বিচারক, বিচারব্যবস্থা ও গণতন্ত্র

আবদুল মান্নান

বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা স্বীয় পদ থেকে পদত্যাগের পরও তাঁকে নিয়ে আলোচনা থেমে নেই। এক ঘরানার মতে, তিনি পাকিস্তানের বিচারপতিদের মতো বাংলাদেশে একটি জুডিশিয়াল ক্যু করে বর্তমান সরকারের পতন ঘটাতে চেয়েছিলেন এবং তার জন্য তিনি বিএনপির মূল নেতা, আইনের দৃষ্টিতে পলাতক, তারেক রহমানের সঙ্গে বেশ কিছুদিন ধরেই যোগাযোগ রাখছিলেন।

এই ঘরানার মতে, তাঁর এই ষড়যন্ত্র ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে সরকার দুর্নীতির কিছু বানোয়াট অভিযোগ এনে তাঁকে পদত্যাগে বাধ্য করেছে। বাংলাদেশে বর্তমানে মহামারি আকারে অনলাইন নিউজ পোর্টালের প্রাদুর্ভাব হয়েছে। তারা নিয়মিত বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে গুজব ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে বিরামহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এসব পোর্টালের বেশির ভাগই বিদেশ থেকে আপলোড করা হয়। তেমন একটি পোর্টাল ‘নবযুগ অরগে’ প্রকাশিত এক সংবাদ বলছে, আসলে সরকার বিচারপতি সিনহার কোনো কোনো নিকটাত্মীয়কে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে পদত্যাগে বাধ্য করেছে। বিএনপি নেতারা মনে করেন, সিনহার পদত্যাগের কারণে দেশের বিচারব্যবস্থায় ধস নেমেছে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম জিয়া বলেই দিয়েছেন, শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ‘ন্যায়বিচারের পরিবর্তে এখন নয়-বিচার চলছে। ’ তাঁর মতে, তাঁকে আগামী নির্বাচনে বিরত রাখতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা দ্রুতগতিতে চলছে। তিনি ভুলে গেছেন এই মামলা ৯ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলছে। তিনি আদালত থেকে সময় নিয়েছেন কম করে হলেও ৫০ বার। তাঁর দলের নেতা-নেত্রীদের মতে, তিনি যাতে ন্যায়বিচার না পান সে জন্যই সিনহাকে সরিয়ে দেওয়া হলো।

সুপ্রিম কোর্টের সাবেক রেজিস্ট্রার ইকতেদার আহমেদ বলেছেন, ‘সিনহাকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, বিচারে পক্ষপাত ও অর্থপাচারের অভিযোগ উঠলে তিনি ২০০৮ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের বিচারপতি থাকাকালে রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগের অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছিলেন, যা থেকে পরে তিনি সরে আসেন। কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মন্তব্য করেছেন, বিচারপতি সিনহা যদি এতই দুর্নীতিপরায়ণ হন তাহলে তাঁকে কোন যুক্তিতে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করা হলো? সার্বিক বিচারে এটা মনে হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে, বিচারপতি সিনহা বিভিন্ন বিষয়ে কারণে-অকারণে প্রকাশ্যে কথা বলে মিডিয়ায় থাকতে পছন্দ করেন। তবে বিচারপতি সিনহাকে নিয়ে সর্বমহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয় সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হওয়ার পর। ষোড়শ সংশোধনীতে উচ্চ আদালতের বিচারক অপসারণের বিষয়টা সংসদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এই রায়ের পর তার সমালোচনা হতে পারে। এমন একটি রায় দেওয়া আদালতের এখতিয়ার। তবে এই রায়ে এমন কিছু মন্তব্য আছে, যা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের চেতনা ও বাস্তবতার পরিপন্থী। এসব মন্তব্য নিয়ে সরকার ও বিভিন্ন মহলে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়। আবার এসব মন্তব্যের পক্ষে বিএনপি ও তাদের সমর্থক সুধীসমাজ বেশ সোচ্চার হয়।

