাচন না করার জন্য পরামর্শমূলক বক্তব্য দেবেন বলে জানিয়েছেন দলের নেতারা। বিএনপি চেয়ারপারসন তার বিরুদ্ধে চলমান মামলার কথা উল্লেখ করে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বানও জানাবেন বলে সূত্র জানিয়েছে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচনের দিনটিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন উপলক্ষে এর দুই বছর পূর্তিতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের আবেদন করেছিল বিএনপি। অনুমতি না পেয়ে তারা নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করে। তাই তিন বছর পর এবারের এ সমাবেশকে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বিএনপি হাইকমান্ড। ব্যাপক শো-ডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। এ প্রসঙ্গে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে পুলিশ বাধা না দিলে সমাবেশে লক্ষাধিক লোকজনের সমাগম ঘটবে।

শেয়ার করুন