‘বাহুবলি’ সিনেমার সেট এখন পর্যটন কেন্দ্র

 

সিলেটের সকাল ডেস্ক :: যারা থ্রিলার পছন্দ করেন তাদের জন্য বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্র সাইকো’র সেই পুরনো বাড়ির সেটটি হলিউডের অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ। এটা দেখতে প্রতিদিন হাজারো মানুষের আগমন ঘটে। কেননা বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এটি একটি অনন্য নিদর্শন। যা ‘সাইকো’র নাম মনে এলেই পুরো ছবিটা আর বাড়িটির কথা মনে করিয়ে দেয়। আর এদিকে ভারতীয় চলচ্চিত্রে ইতিহাস সৃষ্টিকারী ‘বাহুবলি’র সেটটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে সিনেমা প্রেমীদের কাছে।

হাজার কোটি রুপি খরচ করে বানানো সেই সিনেমার সেটটি যে বিশাল হবে তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তাই নিজের চোখে সেই সেটটি দেখে নিতে প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছেন পর্যটকরা। অবশেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে `বাহুবলি’র সেটটিকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

ভারতের হায়দ্রাবাদের রামোজি ফিল্ম সিটিতে প্রায় ১০০ একর জায়গা জুড়ে গড়ে উঠেছে ‘বাহুবলি’র সেট। এটি তৈরি করেছিলেন ভারতীয় চলচ্চিত্রে জাতীয় পুরস্কার পাওয়া শিল্পী সবু সিরিল। কল্পনার রঙ ও মনের মাধুর্য মিশিয়ে তিনি সাজিয়েছিলেন সিনেমার সেই মহিষমতি রাজ্যের প্রাচুর্য।

রামোজির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে মহিষমতি রাজ্যের প্রাচুর্য এখন খুলে দেওয়া হয়েছে দর্শনার্থীদের জন্যে। তবে জনপ্রতি দুই ধরণের টিকিটের দাম ধরা হয়েছে ১,২৫০ রুপি এবং ২,৩৪৯ রুপি। প্রায় ১,০০০ একরের এই ফিল্ম সিটির অন্যান্য নিদর্শনও দেখা যাবে সেই টিকিটে।

শিল্পী সাবু সিরিলের সহকর্মীরা এই সেট বানাতে ১৫শ মতো স্কেচ এঁকেছিলেন। দুই ভাগে সেটটি তৈরি করতে খরচ হয়েছিলো ৬০ কোটি রুপির বেশি। এই সেটটি চলচ্চিত্র বিভাগের শিক্ষার্থী এবং সিনেমা ভক্তরা ছাড়াও সাধারণ দর্শনার্থীদের কাছে বেশ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। এখন এখানে অধিকাংশ পর্যটকই আসছেন ‘বাহুবলি’র সেট দেখতে।

সিনেমাটির প্রযোজক শোবু ইয়ারলাগাদ্দা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘রামোজির কর্তাব্যক্তিরা আমাদের কাছে এমন একটি প্রস্তাব নিয়ে এলে আমরা সানন্দে তা গ্রহণ করি। এই সেটটি তৈরি করতে বেশ কয়েক মাস লেগেছিলো’।

দর্শনার্থীদের এই টাকার কোন ভাগ না পেয়েও খুশি ‘বাহুবলি’-র সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। রামোজি কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তে খুশি শিল্পী সবুও। তার মন্তব্য,‘এই স্টুডিওতে আমরা নিয়মিত কাজ করি। তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক যেকোনো আর্থিক লেনদেনের ঊর্ধ্বে।’

উল্লেখ্য, পরিচালক এস এস রাজামৌলির ঐতিহাসিক ঘটনা-ভিত্তিক অ্যাকশন ছবি ‘বাহুবলি’-র দুটি কিস্তিই ভারত ও এর বাইরে ব্যবসা সফল হয়। তেলেগু ও তামিল ভাষার এই ছবিটির দ্বিতীয় কিস্তি বা বাহুবলি-২ প্রথম ভারতীয় চলচ্চিত্র হিসেবে এক হাজার কোটি রুপির বেশি আয় করে।

শেয়ার করুন