গণমাধ্যমে প্রচারিত হয় বিচারপতি সিনহা বিভিন্ন সময় আয়কর রিটার্নে অসত্য তথ্য দিয়ে রাষ্ট্রের ক্ষতি করেছেন। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে আরো বেশ কিছু দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপিত হয়, যা তিনি কখনো খণ্ডন করেননি। এসব সমালোচনার মুখে বিচারপতি দুই দফায় দীর্ঘ ছুটি নেন এবং সব শেষে তিনি সিঙ্গাপুর থেকে তাঁর পদ থেকে পদত্যাগপত্র প্রেরণ করেন। দু-একজন প্রশ্ন তুলেছেন, যাঁর বিরুদ্ধে এমন সব দুর্নীতির অভিযোগ, তেমন একজন মানুষকে কেন দেশের প্রধান বিচারপতি করা হলো? প্রশ্নটি যথার্থ এবং তার একটা সঠিক উত্তরও জাতি আশা করে। শেখ হাসিনা যখনই সরকার গঠন করেছেন তখনই তিনি রাষ্ট্রের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে হয় কোনো মহিলা অথবা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষকে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। কেউ কেউ প্রধানমন্ত্রীর এমন চিন্তাধারার সুযোগ নিয়ে অযোগ্য লোকজনকেই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিতে সাহায্য করেছেন। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সরকার, প্রধানমন্ত্রীর সরল বিশ্বাস প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এসব ব্যক্তিই দলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছেন এবং এখনো করছেন।

সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে থেকে বাংলাদেশের উচ্চ আদালতে অনেক বিজ্ঞ বিচারক দায়িত্ব পালন করেছেন, যাঁদের মধ্যে বিচারপতি ইমাম হোসেন, বিচারপতি এস এম মোরশেদ, বিচারপতি আবদুল হামিদ চৌধুরী, বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী, বিচারপতি হাবিবুর রহমান, বিচারপতি খায়রুল হক উল্লেখযোগ্য। বিচারপতি এস এম মোরশেদ অত্যন্ত সাহসী বিচারপতি ছিলেন এবং সামরিক সরকারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সরকারের বিরুদ্ধে অনেক রায় দিয়েছেন। আইয়ুব খানের শাসনামলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সমাবর্তন বিক্ষোভরত ছাত্রদের অন্দোলনের মুখে পণ্ড হয়ে গিয়েছিল। সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করার কথা ছিল পূর্ব বাংলার গভর্নর মোনেম খাঁর। ছাত্ররা সেই সমাবর্তনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াল। অনুষ্ঠান চলাকালে তা তারা ভণ্ডুল করে দেয়। এই অপরাধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েকজন ছাত্রের সনদ বাতিল করে। এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ছাত্ররা হাইকোর্টে রিট করলে বিচারপতি এস এম মোরশেদের বেঞ্চ ছাত্রদের পক্ষে রায় দেন। বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা রুজু করা হলে বিচারপতি মোরশেদ ১৯৬৭ সালের শেষের দিকে প্রধান বিচারপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে এই ষড়যন্ত্র মামলার আইনজীবীদের সহায়তা করেন। বিচারপতি হাবিবুর রহমান ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন। বেগম জিয়ার মনোনীত রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাস জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে এক সামরিক অভ্যুত্থানের চেষ্টা চালিয়ে সেই নির্বাচন ভণ্ডুল করার পরিকল্পনা করলে বিচারপতি হাবিবুর রহমানের বিচক্ষণতায় তা ভেস্তে যায়।

সব বিচারপতি নিজের সুনাম সব সময় অক্ষুণ্ন রাখতে পারেননি। বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের দায়িত্বে ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি বিদেশ সফরে ছিলেন। বিদেশে অবস্থানকালে তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত সৃষ্টি করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। যুদ্ধ শেষে তিনি দেশে ফিরে এলে ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু তাঁকে স্বাধীন বাংলাদেশের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি মনোনীত করেন। কিন্তু সেই বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর খন্দকার মোশতাকের ক্যাবিনেটে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদে যোগদান করেন।

