সিলেটে আমনের বাম্পার ফলনে কৃষকের হাসি

পাকা ধান হাতে কৃষক। ছবি: এইচ এম শহীদুল ইসলাম

সিলেটের সকাল রিপোর্ট :: চলতি মৌসুমে সিলেটের চার জেলায় আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ধান উৎপাদন হওয়ায় হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে। ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে পাকা ধান কাটা। ফলে ব্যস্ততা বেড়েছে গ্রামের কৃষাণ-কৃষাণির। কয়েক দিন জেলার বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, সিলেট অঞ্চলে ৩ লাখ ৭১ হাজার ৮৬০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তবে আবাদ হয়েছে ৩ লাখ ৮৭ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১৬ হাজার হেক্টর বেশি। এ কারণে সব কিছু ঠিক থাকলে সিলেট বিভাগে সাড়ে ৯ লক্ষাধিক মেট্রিক টন চাল উৎপাদন সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে মোট উৎপাদিত ধানের ৫ শতাংশ কাটা হয়েছে। এছাড়া মাঠে পুরোপুরি পাকা ধান রয়েছে ১৫ শতাংশ। আধাপাতা ধান রয়েছে ১৮ শতাংশ।

 

কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ‘গত দু’বছরের তুলনায় এ বছর আমনের ফলন ভালো হয়েছে। ধানে চিটাও কম। এ কারণে বেশ ভালো ধান উঠবে।’

তারা জানান, এ বছর আমন মৌসুমের শুরুর দিকে হঠাৎ বন্যায় বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দুই বার বীজতলা তৈরি করতে হয়েছে। তবে পরবর্তীতে আবহাওয়া অনুকূল হওয়াতে ধানে ক্ষতি হয়নি। এক্ষেত্রে যারা বিলম্বে আমন রোপন করেছেন তাদের ভালো ফলন হয়েছে। বিশেষ করে, নিম্নাঞ্চলের তুলনায় উঁচু এলাকাগুলোতে বেশি ধান হয়েছে বলেও জানান কৃষকরা।

ধান মাড়াইয়ের পর রোদে শুকাচ্ছেন কৃষক। ছবি: এইচ এম শহীদুল ইসলাম

এদিকে গ্রামের কৃষকরা ধান কাটার প্রস্তুতি হিসেবে খোলা মাঠে তৈরি করেছেন খলাও। চলতি সপ্তাহ থেকে ধান কাটা শুরু হওয়া খলায় উঠছে নতুন ধান। গ্রামের প্রতিটি বাড়ির উঠোনও ভরে যাচ্ছে ধানের গোছায়। আবার অনেক জায়গায় ধান মাড়াইয়ের পর তা রোদে শুকাতে দেখা গেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মো. আলতাবুর রহমান আরো জানান, ‘শতভাগ ধান কাটা শেষ হলে চলতি আমন মৌসুমে সিলেটে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি ধান উৎপাদন হবে। পুরোপুরি ধানকাটা শেষ হতে নভেম্বর চলে যাবে বলেও জানান তিনি।’

তিনি আরো জানান, ‘বোরো মৌসুমে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেই ক্ষতি পুষিয়ে তুলতে আমন মৌসুমে সরকার কৃষকদের বিভিন্ন ধরণের প্রণোদনা দিয়েছিল। তাছাড়া সরকার থেকে বীজ ও সার সহায়তা দেয়ায় তারা উপকৃত হয়েছেন। পাশাপাশি অনুকূল আবহাওয়া এবং রোগ-বালাই না থাকায় এবার ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।’

শেয়ার করুন