সিলেট থেকে জয় নিয়ে ফিরছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স

মিজান আহমদ চৌধুরী, সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম থেকে : স্বাগতিক সিলেটের বিপক্ষে দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলেও কপাল পুড়েছিলো কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের। নুরুল হাসান সোহান ম্যাজিকে শেষ ওভারে ম্যাচটা হারতে হয়েছিলো তাদেরকে। তবে দুই ম্যাচে এক জয় দিয়ে অবশেষে ঢাকা ফিরতে পারছে তারা। শুধু জয় বললে ভুল হবে, বন্দর নগরীর দল চিটাগং ভাইকিংসকে এক প্রকার উড়িয়ে দিয়েছে তারা। ম্যাচে তাদের জয় ৮ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে।
ম্যাচ শেষে ভিক্টোরিয়ান্স দলপতি মোহাম্মদ নবী জানান, প্রথম ম্যাচে আমরা চাপে ভেঙ্গে পড়েছিলাম। তবে এই ম্যাচে আমরা চাপকে জয় করেছি। বিশেষ করে আমাদের বোলারেরা দারুণ বল করে ম্যাচ আমাদের পক্ষে নিয়ে এসেছে। রাশিদ, ব্র্যাভো ও সাইফুদ্দিন অসাধারণ বল করেছে। ব্যাটিং অর্ডার বদল করায় কাজে দিয়েছে।
বিপিএল সিজন ফাইভে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ব্যাট করতে নেমে বন্দর নগরীর দলটি উড়ন্ত সূচনা করে। দুই ওপেনার মিলে পাওয়ার প্লের প্রথম ৬ ওভারে ৬৩ রান তুলেন। এসময় কুমিল্লার বোলারদের বেশী শাসন করেন লুক রনচি। ২১ বলের তার ৪০ রানের ইনিংসে ৪টি বাউন্ডারির সাথে ৩টি ওভার বাউন্ডারি ছিলো। তবে তার এই ইনিংসটি মাত্র ৯ রানের মাথায় শেষ হয়ে যেতে পারতো যদি না আল-আমিনের বলে পয়েন্টে ক্যাচ না ছাড়তেন অলক কাপালি। তবে সেই কাপালির হাতেই ক্যাচ দিয়ে ৪০ রান করে প্যাভিলিয়নের রাস্তা ধরেন লুক রনচি। বোলার ভূমিকায় এ সময় ছিলেন অধিনায়ক মো: নাবী। রনচির বিদায়ের পরও ওপর ওপেনার সৌম্য সরকার উইকেটে থেকে শ্রীলংকান রিক্রুট মুনাভিরাকে দিয়ে রানের চাকা সচল রাখেন। মাত্র ১২ ওভারে দলের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১০০ রান। তবে এর পরই বন্দর নগরীর দলটির ছন্দ পতন হয়। দলীয় ১০১ ও ১০৬ রানে দুই সেট ব্যাটসম্যান সৌম্য (৩৮) ও মুনাভিরা (২১) ফিরে যান। যেখানে প্রথম ১০ ওভারে দলের সংগ্রহ ছিলো ১ উইকেটে ৯১ রান। এক সময় তারা স্বপ্ন দেখছিলো ১৭০ রানের উপরে প্রতিপক্ষকে টার্গেট দেয়ার। কিন্তু একের পর এক উইকেট উপহার দিয়ে চাপটা নিজেদের উপরে নিয়ে নেয় চিটাগং ভাইকিংস। মিডল অর্ডার থেকে লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদের মধ্যে একমাত্র সিকান্দার রাজা দুই অংকের রান সংগ্রহ করতে পেরেছেন। এনামুল, মিছবাহ, রাইস এবং শুভদের রান সংগ্রহ ছিলো টেলিফোনের ডিজিটের মতো করে যথাক্রমে ৩, ৬, ৯ ও ৩। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভার শেষে ৭ উইকেটের বিনিময়ে ১৪৩ রান সংগ্রহ করে বন্দর নগরীর দলটি।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে সাইফুদ্দিন তিনটি, ব্র্যাভো দুটি এবং আল আমিন ও নবী ১টি করে উইকেট লাভ করেন।
১৪৪ রানের জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে অফ ফর্মে থাকা উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান লিটন দাস এদিন স্বরূপে ফিরেন। স্বভাব সূলভ ভাবে বোলারদের উপর চড়াও হয়ে খেলতে থাকেন। ওপর ওপেনার বাটলারকে সঙ্গে নিয়ে মাত্র ৪ দশমিক দুই ওভারে দলের সংগ্রহ ৪৩ রানে নিয়ে যান। তখনই দুর্দান্ত খেলতে থাকা লিটনকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন পেসার সুভাশিষ রায়। ১৪ বলে ২৩ রানের ইনিংসে ৩টি বাউন্ডারির সাথে ১টি ওভার বাউন্ডারি মার ছিলো। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে বাটলার ও ইমরুল কায়েস দেখে শুনে খেলতে থাকেন। ৫৬ রানের দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ওভার প্রতি রান ছিলো মাত্র ৬ করে। বাটলার যখন ৪২ বলে ৪৮ রান করে রনচির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন তখন দলের সংগ্রহ ১৩ ওভার ৪ বলে ১০০ রান। শেষ ৬ ওভারে তখন দলের প্রয়োজন ছিল ওভার প্রতি ৬ রানের কিছু বেশী। তখন উইকেটে এসে বাউন্ডারি-ওভার বাউন্ডারিতে দর্শকদেরকে বিনোদন দেন ক্যারাবিয়ান ব্যাটসম্যান স্যামুয়েলস। তার ১৮ বলে ৩৫ রানের ইনিংসে ৪টি চারের সাথে একটি ছয়ের মার ছিলো। সাথে ইমরুল ৩১ বলে ৩৩ রানের ইনিংস খেললে ১৬ বল ও ৮ উইকেট হাতে রেখে টুার্নমেন্টে প্রথম জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।

শেয়ার করুন