জেনারেল ইয়াহিয়া খান বেলুচিস্তানের কসাই নামে খ্যাত জেনারেল টিক্কা খানকে ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর নিয়োগ করেন। প্রধান বিচারপতি বি এ সিদ্দিকী তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করাতে অস্বীকার করেন। কারণ তখন পূর্ব বাংলার শাসনকার্য পরিচালিত হচ্ছিল বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে। সেই বিচারপতি সিদ্দিকী এপ্রিল মাসের ৯ তারিখে টিক্কা খানকে শপথবাক্য পাঠ করান। হয়তো পদত্যাগ করার মতো সাহসের তাঁর অভাব ছিল। জেনারেল জিয়া ক্ষমতা দখল করে বিচারপিত সিদ্দিকীকে জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি নিয়োগ করেন। বিচারপতি সাহাবুদ্দীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে ১৯৯১ সালে ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে শেখ হাসিনা সবাইকে অবাক করে দিয়ে বিচারপতি সাহাবুদ্দীনকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনীত করেন। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে ও পরে জামায়াত-বিএনপি জোট আওয়ামী লীগ সমর্থক, নেতাকর্মী ও দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর যে ভয়াবহ হত্যা, লুণ্ঠন আর ধর্ষণ শুরু করেছিল তা বন্ধ করতে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছিলেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সিনিয়র শিক্ষক ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায়ে দণ্ডিত হয়ে চাকরি থেকে অপসারিত হলে চ্যান্সেলর হিসেবে সেই দুর্নীতিপরায়ণ শিক্ষককে আবার চাকরিতে যোগদান করারও সুযোগ করে দেন তিনি।

বিচারপতি সিনহার পদত্যাগকে কেন্দ্র করে সমালোচকরা বলেছেন, এমন ঘটনা নজিরবিহীন। এ ধরনের মন্তব্য শুধু নাদানরাই করতে পারেন। জিয়া ১৯৭৯ সালের ৩ মার্চ বিচারপতি সিদ্দিক আহম্মেদ চৌধুরী ও বিচারপতি আবদুল মমিত চৌধুরীকে অপসারণ করেন। বিচারপতি আহসান উদ্দিন চৌধুরী, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হুসাইন, বিচারপতি রুহুল ইসলাম, বিচারপতি দেবেশ ভট্টাচার্য—সবাই পদ হারান জিয়ার শাসনামলে। এরশাদ প্রধান বিচারপতি কামালউদ্দিন হোসেনকে অপসারণ করেন। তাঁর আমলে আরো চারজন বিচারপতি চাকরি হারান। দুই সেনাশাসকই বিচারপতিদের অপসারণের জন্য অবসারকালীন বয়স পরিবর্তনের আশ্রয় নেন। ১৯৯২ সালের ২৮ জানুয়ারি বেগম জিয়া বিচারপতি আবদুল হাসিবকে অপসারণের মাধ্যমে তাঁর বিচারপতি অপসারণ কর্মসূচি শুরু করেন। তাঁর আমলে নানা অজুহাতে উচ্চ আদালতে প্রায় ৩০ জন বিচারক অপসারিত হন। আওয়ামী লীগের শাসনকালে কোনো বিচারপতিকে অপসারণ করা হয়নি বরং কয়েকজন অপসারিত বিচারপতিকে আবার নিয়োগ দিয়ে তাঁদের চাকরি স্থায়ী করা হয়েছে।

