সিলেটসহ সারাদেশে আয়কর মেলা আজ শুরু

সিলেটের সকাল রিপোর্ট:‘সবাই মিলে দেব কর, দেশ হবে স্বনির্ভর’ শ্লোগানকে সামনে রেখে আজ থেকে সিলেটসহ দেশব্যাপী শুরু হচ্ছে আয়কর মেলা-২০১৭। সপ্তাহব্যাপী এ মেলা চলবে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত। রাজধানীসহ বিভাগীয় শহরে এক সপ্তাহ, জেলা শহরে চার দিন, ৩২টি উপজেলা শহরে দুই দিন এবং ৭১টি উপজেলায় একদিন (ভ্রাম্যমাণ) এ মেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। রাজধানীতে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আগারগাঁওয়ে রাজস্ব বোর্ডের নিজস্ব ভবনসহ বিভিন্ন জেলায় এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে মেলার প্রস্তুতি। নেয়া হয়েছে আয়কর আদায়ের টার্গেট। সম্মাননা দেয়া হবে আয়করদাতাদের। এবারের মেলায় ১৫ লাখ করদাতাকে সেবা দেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সিলেটে আবুল মাল আব্দুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্সে সপ্তাহব্যাপী আয়কর মেলা শুরু হবে।এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, আটটি বিভাগীয় শহর, ৫৬টি জেলা ও ৮৭টি উপজেলাসহ সারাদেশে মোট ১৫১টি জায়গায় হবে এবারের আয়কর মেলা। আয়কর সম্পর্কে নাগরিকদের ধারণা দেয়া মেলার মূল উদ্দেশ্য। এ মেলার মাধ্যমে করজাল বৃদ্ধি ও বড় অংকের রাজস্ব আহরণেরও চিন্তা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এবারের মেলায় ১৫ লাখ করদাতাকে সেবা দেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, গেল অর্থবছরে প্রায় ১১ লাখ নতুন করদাতা যুক্ত হওয়ায় এবং সর্বশেষ আয়কর মেলার সফলতার পরিপ্রেক্ষিতে এবার আরও বড় পরিসরে মেলা আয়োজনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। গেল বছরের আয়কর মেলায় দুই লাখের মতো আয়কর রিটার্ন জমা পড়ে। এবার সংখ্যাটি ৫ লাখে উন্নীত হবে বলে আশা করছে এনবিআর।
মেলায় থাকছে যেসব সুবিধা : মেলায় নতুন করে আয়করের খাতায় নিবন্ধিত হতে অনলাইনে কর শনাক্তকরণ নম্বর বা ই-টিআইএন নেয়া যাবে। এছাড়া করদাতারা তাদের আয়কর রিটার্ন জমা দেয়া ও প্রযোজ্য করও পরিশোধ করতে পারবেন। তাছাড়া কর মেলায় সব ধরনের আয়করসেবা পাওয়া যাবে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্মাণাধীন রাজস্ব ভবনে আয়কর মেলায় প্রতিটি কর অঞ্চলের জন্য পৃথক বুথ থাকবে। একই সঙ্গে মহিলা, প্রতিবন্ধী, প্রবীণ ও মুক্তিযোদ্ধা করদাতাদের জন্যও পৃথক বুথ থাকবে। এছাড়া করদাতাদের রিটার্ন পূরণে সহায়তা করার জন্য থাকবে হেল্প ডেস্ক সেবা। মেলা শেষে ৮ নভেম্বর সেরা করদাতাদের সম্মাননা দেবে এনবিআর। এছাড়া আগামী ২২ নভেম্বর শুরু হবে কর সপ্তাহ। আর ৩০ নভেম্বর পালিত হবে জাতীয় আয়কর দিবস। ওই সময় পর্যন্ত আয়কর রিটার্ন জমা দেয়া যাবে। এরপর উপ-কর কমিশনারের কাছে সময় বৃদ্ধির আবেদন ও জরিমানা দিয়ে রিটার্ন জমা দেয়া যাবে।
এবারই প্রথমবারের মতো বেসরকারি চাকরিজীবীদের আয়কর রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। করযোগ্য আয় থাকুক বা না থাকুক, তাদের রিটার্ন জমা দিতে হবে। অন্যথায় ওই চাকরিজীবীকে দেয়া বেতন-ভাতাকে প্রতিষ্ঠানের খরচ হিসেবে দেখানো যাবে না। সরকারি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা ১৬ হাজার টাকার বেশি হলে তাদেরও রিটার্ন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
মেলায় অন্তত ৩ হাজার কোটি টাকা আয়কর আহরণ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন। এ প্রসঙ্গে এনবিআর সদস্য ও আয়কর মেলার সমন্বয়ক মোঃ আবদুর রাজ্জাক বলেন, আয়কর মেলায় রাজস্ব আহরণে সুনির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়নি। মেলার মূল উদ্দেশ্য হলো নতুন করদাতা বৃদ্ধি ও মানুষের মধ্যে কর সচেতনতা তৈরি করা। তবে আয়করদাতাদের সেবা দেয়ার মাধ্যমে বড় অংকের রাজস্ব আসবে বলে আমাদের বিশ্বাস। এখন পর্যন্ত ই-টিআইএন নিবন্ধন ৩০ লাখ ৮০ হাজার ছাড়িয়েছে। চলতি অর্থবছরে তা ৩৫ লাখে উন্নীত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যা মেলার মাধ্যমে অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে। এবারের মেলায় আগের যে কোনো বছরের চেয়ে বেশিসংখ্যক করদাতার সমাগম হবে।
চট্টগ্রাম বিভাগের মেলা অনুষ্ঠিত হবে চট্টগ্রামের জিইসি কনভেনশন সেন্টারে, সিলেট বিভাগের মেলা হবে সিলেটের মেন্দিগঞ্জে আবুল মাল আবদুল মুহিত কমপ্লেক্সে, রংপুরে হবে স্টেশন রোড জেলা পরিষদ কমিউনিটি সেন্টারে, খুলনায় হবে খুলনার বয়রায় কর ভবন প্রাঙ্গণে, রাজশাহীতে হবে জাফর ইমাম টেনিস কমপ্লেক্সে, বরিশালে হবে সদর রোড অশ্বিনী কুমার টাউন হলে এবং ময়মংসিংহে হবে টাউন হল মোড়ের জেলা ক্রীড়া সংস্থায়।
২০১০ সালে প্রথম আয়কর মেলা শুরু হয়। এর পর থেকে দিনে দিনে এটি জনপ্রিয়তা পেতে থাকে। ফলে একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ কর মেলায় এসেই রিটার্ন জমা দেয়া কিংবা টিআইএন গ্রহণ করে থাকেন।

শেয়ার করুন