‘সিলেটের প্রেসবক্সে বসলে কার্ডিফের কথা মনে পড়ে যায়’

স্পোর্টস রিপোর্টার : ক্রীড়া সাংবাদিকতার মজাই অন্যরকম। খেলা দেখা ও দায়িত্ব পালন একসাথেই হয়। তবে, সে ক্ষেত্রে কাজের স্থানটি নির্ভর করে অনেকাংশে। সকল সুযোগ সুবিধা না থাকলে সে দায়িত্ব পালন হয়ে ওঠে বিষের কাঁটা।
কিন্তু সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম এর ব্যতিক্রম। আধুনিক সকল সুবিধা সমৃদ্ধ এ স্টেডিয়ামের প্রেসবক্সটি আন্তর্জাতিক মানেরই বলা চলে। এরবারের বিপিএল আসর সিলেট থেকে যাত্রা শুরু করেছে। প্রথম পর্ব কভার করতে ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য প্রান্ত থেকে ক্রীড়া সাংবাদিকরা এসেছেন। প্রেসবক্স নিয়ে সবারই একমত। ঢাকা ও চট্টগ্রামের পর সিলেটকেই আদর্শ মানছেন তারা।
দৈনিক মানবকন্ঠের স্পোর্টস এডিটর মহিউদ্দিন পলাশ জানান, সুযোগ সুবিধা মোটামুটি সবই রয়েছে। তবে, বসার জন্য চেয়ারের সারির মধ্যে উচ্চতা তুলনামূলক কম। আর ভিউ সম্পর্কে বলা চলে অসাধারণ।
আলাপকালে বিডি নিউজ টোয়েন্টিফোরের সিনিয়র ক্রিকেট করেসপন্ডেন্ট আরিফুল ইসলাম রনি জানান, আধুনিক সুযোগ সুবিধার সবকিছুই বলা যায় এ প্রেসবক্সে রয়েছে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার এখানকার ‘ভিউ’। গোটা স্টেডিয়াম সামনে থেকে পরখ করা যায়। যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত কার্ডিফ স্টেডিয়ামের প্রেসবক্সের ভিউয়ের সাথে অনেকখানি মেলে। এখানে বসার পর সেই কার্ডিফের কথা মনে পড়ে যায়। এছাড়া এখানকার ডাইনিং স্পেসটাও ভালো। সব মিলিয়ে ঢাকা, চিটাগাংয়ের পর সিলেট স্টেডিয়ামকে আদর্শ বলা চলে।
দি ডেইলি স্টারের মাজহার উদ্দিন প্রথমবারের মতো সিলেটে আসার অভিজ্ঞতায় মুগ্ধতার কথা জানান। তিনি বলেন, এর আগে সিলেটে ম্যাচ কভার করতে আসিনি। অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর এখানকার পরিবেশ। প্রেসবক্সসহ এখানকার আয়োজনেও কমতি নেই।
এসবিসি৭১ ডটকমের মাকসুদা লিসা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, সবই ঠিক আছে। তবে, সিট আরো একটু বাড়ালে ভালো হয়।
বাংলাদেশ ক্রীড়ালেখক সমিতি সিলেট জেলা শাখার সহনভাপতি মান্না চৌধুরী জানান, উপমহাদেশের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন এই স্টেডিয়ামটি সম্বন্ধে নতুন করে বলার কিছু নেই। অতীতে অনুষ্ঠিত হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ কভার করতে আসা দেশী-বিদেশী সংবাদিকরাও এ স্টেডিয়ামের প্রশংসায় ছিলেন পঞ্চমুখ। আশা করা যাচ্ছে ভবিষ্যতে আরো সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধিতে কাজ করবেন সংশ্লিষ্ঠরা।
সিলেট ভেন্যুর মিডিয়া ম্যানেজার ফরহাদ কোরেশী জানান, আয়োজকদের পক্ষ থেকে চেষ্টা করা হয়েছে সব ধরণের সুবিধা প্রদানের। দায়িত্বপালনে আসা সংবাদকর্মীদের কথা মাথায় রেখেই ইন্টারনেট সেবাসহ খাওয়া দাওয়া ও অন্যান্য সব আয়োজন রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরো সুযোগ সুবিধা সংযোজনের কথা রয়েছে।
এতো প্রশংসা আর প্রাপ্তির মাঝেও কিছু কথা রয়েই যায়। প্রেসবক্সের কিছু আইন আছে, কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়। উচ্চস্বরে কথা না বলা, মোবাইল সাইলেন্ট রাখাসহ অন্যান্য কিছু ব্যাপার মেনে চলতে হয়। সিলেটের লোকেরা বরাবরই আবেগপ্রবণ। তাই এসব নিয়ম রপ্ত বা আয়ত্ত হতে কিছুটা সময় হয়তো লাগবে, তবে তা বেশী দিন নয়।

শেয়ার করুন