এই উপমহাদেশে গণতন্ত্র ধ্বংসের ইতিহাসের সূত্রপাত করেছিলেন পাকিস্তানের দ্বিতীয় প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ মুনির। জিন্নাহর মৃত্যুর পর পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল হন কূটচাল আর ষড়যন্ত্রে বিশেষজ্ঞ আইসিএস অফিসার মালিক গোলাম মোহাম্মদ। গোলাম মোহাম্মদ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানের ক্যাবিনেটে অর্থমন্ত্রী ছিলেন। লিয়াকত আলী খান আততায়ীর হাতে নিহত হওয়ার পর খাজা নাজিমুদ্দিন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন। লিয়াকত আলী খানই গোলাম মোহাম্মদকে গভর্নর জেনারেল নিয়োগ করেন। এই সময় পাকিস্তানের গণপরিষদের প্রেসিডেন্ট (স্পিকার) ছিলেন ফরিদপুরের মওলানা তমিজউদ্দিন খান। তিনি জিন্নাহর মৃত্যুর পর স্পিকার হয়েছিলেন। তিনি অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন মনের মানুষ ছিলেন। গণপরিষদ এই সময় পাকিস্তানের সংবিধান প্রণয়নে ব্যস্ত ছিল। পাকিস্তানের সামরিক-বেসামরিক আমলারা গোলাম মোহাম্মদকে বোঝালেন দেশে সাংবিধানিক শাসন শুরু হলে তাঁদের ক্ষমতা খর্ব হয়ে পড়বে। গোলাম মোহাম্মদ সব নিয়ম-রীতি ভঙ্গ করে কলমের এক খোঁচায় গণপরিষদ ভেঙে দিলেন এই বলে যে এই পরিষদের সংবিধান রচনা করার কোনো এখতিয়ার নেই। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মওলানা তমিজউদ্দিন খান সিন্ধু হাইকোর্টে মামলা করলে আদালত তাঁর পক্ষে রায় দেন। কেন্দ্র সরকার এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করে এবং লন্ডন থেকে বেশ কয়েকজন নামকরা আইনজ্ঞ নিয়ে আসে, যা তমিজউদ্দিনের পক্ষে সম্ভব ছিল না। উচ্চ আদালত (সুপ্রিম কোর্ট) কেন্দ্র সরকারের পক্ষে রায় দিয়ে পাকিস্তানে গণতন্ত্রের সম্ভাবনাকে চিরদিনের মতো শেষ করে দেন। সেই আদালতের প্রধান ছিলেন প্রধান বিচারপতি মোহাম্মদ মুনির। আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের একমাত্র দ্বিমত পোষণকারী বিচারপতি ছিলেন বিচারপতি এলভিন কর্নেলিয়াস। পরবর্তীকালে পাকিস্তান ও বাংলাদেশে সব অগণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে বৈধতা দিয়েছেন বিচারপতিরা। অথচ বিচারপতিরা সংবিধানের পবিত্রতা সংরক্ষণ করার শপথ নেন।

উচ্চ আদালত মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার শেষ ভরসা। এই আদালত সংবিধানের রক্ষক এবং গণতন্ত্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। কোনো একজন বিচারপতির কারণে এই স্তম্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হলে গণতন্ত্রের ভিতই নড়বড়ে হয়ে পড়ে। বিচারপতিরা সমাজের সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তি। তাঁদের সম্মান রক্ষা করার দায়িত্ব প্রাথমিকভাবে নিজেদের নিতে হবে। বিচারপতি সিনহাকে ইতিহাস কিভাবে মূল্যায়ন করবে তা ভবিষ্যতে জানা যাবে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিতে হলে তাঁকে আইনের মুখোমুখি করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। দেশটি ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে। এই দেশের সংবিধান এই ৩০ লাখ শহীদের রক্ত দিয়ে লেখা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সবাইকেই গণতন্ত্রের ধারার প্রতি সম্মান দেখানোর কোনো বিকল্প নেই। একজন ব্যক্তির অসদাচরণ গণতন্ত্রকে ব্যাহত করতে পারে না।

লেখক : বিশ্লেষক ও গবেষক

সূত্র: কালের কন্ঠ

শেয়ার করুন