বিপিএলে স্বাগতিক সিলেটের উড়ন্ত সূচনা

মিজান আহমদ চৌধুরী,সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম থেকে : দীর্ঘদিন থেকে সিলেটে কোন বড় টুর্নামেন্ট হয়না। সেই ২০১৪ সালে টি-২০ বিশ্বকাপের পর আবারও বিপিএল ক্রিকেটের মাধ্যমে সিলেটে ফিরেছে বড় কোন ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। গ্যালারিতে সাকিব-মুশফির-গেইল-পোলার্ডদের খেলা দেখতে পারবে বলে দর্শকদের মনে বাড়তি উন্মাদনা ছিলো। স্বাগতিক সিলেটকে সমর্থন জানাতে দর্শকেরা ভিন্নি প্লে-কার্ড,ব্যানার ও ফেস্টুন দিয়ে আসে। ক্রিকেটে একটি বিষয় দেখা যায় যে দর্শকেরা সমর্থন সমর্থনে অনেক সময় দুর্বল দলও বড় দলে পরিণত হয়ে যায়। কারণ দর্শকেরা তাদেরকে যে সমর্থন দেন সেটি তাদের শক্তিতে পরিণত হয়ে থাকে। গতবারের চ্যাম্পিয়ন ঢাকা ডায়নামাইটস বিপক্ষে স্বাগতিক সিলেট সিক্সার্স ম্যাচের ও তেমনটি দেখা গেছে।ম্যাচে আন্ডার ডগ হিসেবে খেলতে নেমেছিলো সিলেট সিক্সার্স। তবে স্বাগতিক দর্শকদের সমর্থনে শনিবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাত্তা পায়নি সাকিব-পোলাডের টুর্নামেন্টে হট ফেবারিট দল ঢাকা ডায়নামাইটস। ঢাকার দেওয়া ১৩৭ রানের টার্গেট ৯ উইকেটও ২৬ বল হাতে রেখে অতিক্রম করে সিলেট সিক্সার্স। মূলত সিলেট সিক্সার্সের দুই ওপেনার শ্রীলংকান উপুল তারাঙ্গা ও ক্যারাবিয়ান হার্ড হিটার ব্যাটসম্যান অন্দ্রে ফ্লেচারে দুই ফিফটিতে ম্যাচ হেরে যায় ঢাকা।

এদিকে বিপিএলের পঞ্চম আসরে কোন আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ছিলো না। তবে ম্যাচ শুরুর আগে বিসিবির সভাপতি বেলুন উড়িয়ে বিপিএলের পঞ্চম আসরের উদ্বোদন করেন। এসময় তিনি উদ্বোধনী ম্যাচের দুদলের খেলোয়াড়দের সাথে পরিচয় পর্ব সাড়েন।
১৩৭ রানের জয়ের লক্ষে ব্যাট করতে নেমে সিলেট সিক্সার্সের ওপেনার উপুল তারাঙ্গা ও অন্দ্রে ফ্লেচার শুরু থেকে ব্যাট চালিয়ে খেলতে থাকেন।অল্প রানের টার্গেটের ম্যাচে মূলত পাওয়ার প্লেতে ৬ ওভারে ৫১ রান যোগ করে ঢাকাকে ম্যাচ থেকে ছিটকে ফেলে সিলেট।ম্যাচে সিলেট সিক্সার্সের দু ওপেনারই ফিফটি তুলে নেন। ৩৮ বলে ফিফটি করা আন্দ্রে ফ্লেচার শেষ পর্যন্ত জয়ের বন্দ থেকে অল্প দূরে থাকতে ৫১ বলে ৬৩ রান করে আউট হন।তার ইনিংসে ৫টি চারের মার ও ৩টি ছয়ের মার ছিলো।তবে অন্য ওপেনার উপুল তারাঙ্গা ৬৯ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। সঙ্গে জিতে নেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।
ঢাকা ডায়নামাইটস হয়ে একমাত্র উইকেট লাভ করেন আদিল রশিদ।

এর আগে ম্যাচে টস জিতে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বোলিং করা যে সঠিক সিদ্ধান্ত ছিলো তার প্রমাণ দিতে সিলেট সিক্সার্সের অধিনায়ক নাসির হোসেন নিজে প্রথম ওভারে বল তুলে নেন। প্রথম ওভারেই তিনি বাজিমাত করেন। প্রথম ওভারের শেষ বলেই তিনি শূণ্য রানে গত আসরের আলোচিত ব্যাটম্যান মেহেদি মারুফকে প্যাভিলিয়নে ফেরান। তবে প্রথম ওভারে উইকেট হারালেও ম্যাচে ব্যাটফুটে চলে যায়নি ঢাকা ডায়নামাইটস। তাদেরকে পথ দেখান অভিজ্ঞ সাঙ্গাকারা ও মারকুটে ওপেনার লুইস। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে এ দুজন ৫৪ রান যোগ করেন দলের হয়ে।তবে আবারও বল হাতে চমক নিয়ে আসেন অধিনায়ক নাসির। ব্যাক্তিগত ২৬ রানে নাসিরের বলে আবুল হাসানের হাতে ক্যাচ দিয়ে লুইস প্যাভিলিয়নে ফেরেন। এর পর সাঙ্গা ৩২ রানে প্লাকেটের শিকারে পরিণত হতে না হতে মুসাদ্দেক ৬ রানে সাজঘরে ফিরলে ৭৬ রানে ৪ উইকেটে পরিণত হয় ঢাকা ডায়নামাইটস। তবে দলকে বিপর্যয়ের মুখে ফেলতে দেননি বিশ্ব সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। তিনি যতক্ষণ ক্রিজে ছিলেন ব্যাট চালিয়ে খেলেছেন। ২১ বলে ২৩ রান করে প্লাঙ্কেটির বলে তিনি সাব্বিরের হাতে ক্যাড দেন। শেষ দিকে দক্ষিন আফ্রিকার ব্যাটসম্যান ডালপর্ট ও সমানে ব্যাট চালিয়ে খেলেছেন।১৩ বলে ২০ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংসে বিশাল একটা ছয়ের মার ছিলো। সিলেট সিক্সার্সের হয়ে নাসির,আবুল হাসার ও প্লাঙ্কেট দুটি করে উইকেট লাভ করেন।

 

শেয়ার করুন