শাবির ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির চেষ্টা: আটক ২: প্রশাসনের মামলা

জালিয়াতির অভিযোগে আটক দুই ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী-ছবি সিলেটের সকাল

শাবি প্রতিনিধি:শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের সম্মান ১ম বর্ষের ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে দুই ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। তারা হচ্ছে-টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর থানার চাপাইদ গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে মো: ছানোয়ার হোসেন (১৮) এবং গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানার বাধাইপাড়া গ্রামের বেলায়েত হোসেনের ছেলে মেহেদী হাসান (১৮)।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো: ইশফাকুল হোসেন বাদী হয়ে এ ঘটনায় কোতয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
শাবি রেজিস্ট্রার বলেন, দুটি ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসসহ দুই ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। অসদুপায় অবলম্বন করার কথা তারা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে।
কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: গৌসুল হোসেন মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকাল ২টায় ৪০মিনিটের দিকে ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষা চলাকালে নগরীর সুরমা মার্কেটস্থ লিডিং ইউনিভার্সিটির ৬০৪ নন্বর কক্ষ হতে ছানোয়ার হোসেন’কে (রোল নং- ১১২৪৯৪২) আটক করা হয়। এ কক্ষে পরিদর্শক হিসেবে ছিলেন শাবির পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো: আজিজুল বাতেন এবং লিডিং ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো: রাশেদুল আজিম। এছাড়া বিকাল ৩টায় ১০ মিনিটের দিকে সিলেটের বন্দর বাজারস্থ রাজা জি.সি হাইস্কুল কেন্দ্রের ৪ নম্বর কক্ষ থেকে মেহেদী হাসান’কে (রোল নম্বর- ১১২৯৮০১) আটক করা হয়। এসময় পরিদর্শক হিসেবে ছিলেন শাবির আইপি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আব্দুল মুকিত মোহাম্মদ মোকাদ্দেস এবং এ স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আব্দুল মুমিত।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, কানের মধ্যে ছোট ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস বসিয়ে সে বাইরে থেকে আসা কণ্ঠে প্রশ্ন ও উত্তর শুনে পরীক্ষা দিচ্ছিল। হঠাৎ করে তার কান থেকে ডিভাইসটি নিচে পড়ে যায়। এসময় কক্ষে কর্মরত শিক্ষক টের পেয়ে যান। এভাবে পরীক্ষায় উত্তর সরবরাহকারীকে ৫ লক্ষ টাকা দিতে হবে এমন চুক্তি করেন। তবে উত্তর সরবরাহকারী ব্যক্তি কোচিংয়ের পরিচিত একজন বলে তিনি জানান এ প্রতিবেদককে।

উদ্ধারকৃত ডিভাইস-সিলেটের সকাল

একই কক্ষে পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্বরত শিক্ষক অধ্যাপক ড. আব্দুল মুকিত মোহাম্মদ মোকাদ্দেস মেহেদী হাসানের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

দুই শিক্ষার্থী পরীক্ষা চলাকালে ডিভাইস ব্যবহার করে জালিয়াতি করার চেষ্টা করলে তাদেরকে দায়িত্বরত শিক্ষকরা আটক করেন বলে নিশ্চিত করেন ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্য সচিব সহযোগী অধ্যাপক মহিবুল আলম।

ভর্তি কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. আবদুল গনি জানান, পরীক্ষা কার্যক্রম সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এবং জালিয়াতি ও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে সহকারী কমিশনার মো: ইশতিয়াক ইমন ও শেখ জাহিদ হাসান প্রিন্সের নেতৃত্বে দুটি মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়।

সহকারী কমিশনার শেখ জাহিদ হাসান প্রিন্স বলেন, পরীক্ষা চলাকালে কোন ধরনের অসুবিধা না হওয়ায় প্রাথমিকভাবে কাউকে সাজা প্রদান করা হয়নি।

শাবির উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন , পুুলিশ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতায় ভর্তি পরীক্ষা অনেক সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

উল্লেখ্য, শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় শাবির ‘এ’ ইউনিট ১৭টি কেন্দ্রে এবং দুপুর আড়াইটায় ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ৩৫টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়। এবছর ভর্তি পরীক্ষায় প্রতিটি আসনের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দিতা করেন ৩৩জন শিক্ষার্থী। ‘এ’ ইউনিটে ৬১৩টি ও ‘বি’ ইউনিটে ৯৮০টিসহ সর্বমোট ১৫৯৩টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছে ৫২ হাজার ২৭৯জন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী। এছাড়া বিভিন্ন কোটায় ৯৬টি আসন সংরক্ষিত রয়েছে।

শেয়ার করুন